Published : 15 Jan 2026, 10:30 PM
সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থগিতাদেশ দেওয়ার পরও ‘আপ টু দ্যা মার্কে’ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ-শাকসু ভোট আয়োজনের প্রস্ততির খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে যথাসময়ে নির্বাচন আয়োজনের জন্য বুধবার শাকসু নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয় বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র অধ্যাপক মো. নজরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় তিনি বলেন, ‘আপ টু দ্যা মার্কে’ নির্বাচনের আয়োজনের প্রস্তুতির কাজ চলছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চিঠি দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের কাজ চলমান রাখতে বলেছে।
“আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইসি (জাতীয় নির্বাচন কমিশন) থেকে কোনো একটা চিঠি আনার চেষ্টা করছেন; যা দিয়ে ২০ জানুয়ারি নির্বাচন হয়। ওটা যদি হয় তাহলে ভোট করা যাবে”, বলেন তিনি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম বলছেন, ইসি তাদের প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহার না করলে বা কোনো রেসপন্স না করলে শাকসু আয়োজন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, “গতকাল প্রার্থীরা একটা স্মারকলিপি দিয়েছেন। সেটা আমরা প্রশাসনিকভাবে চিঠির মত তৈরি করে রাতেই ইসির (জাতীয় নির্বাচন কমিশন) কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। এখনও কোনো সিদ্ধান্ত তারা (ইসি) দেয় নাই। সিদ্ধান্ত না পেলে তো আমাদের করণীয় কিছু নেই। ওনাদের আগের চিঠি বহাল থাকলে নির্বাচন করার সুযোগ নেই।”
এদিকে বুধবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে শাকসু নির্বাচন শর্তহীনভাবে আয়োজনের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন ছাত্রদলের সমর্থিত ভিপি প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ ও স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মুমিনুর রশিদ শুভ।
তবে এ স্বাক্ষর প্রত্যাহারের আবেদনটি ভুল সিদ্ধান্ত বলে এদিন দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মুমিনুর রশিদ শুভ।
তিনি বলেন, “একজন ছাত্র হিসেবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা আমার একটি গণতান্ত্রিক অধিকার। গণতান্ত্রিক পরিবেশে কোনও মুচলেকা দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থি একটি বিষয়।
“নির্বাচন কমিশন বরাবর পাঠানো আমাদের চিঠিটি এক ধরনের মুচলেকা হিসেবে গণ্য হতে পারে এবং ভবিষ্যতে আইনি জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। এই আশঙ্কায় নাম প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলাম। এ সংক্রান্ত ভুল বোঝাবুঝির জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। শাকসু নির্বাচন চাই এবং ভিপি পদে প্রার্থী হিসেবে আপনাদের সামনে আছি।”
অন্যদিকে ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, “আমরা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি অঙ্গীকারনামা দিতে এখন (বেলা ৩টা) রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে আসছি।
“তবে অঙ্গীকার শুধু শিক্ষার্থীদের নয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাকসু নির্বাচন কমিশনকেও দিতে হবে। আমরা যদি ছাত্র হয়ে ঝুঁকি নিতে পারি, তাহলে প্রশাসন কেন নেবে না? তারা তো আমাদের দায়িত্বশীল অবস্থানে আছে।”
তিনি বলেন, “আমার প্যানেলের সবাই এ ঝুঁকি (অঙ্গীকার) নেবে না। আমি ব্যক্তিগতভাবে অঙ্গীকারনামা দিতে রাজি আছি।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে অঙ্গীকারনামা দেওয়ার বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সাজেদুল করিম বলেন, “শিক্ষার্থীরা তো অনেক কিছুই দাবি করবে। এটাতো অবাস্তব না। রাষ্ট্র যেটা করছে বা জাতীয় নির্বাচন কমিশন থেকে তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর সবকিছুই তাদের এখতিয়ারে চলে যায়। এখন ছেলেরা মানতেছে না। শিক্ষার্থীরা তো তাদের দাবি বলবে, কিন্তু এক্ষেত্রে তো আমাদের হাত-পা বাঁধা পড়ে গেছে না?”
“আমরা চিঠি দিয়েছি। শাকসু নির্বাচন দেওয়ার আমাদের ভিসি স্যারও ইসিকে অনুরোধ করেছেন। দেখা যাক কি উত্তর দেয় ওনারা”, যোগ করেন তিনি।
শাকসু নির্বাচনের অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার তিন দিন ধরে প্রচারে বিঘ্ন ঘটেছে বলে অভিযোগ প্রার্থীদের। তবে ২০ জানুয়ারি নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নির্বাচনি প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।
এদিকে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্যের’ পক্ষ থেকে বেলা সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলন করে ২৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা করা হয়। ইশতেহার যৌথভাবে উপস্থাপন করে প্যানেলটির ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির ও জিএস প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম।
আরও পড়ুন
শাকসু নির্বাচন: স্মারকলিপি দিয়ে স্বাক্ষর প্রত্যাহারের আবেদন চার প্রার্থীর
শাকসু: ইসিতে দেওয়া স্মারকলিপিতে শর্তহীন নির্বাচনের দাবি
শাকসু নির্বাচনের অনুমতি দিতে ‘লিখিত অঙ্গীকার চায়’ ইসি, প্রত্যাখ্যান প্রার্থীদের