Published : 11 May 2026, 12:06 AM
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় চাঁদাবাজির মামলায় দুইজনকে পাঁচ বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত; যারা নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিতেন।
রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক মাসুদ পারভেজ আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানান বাদীপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ তফসির আহমেদ তানভীর।
দণ্ড পাওয়ারা হলেন- এস এম আলী আজম এবং আশিকুর রহমান রনি।
মামলা থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উপজেলার শরীফপুর পূর্ব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দেন আলী আজম ও আশিকুর রহমান। সেই সময় তারা বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিল-ভাউচার ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র দেখতে চান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাদের জানান, এসব নথিপত্র দেখভালের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের হুমকি দিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। পাশাপাশি শিক্ষকদের সঙ্গে অশোভন আদরণ করেন।
এক পর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষকরা আলী আজমকে আটক করেন। তবে অপরজন মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যান। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
ঘটনার দিনই ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান বাদী হয়ে আশুগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে দুই আসামিকে পাঁচ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয় আদালত।
আইনজীবী তফসির আহমেদ তানভীর বলেন, সাজা পাওয়ারা সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা জায়গায় চাঁদাবাজি করতেন। আদালত সবকিছু পর্যালোচনা করে এ রায় দিয়েছে। এতে বাদী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি সেলিম পারভেজ বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান ও দায়িত্বশীল পেশা। প্রকৃত সাংবাদিকরা সবসময় দেশ, সমাজ ও নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকেন। সাজা পাওয়ারা নামসর্বস্ব পত্রিকার কার্ড ব্যবহার ও ফেইসবুকে পেইজ খুলে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন। তারা মূল ধারার কোনও সাংবাদিক নন।
এ রায় অপ-সাংবাদিকতা ও ভুয়া সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে একটি যুগান্তকারী বার্তা বলে মনে করেন তিনি।