Published : 25 Apr 2026, 04:54 PM
রাজবাড়ী আড়াইশ শয্যা সদর হাসপাতালে হঠাৎ করেই ডায়রিয়া রোগীর চাপ বেড়েছে। ১২টি বিছানার বিপরীতে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগী ভর্তি হয়েছেন ৪৮ জন।
ধারণক্ষমতার চারগুণ রোগী ভর্তি থাকায় বিছানা না পেয়ে হাসপাতালের বারান্দা ও মেঝেতেই চলছে চিকিৎসা। অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও।
সরেজমিনে দুপুরে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, জায়গা না পেয়ে বারান্দার মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন সদর উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের মাটিপাড়া গ্রাম থেকে আসা অন্তঃসত্ত্বা মুক্তা খাতুন। পাশে স্বামী রাসেল শেখ বসে আছেন। আর বাবার কোলে মাথা রেখে ঘুমাচ্ছে শিশু সন্তান।
শুধু মুক্তা নন, ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে অন্তত ৩০ জনের বেশি রোগী মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ নেই, নোংরা পরিবেশ, তীব্র গরম এবং ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
মুক্তা খাতুন বলেন, “শুক্রবার রাতে ভর্তি হওয়ার পর থেকে জরুরি বিভাগের ডাক্তার ছাড়া আর কোনো ডাক্তার দেখতে আসেননি। খাবার স্যালাইন ছাড়া সব ওষুধ বাইরের দোকান থেকে কিনতে হয়েছে। হাসপাতাল থেকে খালি বিছানা দেওয়া হয়ছে; একটা বালিশও দেয় নাই। এভাবে কি চিকিৎসা নেওয়া যায়?”
মুক্তা খাতুনের স্বামী রাসেল শেখ বলেন, “রাতে ভর্তি হইছি। এহুন বাজে দুপুর ১টা, এহুনো কোনো ডাক্তার দেকপার আসে নাই। ভর্তির সময় জরুরি বিভাগের ডাক্তার দেকছে। একটা বালিশও দেয় নাই। আমার কেউ নাই যে, তার কবো একটা বালিশ আনবার। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা যদি এরহম হয় তালি মানুষ কনে যাবি।”
বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর থেকে আসা মিন্টু বলেন, “আমার বন্ধুর ডায়রিয়া, ওরে নিয়ে হাসপাতালে আসলাম। ওয়ার্ডে জায়গা না পাওয়ায় বারান্দার মেঝেতে জায়গা পায়ছে। খাবার স্যালাইন ছাড়া সব ওষুধ ফার্মেসি থেকে কিনে আনলাম। বিছানা যে জায়গায় একটা ফ্যানও নাই। গরমের ভিতর কতক্ষুণ থাকা যায়। এই রকম হলে তো চলে না। সরকারি হাসপাতালের পরিবেশ আরও ভালো করা দরকার।”
পাবনা জেলার ঢালারচর থেকে আসা ফরিদা খাতুন বলেন, “চার দিন আগে মেয়ে মাহিয়ার ডায়রিয়া হয়। তহন হাসপাতালে নিয়ে আসি। এহুন আবার টায়ফয়েড জ্বর ধরা পড়ছে। কোনো বেড পাই নাই, নিচে বেড পাইছি। সমেস্যা হলো মেলা গরম আশপাশে কোন ফ্যান নাই। হাতপাহা দিয়ে কতক্ষুণ বাতাস করা যায়। রুগির সাতে রুগির মা-রাও দুর্বল হয়া যাচ্ছে।”
জব্বার প্রামাণিক, আক্কাস মিয়া বলেন, তাদের রোগী ভর্তি আছে, তাই দেখতে এসেছেন। হাসপাতালে বেড খালি নাই। মেঝেতে বিছানা করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অনেক রোগীর মাথার ওপরে ফ্যান নাই। গরমে কী যে অবস্থা! বিদ্যুৎ গেলে জ্যানারেটরও চলে না হাসপাতালে। এই গরমে রোগী সুস্থ না হলেও আরও অসুস্থ হবে। এত বড় হাসপাতালে জ্যানারেটর থাকে না। হাসপাতাল কতৃপক্ষের আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া দরকার ছিলে।
রাজবাড়ী হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শিউলি আক্তার বলেন, “২৪ ঘণ্টায় রোগী ভর্তি হয়েছে ২৮ জন। বর্তমানে ৪৮ জন রোগী ভর্তি আছে। হঠাৎ করে এত রোগী এক সঙ্গে ভর্তি হওয়ায় হিমশিম তো খেতে হচ্ছেই।”
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, “অতিরিক্ত গরম, অস্বাস্থ্যকর খাবার ও দূষিত পানি পান করার কারণে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। তবে হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।”
এই অবস্থায় বিশুদ্ধ পানি পান, তরল খাবার গ্রহণ এবং বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।