Published : 28 Dec 2025, 02:47 PM
“টিনের ছাপড়ায় থাকি সারা রাত শীত বৃষ্টির মতো পড়ে। বাইর হলে শরীর ঠক ঠক করি কাঁপে। বাতাস কি যে ঠান্ডা রে বাবা।
“গরম কাপড় চোপর নাই। কাইয়ো কম্বল দিলো না। খাবার কষ্ট সহ্য করা যায় ঠান্ডা তো সয়না।” কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রাম রেলওয়ে বস্তির সালেহা বেওয়া।
কুড়িগ্রামে হিমেল হাওয়ার দাপটে জেঁকে বসেছে শীত। তাপমাত্রা কমতে থাকায় বেড়েছে তীব্রতা। টানা পাঁচদিন থেকে সারাদিন সূর্যের দেখা নেই। প্রকৃতি কুয়াশার চাদরে ঢাকা।
রোববার সকালেও কুয়াশা বৃষ্টির মতো ঝরছিল। খেটে খাওয়া মানুষরা মাঠে কাজ করতে পারছেন না। রিকশা চালকরা ঝুঁকি নিয়ে কাজে বের হচ্ছেন। জনজীবন ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শীত নিবারণে অসহায়-দুঃস্থ মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে উষ্ণতা নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এ দিন সকাল ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানান রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।

কুড়িগ্রাম কালে মৌজার আমজাদ হোসেন বলছিলেন, “ঠান্ডা আর কুয়াশার কারণে বোর বীজতলা লাল বর্ণ ধারণ করেছে। কনকনে ঠান্ডার কারণে কৃষি শ্রমিক মাঠে কাজ করতে পারছে না। ফলে কৃষি কাজ বিঘ্নত হচ্ছে।
“সন্ধ্যা পর থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারদিক। এরপরও সারদিন কুয়াশাচ্ছন্ন প্রকৃতিতে সূর্যের আলো নেই। ফলে শীতের তীব্রতায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষজন।”

বুড়িগ্রামে দিনের অধিকাংশ সময় সূর্য মেঘে ঢাকা থাকছে। সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হতে হচ্ছে দূরপাল্লার যান গুলো দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে।
শীতের কারণে বেশি ভোাগান্তিতে পড়েছেন জেলার ১৬টি নদনদী তীরবর্তী চার শতাধিক চর ও দ্বীপ চরের হত দরিদ্র মানুষ। হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে।

অটোরিকশা চালক দিলাল বলেন, “কনকনে ঠান্ডা বাতাসে রিকশা চালানো খুবই কষ্টের; জান বের হয়ে যায়। পাঁচ জনের সংসার চালাতে বাধ্য হয়ে ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে রিকশা নিয়ে বের হই।”
“তারপরও যাত্রী খুব একটা পাওয়া যায়না। শহরে লোকসমাগমও কম। সন্ধ্যা নামলে তো কুয়াশায় সামনের কিছুই দেখা যায় না। অনেকটা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। প্রায়ই ছোট খাটো দুর্ঘটনা ঘটছে।”
কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার কৃষি শ্রমিক আজাদ ও কাচুয়া বলছিলেন, তারা শীতের কারণে গত তিনদিন থেকে কাজে যেতে পারেননি। শীতের কারণে হাতে কাজ নেই। প্রচুর অর্থ সংকটে রয়েছেন।
একই এলাকার জলিল বলেন, “টানা পাঁচ দিন থেকে এ জনপদে সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। এক ঠান্ডায় কাজ করা যায় না, তার উপর ১১-১২ পর্যন্ত কুয়াশা জড়ানো প্রকৃতিতে কাজ কম হবে। তাই গৃহস্থও আমাদের কাজে নেয় না।”