Published : 05 Jul 2026, 08:59 PM
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে মারধর করার অভিযোগ ওঠেছে একই বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
প্রধান শিক্ষক ছুটি না দেওয়ায় বৃহস্পতিবার উপজেলার ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান ভেদরগঞ্জে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল মুজাহিদ।
ঘটনার পর প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ মিয়া সখিপুর থানায় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। উপজেলা প্রশাসনও তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক নিজের কক্ষে কয়েকজনের সঙ্গে বসে ছিলেন। এ সময় সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন তার শিশুসন্তানকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন।
কিছুক্ষণ পর প্রধান শিক্ষক উঠে দাঁড়ালে দেলোয়ার হোসেন তাকে মারধর করেন। পরে অন্য শিক্ষকরা দুজনকে আলাদা করেন। প্রধান শিক্ষক কক্ষ থেকে বেরিয়ে গেলে দেলোয়ার হোসেন কক্ষের চেয়ার ও কাগজপত্র ছুড়ে ফেলেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত দেরিতে বিদ্যালয়ে আসতেন এবং প্রায়ই আগেভাগে চলে যেতেন। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক তাকে একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করেছিলেন।
প্রধান শিক্ষক আলী আসাদ মিয়া বলেন, “ওই শিক্ষক নানা অজুহাতে স্কুল ফাঁকি দিতেন। বৃহস্পতিবার তিনি ছুটি চেয়েছিলেন। কিন্তু সেদিন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিদ্যালয় পরিদর্শন ও শিক্ষকদের জরুরি সভা থাকায় তাকে ছুটি দেওয়া হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আমাকে মারধর করেন।”
সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আমার বাচ্চা অসুস্থ থাকায় আমি ছুটি চেয়েছিলাম, কিন্তু উনি বলেন, ছুটি দেওয়া যাবে না। বিরক্ত হয়ে হাতাহাতি হয়ে যায়। তখন মাথা ঠিক ছিলো না। তিনি বহুদিন ধরে আমার প্রতি অত্যাচার করছিলেন। তার কারণে আমার পারিবারিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তার বিচার চাই।”
সখিপুর থানার ওসি মোফাজ্জল হোসাইন বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল মুজাহিদ বলেন, “দুই শিক্ষকের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পেয়ে সরেজমিন তদন্ত করেছি। এখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।”
ইউএনও আবুবকর সিদ্দিক বলেন, “শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় একটি অভিযোগ পেয়েছি। তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে সুপারিশ করা হবে।”