Published : 21 Feb 2026, 04:18 PM
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে সারাদেশে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। তাদের মধ্যে মতো শেরপুরে আলাদা করে নজর কেড়েছে শিশু ও আদিবাসীদের সরব উপস্থিতি।
শনিবার সকালে শেরপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অভিভাবকদের সঙ্গে ফুল নিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিল ছোট্ট শিশুরাও। বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুরাও এসেছিলেন অভিভাবকের হাত ধরে।
শেরপুর শহরের মাধবপুর, গৃদানারায়নপুর, রঘুনাথ বাজার ও চক বাজার এলাকার উৎসব সাহা, চিন্ময় ভৌমিক, সাত্যকী ভৌমিক, সিদ্ধেশ ভৌমিক, রুহিয়া, হানা বিয়া, জান্নাতুল মাওয়া অপ্সরা ও সুদীপ্তা দত্ত শ্রেষ্ঠাসহ শিশুরা তাদের কোমল হাতের ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। শ্রদ্ধাঞ্জলি শেষে শহীদ বেদীতে কিছুক্ষণ অবস্থান করে শিশুরা।

অভিভাবকরা বলেন, শহীদদের স্মৃতির মিনারের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং ভাষা শহীদদের ব্যাপারে প্রাথমিক ধারণা দিতে শিশুদের নিয়ে এসেছেন তারা।
শেরপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা শিক্ষাবিদ ডক্টর সুধাময় দাস বলেন, “নতুন প্রজন্ম তাদের মা-বাবার হাত ধরে একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করায় আমরা বাঙালি হিসেবে গৌরব বোধ করছি এবং আশান্বিত হচ্ছি এই ভেবে যে বাঙালি জাতির অগ্রগতি রোধ করার সাধ্য কারোর নেই। ”
শেরপুরের কবি রবিন পারভেজ বলেন, এ প্রজন্মের শিশুরাই আগামী দিনের আমাদের জাতির পথের দিশারী হবে। তাদের শহীদ মিনারে নিয়ে আসার বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। এটা আমাদের উঁচু মার্গের সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছি।

“সচেতন অভিভাবকরা আমাদের মহান ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধ সহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিষয়টি শিশুদের মনে গেঁথে দেওয়ার কাজটি করছেন দেখে খুবই ভালো লাগছে। শিশুরাও আমাদের গৌরবময় জাতির অহংকারগুলোকে বুকে ধারণ করে আগামী দিনে পথ চলবে এমনটাই প্রত্যাশা করছি। ”
এদিকে একুশের প্রথম প্রহরে শ্রীবরদী উপজেলা, শেরপুর-এ ২নম্বর রাণীশিমুল পাইলট ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
একুশের প্রথম প্রহরে টেঙ্গরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত শহিদ মিনার-এ প্রায় পাঁচ শতাধিক আদিবাসী নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

এ অনুষ্ঠানে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল হামিদ সোহাগের নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের স্মরণ করা হয়।
আদিবাসী জনগোষ্ঠীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানে কয়েকজন আদিবাসী নারী কোলে ঘুমন্ত শিশুদের নিয়েও শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন।
ভাষা আন্দোলনের চেতনা সকল জাতিগোষ্ঠীর মাঝে ছড়িয়ে দিতে এমন আয়োজনের প্রশংসা করে স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের ব্যতিক্রমী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক আয়োজন ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের শক্তিশালী বার্তাও বহন করে।