Published : 10 Nov 2025, 05:37 PM
ফকির লালন সাঁইজির ১৩৫তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সাধু সঙ্গ ও ভাব-সংগীত’।
তালুক শিমুলবাড়ীর লালন আখড়াবাড়ির এ আয়োজনে ভক্ত, বাউল ও অনুরাগীরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমবেত হন। ১৪তম এই আয়োজনে নেতৃত্ব দেন আখড়বাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ছালেক শাহ ও ভক্তরা।

দিনরাতব্যাপী এই অনুষ্ঠানে লালনের মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক দর্শনের উপর আলোচনা হয়। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত পর্যন্ত চলে ভাব-সংগীত ও সাধু সঙ্গের মনোমুগ্ধকর আসর। লালনের অমর বাণী ও সুরের মূর্ছনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো আখড়াবাড়ি প্রাঙ্গণ।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত শিল্পীরা গভীর রাত পর্যন্ত গান পরিবেশন করেন। শত শত ভক্ত-শ্রোতা-দর্শক বিমোহিত হয়ে তা শ্রবণ করেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য দেন ফুলবাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনোয়ার হোসাইন, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, শিমুলবাড়ী লালন আখড়াবাড়ির প্রতিষ্ঠাতা ছালেক শাহ, ফুলবাড়ী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মুকুল, রংপুর লালন একাডেমির সভাপতি আবু নুঈম, বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী অরণ্য আব্বাস, কুড়িগ্রাম লালন একাডেমির সভাপতি ইউসুফ আলমগীর, সাধারণ সম্পাদক শিবলী সাদিক আতিক।
বক্তারা বলেন, ফকির লালন সাঁই শুধু একজন বাউল ছিলেন না, তিনি ছিলেন মানবতার এক আলোকবর্তিকা। তার গানে মানুষে-মানুষে ভেদাভেদ ভুলে একতা ও ভালোবাসার বার্তা আছে। লালনের দর্শন আমাদের মানবিক ও উদার হতে শিক্ষা দেবে। তাই নতুন প্রজন্মের মাঝে লালন চর্চা ছড়িয়ে দিতে হবে।

বাউল শিল্পীরা বলেন, লালনের গান শুধু সংগীত নয়, এটি মানবতার পাঠশালা।
আয়োজকরা জানান, লালন সাঁইজির দর্শন ও প্রেমভিত্তিক মানবধর্মকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে প্রতি বছরই তারা এ আয়োজন অব্যাহত রাখবেন।