Published : 03 Sep 2025, 03:26 PM
অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ। ২৪ ঘণ্টা পর বুধবার দুপুরে খুলে দেওয়া হয়েছে কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের তালা।
তবে সিন্ডিকেট সভায় দাবি আদায়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আশায় আপাতত বন্ধ রয়েছে আন্দোলন। দুপুরে সিন্ডিকেট সভা হওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার রাতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাঁচ ঘণ্টার আলোচনায় হল ছাড়ার নির্দেশ প্রত্যাহার, আগামী সাত দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সিন্ডিকেট সভায় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি এ এইচ এম হিমেল বলেন, “আজ সিন্ডিকেট সভা ডেকে হল ছাড়ার নোটিস প্রত্যাহার এবং আগামী সাত দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে। যার কারণে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।
“তবে একক ‘কম্বাইন্ড ডিগ্রির’ দাবির ব্যাপারে যদি সুরাহা না হয় তাহলে আন্দোলন আবারও শুরু হবে। আমরা এখন সিন্ডিকেট সভার দিকে তাকিয়ে আছি। আমরা চাই একক ডিগ্রি, বহিরাগতের শাস্তি নিশ্চিত, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা যেন হয়রানির শিকার না হয় তার নিশ্চয়তা।”
আন্দোলন স্থগিত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও দুই দিন পর সচল হয়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল প্রশাসনিক কাজ শুরু হয়েছে। সকাল সোয়া ১০টার দিকে প্রশাসনিক কার্যালয়ে এসেছেন উপাচার্য।

তবে দুপুর পর্যন্ত তালাবদ্ধ ছিল কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে এক শিক্ষার্থী তালা খুলে দিলে স্বাভাবিক হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক কার্যক্রম।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, “সিন্ডিকেট সভার আগে আমরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আরেকটু বসে কথা বলতে চাচ্ছি। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছে। তাদের বিষয়গুলো আগে স্পষ্ট হলে সভায় কথা বলতে সুবিধা হবে। তবে সিন্ডিকেট সভা আজকেই হবে।”
ভেটেরিনারি অনুষদ এবং পশুপালন অনুষদের শিক্ষার্থীদের প্রায় এক মাস ধরে কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবিতে আন্দোলন চলছিল। দুই অনুষদের ডিগ্রিকে একীভূত করে একটি সমন্বিত ডিগ্রি দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে রোববার অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় দুপুর ১টার দিকে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে উপাচার্যসহ প্রায় ২০০ শিক্ষক-কর্মকর্তাকে আটকে রেখে তালা মেরে দেন শিক্ষার্থীরা।
পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের পাশ থেকে ২৫০-৩০০ জন বহিরাগত দেশি অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে। শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লে বহিরাগতরা তালা ভেঙে দিলে অবরুদ্ধ শিক্ষকরা বেরিয়ে যায়। এসময় সাংবাদিক শিক্ষার্থীসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়।
এমন পরিস্থিতিতে রোববার রাত সাড়ে ৯টায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সব ছাত্র-ছাত্রীকে সোমবার সকাল ৯টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করে পরদিন হল না ছেড়ে আন্দোলন চালিয়ে যেতে থাকেন শিক্ষার্থীরা।
আরও পড়ুন:
হল ছাড়ার নির্দেশনা প্রত্যাহারে আন্দোলন থেকে সরলেন বাকৃবির শিক্ষার্থীরা
বাকৃবির সমস্যা সমাধানে বসছে প্রশাসন ও আন্দোলনকারীরা
বাকৃবি: রেল অবরোধের পর ব্যাংক-ট্রেজারি অফিসে তালা শিক্ষার্থীদের
আন্দোলনে অনড় শিক্ষার্থীরা চান উপাচার্যের ক্ষমা, থমথমে বাকৃবি