Published : 01 Jun 2026, 07:52 PM
কোরবানির ঈদের ছুটি শেষে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়লেও ভোগান্তি নেই। অপেক্ষা ছাড়াই ফেরিতে উঠে গন্তব্যে চলে যাচ্ছেন যাত্রী ও যানবাহন চালকরা।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশনের-বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার এজিএম মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় বাস নদীতে পড়ে গিয়ে ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় এবার বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

সোমবার সকালে ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রোববার ঈদের ছুটি শেষ হয়েছে। সোমবার থেকে অফিস-আদালত খুলেছে। রোববারের মত সোমবার সকাল থেকে দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে কর্মস্থলে ফেরা যাত্রি ও যানবাহনের চাপ রয়েছে। তবে ঘাট এলাকায় নেই যানজট, নেই ভোগান্তি। ফলে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করেই ফেরিতে উঠতে পারছে যানবাহনগুলো।
এদিকে প্রতিটি ঘাটেই বিআইডব্লিউটিসি ও নৌ পুলিশের সদস্যরা যাত্রীদের নিরাপত্তায় সতর্ক রয়েছেন। ফেরিতে ওঠার আগেই বাস থেকে যাত্রী নামিয়ে খালি বাস ফেরিতে ওঠানো হচ্ছে। যাত্রীদের ফেরিতে উঠানামার জন্য অ্যাপ্রোচ সড়কের পাশে বাঁশের বেড়া দিয়ে পথ তৈরি করা হয়েছে। যাত্রীরা যেন ওই পথ ধরে ফেরিতে উঠানামা করেন তা নিশ্চিত করছেন তারা।

কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী মানিক মিয়া বলেন, “পথে ও ফেরি ঘাটে কোনো ভোগান্তি নেই। আসামাত্রই ফেরিতে উঠে চলে যাওয়া যাচ্ছে। এমন স্বস্তির ঈদযাত্রা পেয়ে আমরা খুশি।”
রাজবাড়ীর কালুখালি থেকে আসা মমিন মণ্ডল বলেন, “আমি গাবতলি যাবো, ফেরি ঘাটে আসামাত্রই গাড়ি ফেরিতে উঠে গেলে। পদ্মা সেতুর আগে যা ভোগান্তি ছিলে সেতু চালুর পর কিছুই নাই। এমন ঘাট পেয়ে আমরা খুশি।”
মাগুরা থেকে আসা মারিয়া মিম বলেন, “পদ্মা সেতু চালু হওয়ার আগে যেমন ঈদযাত্রা আশা করতাম, বর্তমানে ঠিক তেমনটা পাচ্ছি। সেতু চালুর আগে তো দৌলতদিয়া ফেরিঘাট ছিলো নরকের ঘাট। কী যে কষ্ট করেছি ঘাটে, সেটা বলে বোঝাতে পারবো না।”

মেহেরপুর থেকে আসা নুসরাত জাহান বলেন, “ভোরে মোটরসাইকেলে বের হয়েছি। পথে কোনো যানজট বা ভোগান্তি নেই। ফেরিঘাটেও কোনো যানজট নেই। বেশ স্বস্তিতে কর্মস্থলে ফিরতে পারছি।”
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার এজিএম মো. সালাহউদ্দিন বলেন, “গতকাল থেকে আজ যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কম। ঘাট এলাকায় কোনো যানজট বা ভোগান্তি না থাকায় যাত্রীরা স্বস্তিতে পারাপার হচ্ছে। এই নৌপথে ছোটবড় মিলে ১৭টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।”