Published : 20 Apr 2026, 08:25 PM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনে গোপালগঞ্জ থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সুবর্ণা শিকদার ঠাকুর; যিনি আওয়ামী লীগের পদধারী ছিলেন বলে দাবি বাদ পড়াদের।
তার এ মনোনয়ন ঘিরে জেলাজুড়ে চলছে আলোচনা। এ ঘটনায় বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ। সেইসঙ্গে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও সুবর্ণা ঠাকুরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ৩৬ জনের নাম ঘোষণা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ তালিকার ২০ নম্বরে রয়েছে সুবর্ণার নাম।
সুবর্ণা ঠাকুর কাশিয়ানী উপজেলা শ্রীধাম ওড়াকান্দির পূর্ণব্রহ্ম শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য। তিনি মতুয়া মহা-মিশনের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সভাপতি। এ ছাড়া তিনি ওড়াকান্দি মীড উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন।
২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়; যেখানে বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পান সুবর্ণা ঠাকুর।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের নারী সংসদ সদস্য হতে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে সেই সময় তিনি জোর তদবিরও করেন।
এবার বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও কর্মসূচিতে সুবর্ণা ঠাকুরের উপস্থিতির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এরপর থেকে শুরু হয় আলোচনা।
আওয়ামী লীগের কমিটিতে থাকা নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে সুবর্ণা ঠাকুর বলেন, “হ্যাঁ, একটা বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। আমাকে এক সময় কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
“কিন্তু সত্যি বলতে, এতে আমার কোনও সম্মতি ছিল না। আমাকে না জানিয়েই, তাদের ইচ্ছামত তালিকায় আমার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আমি কখনো সেই তালিকা দেখিনি, এমনকি কোনো মিটিং-মিছিল বা দলীয় কার্যক্রমেও অংশগ্রহণ করিনি। এ কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগও করিনি। কারণ বিষয়টিকে কখনো গ্রহণই করিনি।”
নিজের পেশাগত ও ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে সুবর্ণা ঠাকুর বলেন, “দেশ ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় কাজে আমাকে যেতে হয়, তাই রাজনীতির বিষয়টি আমি পুরোপুরি এড়িয়ে গেছি। তবে রাজনীতির সঙ্গে আমার সম্পৃক্ততা ছাত্রজীবন থেকেই।
“খুলনা সিটি কলেজে পড়াশোনার সময় আমি বিএনপির ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম, তখন সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করেছি। সেই সময়ের কিছু প্রমাণও রয়েছে। সেই পত্রিকায় আমার ছবি প্রকাশিত হয়েছিল।”
তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদে নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাওয়ার বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যান সুবর্ণা ঠাকুর।
গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, সুবর্ণা ঠাকুর আওয়ামী লীগের পদে থেকেও এখন অস্বীকার করলে, তা ঠিক করছেন না। নতুন পদ-পদবি পাওয়ার জন্য তিনি দলের সঙ্গে প্রতারণা করছেন।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম ও মামলা-হামলা সহ্য করেছেন, তাদের মূল্যায়ন না করে অন্য দল থেকে আসা একজন পদধারী নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়ায় নেতাকর্মীরা হতাশ ও ক্ষুব্ধ।