Published : 14 Nov 2024, 11:35 PM
দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে পণ্যজট কমাতে ও বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে নির্মিত কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল উদ্বোধন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন বেনাপোল স্থলবন্দরে নির্মিত কার্গো ভেহিক্যাল টার্মিনাল উদ্বোধন ও বন্দরের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন নৌ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ারা বেগম, বন্দরের চেয়ারম্যান মানজারুল মান্নান (অতিরিক্ত সচিব), যশোরের ডিসি মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, বিজিবি দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের রিজিওন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন কবির, বেনাপোল কাস্টমসের কমিশনার মো. কামরুজ্জামান, শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বেনাপোল পৌর প্রশাসক, রাজীব হাসান, শার্শা উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা নুসরাত ফারিয়া, বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক মামুন তরফদার, বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামসুর রহমান।
এম শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ভারত থেকে আমদানির পণ্য বোঝায় ট্রাকগুলো এই কার্গো ইয়ার্ডে রাখা হবে। সাথে সাথে ভারতে রপ্তানিমুখি বাংলাদেশি পণ্য বোঝাই ট্রাকও এ ইয়ার্ডে অবস্থান করবে।
“তবে ভারতীয় পণ্য বোঝায় আমদানির ট্রাকের চেয়ে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির ট্রাকগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এখানে অবস্থান করতে পারবে।”
পরে তিনি বন্দর অডিটরিয়ামে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বন্দর ব্যবহারকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। বিকাল ৪টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

একসঙ্গে এই টার্মিনালে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ পণ্যবাহী ট্রাক রাখা যাবে। ফলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমে আসবে, সীমান্ত বাণিজ্য ও রাজস্ব আয় বাড়বে বলে মনে করেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।
৩২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে এই টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে বলে এই প্রকল্পের পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হাসান আলি জানান।
কলকাতার সঙ্গে সড়ক ও রেলপথের যোগাযোগ সহজ হওয়ায় যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বাণিজ্য বেড়েছে বহুগুণ।
ফলে পাল্লা দিয়ে বেড়ে যায় পণ্য পরিবহনে ভোগান্তি। আর এই সংকট থেকে উত্তরণে ও স্থলবন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বেনাপোলে কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান বন্দর ব্যবহারকারীরা।
বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, “প্রায় ২৪ একর জমির উপর ৩২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে এই কার্গো ভেহিকেল টার্মিনালটি।
“এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণ বাবদ ১০৯ কোটি এবং নির্মাণ কাজ বাবদ ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। জমি অধিগ্রহণ করে এ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়।”
মশিউর আরও বলেন, “এই টার্মিনালে এক হাজার ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ ট্রাক ধারণক্ষমতা রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় পার্কিং ইয়ার্ড, কার্গো ভবন, বন্দর সেবা ভবন, ইউটিলিটি ভবন, ফায়ার স্টেশন, আধুনিক টয়লেট কমপ্লেক্স, ওয়েব্রিজ স্কেলসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে।

টার্মিনালটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে। এটি চালু হওয়ার ফলে বন্দরের দীর্ঘ দিনের যানজট হ্রাস পাবে এবং বন্দরের গতিশীলতা বাড়বে।”
বাংলাদেশ-ভারত চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ডিরেক্টর মতিয়ার রহমান বলেন, “যানজট নিরসনে কার্গো ভেহিকেল টার্মিনাল নির্মাণ কাজটি শেষ হয়েছে। এখানে যেসব অবকাঠামো বানানো হয়েছে, সেগুলো যুগোপযোগী ও মানসম্পন্ন হয়েছে। এই টার্মিনাল উদ্বোধন হওয়াতে নিশ্চয়ই পণ্যজট কমবে, ভোগান্তি হ্রাস পাবে। আমাদের রাজস্ব আয়ও বাড়বে।”
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামছুর রহমান বলেন, “প্রতিদিন ভারত থেকে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার মেট্রিকটন পণ্য আমদানি হয়। ফলে জায়গা সংকটে অনেক পণ্য রাখা হয় খোলা আকাশের নিচে। এছাড়া ভারতীয় ট্রাকগুলো পণ্য নিয়ে দিনের পর দিন বসে থাকে বন্দরে। জায়গা না থাকায় আনলোড করতে সমস্যা হয়।”
টার্মিনালটি চালু হওয়াতে এ সমস্যা অনেকটা কেটে যাওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব আয় অনেকাংশে বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন তিনি।