Published : 01 Jan 2026, 06:42 PM
সুন্দরবনে শিলাসহ ১৪ প্রজাতির কাঁকড়ার প্রজনন হয়ে থাকে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম।
সুন্দরবনের নদী-খালে কাঁকড়ার প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার থেকে দুই মাসের জন্য জলজ এ প্রাণীটি ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ।
প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া রক্ষা করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; যা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছেন খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ।
তিনি বলেন, প্রতিবছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে সুন্দরবনের নদী-খালে ডিম পাড়ে কাঁকড়া। সেই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হয়। এ সময়ে কাঁকড়া অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় থাকে। কাঁকড়ার প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
বন সংরক্ষক বলেন, যদি এ সময় কাঁকড়া ধরা হয়, পুরো বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। তাই প্রতিবছরের মত এবারও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ সময় কাঁকড়া ধরার অনুমতিপত্র দেওয়া বন্ধ থাকায় গভীর বনাঞ্চলে অবস্থান করা জেলেরা লোকালয়ে ফিরেছেন।
তবে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, প্রজনন মৌসুমেও কয়েকটি চক্র নানা কৌশলে সুন্দরবনে ঢুকে কাঁকড়া ধরে। একশ্রেণির অসাধু বনরক্ষী ও কর্মকর্তাদের সহায়তায় চক্রটি কাঁকড়া ধরা অব্যাহত রাখে। এতে সাধারণ জেলেরা যেমন আর্থিক সঙ্কটে পড়েন, তেমনি কাঁকড়া ধরা বন্ধ রাখার আসল উদ্দেশে ব্যাহত হয়।
পাশাপাশি কাঁকড়ার বংশবিস্তার এবং সুন্দরবনের জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা পরিবেশবিদদের।
তারা বলছেন, সুন্দরবনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। তবে সেটি সুন্দরবনের ক্ষতি করে নয়। সাম্প্রতিক সময়ে বন কর্মকর্তা-রক্ষীদের ‘ঘুষ গ্রহণে’ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে সুন্দরবন। প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া রক্ষা করা না গেলে এর বংশবিস্তার লোপ পাবে এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্রের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে।
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুন্দরবনের ছয় হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশ অংশে জলভাগের পরিমাণ এক হাজার ৮৭৪ দশমিক এক বর্গকিলোমিটার; যা পুরো সুন্দরবনের আয়তনের ৩১ দশমিক ১৫ শতাংশ।
সুন্দরবনের জলভাগে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি ও ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া আছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি কাঁকড়ার প্রজনন মৌসুম হওয়ায় ৫৯ দিনের জন্য জেলেদের সুন্দরবনে প্রবেশ করে কাঁকড়া ধরার অনুমতি বন্ধ রাখে বন বিভাগ।
পশ্চিম সুন্দরবন বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি কাঁকড়া ডিম পাড়ে। ডিমওয়ালা কাঁকড়া ক্ষুধার্ত থাকে, তাই সহজে ধরা যায়। এ সময় শিকার না করলে পরের বছর বেশি কাঁকড়া উৎপাদন সম্ভব।
সুন্দরবনে টহল জোরদার করা হয়েছে; কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে বন আইনের আওতায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
হাছানুর রহমান বলেন, কাঁকড়া শুধু অর্থনৈতিক নয়, সুন্দরবনের খাদ্য-শৃঙ্খল রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য স্থানীয় জনগণ, জেলে ও ব্যবসায়ীদের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, সুন্দরবনের সম্পদ আহরণের জন্য ১২ হাজার নৌকার অনুমতিপত্র দেওয়া হয়; যার এক-তৃতীয়াংশ কাঁকড়া ধরার জন্য। তবে প্রজনন মৌসুমে কাঁকড়া ধরার অনুমতি বন্ধ থাকলেও মাছ ধরার অনুমতি বহাল থাকে।