Published : 07 Jan 2026, 03:14 PM
শীতের ছুটি শেষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-শাকসুর নির্বাচনের প্রচার পুরোদমে শুরু হয়েছে।
গত ১৭ ডিসেম্বর শাকসু নির্বাচনের হওয়ার কথা থাকলে শীতের ছুটিতে ভোটার উপস্থিতির কম হওয়ার আশঙ্কায় গত ২০ জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখে নির্ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শীতের ছুটিতে প্রার্থীরা অনলাইনের তাদের প্রচার চালু রাখলেও পুরোদমে মাঠ পর্যায়ে প্রচার শুরু করেছে ছুটির পর।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ছুটির পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের গোল চত্তর, ফুডকোর্ট, গিফারি চত্বর, অর্জুনতলা, বি ও ই বিল্ডিংয়ের টংয়ের এলাকাসহ ক্যাম্পাসজুড়ে বিভিন্ন প্যানেলের উপস্থিতি ‘বেড়েছে’।
প্রার্থীরা নতুন উদ্যমে প্রচারপত্র বিলি করছেন, শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছেন ব্যালট নম্বর ও পরিচিতি। এছাড়া বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনেও ক্লাস শেষে বিরতিতে বা ক্যাম্পাসে আড্ডার ফাঁকে প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলছেন। শেয়ার করছেন নিজেদের নির্বাচনি অঙ্গীকার।
বুধবার শীতের সকালেই নির্বাচনি প্রচারে নেমে পড়েছেন ছাত্রদল সর্মথিত প্যানেল ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ার ঐক্য’। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ক্যাম্পাসে প্রচার চালাচ্ছেন বলে জানান সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ।
মুস্তাকিম বলেন, “আমরা একটু ইউনিক সিস্টেমে আগাইছি। আমরা গত পরশুদিন শিক্ষার্থীদের মেসে-মেসে গেছি। গতকালকে হলে গেছি। আর আজকে ক্যাম্পাসে প্রচারণা চালাচ্ছি।
“আমরা ব্যক্তি টু ব্যক্তির কাছে গিয়ে তাদের ইশতেহারগুলো শোনতেছি। আমরা এ যাবৎ ১৬০০ থেকে ১৮০০ শিক্ষার্থীদের গিয়ে তাদের দাবিগুলো শুনে তালিকা করেছি।”
তিনি বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে ব্যালট নিয়ে ভোট চাচ্ছি না, শিক্ষার্থীদের কি চাওয়া, কি দাবি শুনতেছি। এরপর সেগুলো বিচার বিবেচনায় করে, আমরা যদি সেগুলো নিয়ে কাজ করতে পারি তখন আমরা ভোট চাইব। এভাবেই সিকুয়েন্স অনুযায়ী এগোচ্ছি।”
ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বাব সাস্টিয়ার ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থীসহ বাকি প্যানেলটির প্রার্থীদেরও সকাল থেকে প্রচারে দেখা যায়।
এ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির বলেন, “আমরা সকাল ৯টা থেকে ক্যাম্পাসে এসে ভাগ হয়ে হয়ে প্রচারণা করতেছি কয়েকজন কয়েকজন করে। নির্বাচন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আমরা ভালই সাড়া পাচ্ছি। আমরা এখনো ইশতেহার ঘোষণা করেনি। আমরা শিক্ষার্থীদের থেকে বাস্তবিক সমস্যা সমাধান নিয়ে দাবি-দাওয়া শুনতেছি এবং নোট করতেছি।
“গত দুইদিনে আমরা শিক্ষার্থীদের থেকে প্রায় ৯০টির বেশি পরামর্শ পেয়েছি। আমাদের অলরেডি একটা ড্রাফট আছে, যেগুলো ক্যাম্পাস ও শিক্ষার্থীদের বেশি সমস্যা, সেগুলো ইশতেহারে যুক্ত করব।”
এদিন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের প্যানেল ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে গঠিত প্যানেল ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ ও ‘স্বতন্ত্র সাস্টিয়ান’ জোটসহ স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রচার চালাতে দেখা গেছে।
‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুঁহয়ী শারদ বলছিলেন, “আমরা সকাল থেকেই গিফারি চত্তর, পরিবহন স্টেশন, বি ও ই বিল্ডিংয়ের টংয়ে গিয়ে প্রচারণা করেছি। সব শিক্ষার্থীদের মধ্যে নির্বাচনি একটা আমেজ পড়া শুরু হয়েছে।
“আমরা বুঝতে পারতেছি, শিক্ষার্থীরা দলের বাইরে থেকে সাধারণের থেকেই তাদের প্রতিনিধি চায়।”
তিনি বলেন, “আমি এখনো আমার ইশতেহারগুলো অফিসিয়ালি জানায়নি। তবে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম বন্ধ করা, দলীয় প্রভাব মুক্ত ক্যাম্পাস ও অ্যাকাডেমিক ক্যাম্পাস গঠন করা। এ বিষয়গুলো আমার ইশতেহারের সামনে রাখতেছি।”
স্বতন্ত্র সাস্টিয়ান জোটের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী ফয়সাল হোসেন বলেন, “সকাল থেকেই ক্যাম্পেইন শুরু করেছি। আমি এখনো আনুষ্ঠানিক ইশতেহার ঘোষণা করেনি। শিক্ষার্থীদের থেকে দাবি শুনে শিগগিরই ইশতেহার ঘোষণা করব।”