Published : 14 Jan 2026, 10:38 PM
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কাছে শর্তহীন নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ-শাকসু ও হল সংসদের প্রার্থীরা।
বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অব এক্সিলেন্স ভবনের সামনে এ স্মারকলিপি দেওয়া হয় বলে জানান শাকসু প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ।
তিনি বলেন “নির্ধারিত তারিখেই নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে প্রার্থীরা একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। আমরা স্মারকলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠিয়েছি। কারণ সেখানে একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনের স্মারক নম্বর দেওয়া আছে। এরই প্রেক্ষিতে প্রার্থীরা স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সেটি ইসিতে পাঠাবেন।”
“তবে আমরা কমিশন নির্ধারিত তারিখেই নির্বাচন আয়োজনের কাজ করে যাচ্ছি। যেহেতু প্রশাসন থেকে আমাদের কার্যক্রম স্থগিতের কথা বলেনি।”
ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্যে’র ভিপি প্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ, ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানের ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্যে’র ভিপি প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্যানেল ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুঁহয়ী শারদ ও স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মুমিনুর রশীদের স্বাক্ষরসহ মোট ৭৬ জন প্রার্থী স্বাক্ষর সংবলিত লিপি জমা দেওয়া হয় বলে জানান ‘সাধারণের ঐক্যস্বর’ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুঁহয়ী শারদ।
এ স্মারকলিপিতে বলা হয়, “গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে আসন্ন শাকসু নির্বাচনের পথে বাধা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে মনে করা হচ্ছে, শাকসু নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে। আমরা শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা মনে করি যে, জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে শাকসু নির্বাচনের কোনো সংশ্লিষ্টতা ও সাংঘর্ষিকতা নেই। আসন্ন শাকসু নির্বাচন কোনোভাবেই জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য মো. সাজেদুল করিম বলেন, ‘গত রাতে প্রার্থীরা এসেছিলেন। আমি বলেছি, তোমরা শাকসু নির্বাচন কমিশনারের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটার অঙ্গীকারনামা, স্মারকলিপি বা আবেদন দাও, কিছু একটা দিলে আমরা ইসিতে পাঠাব।
“প্রার্থীদের দেওয়া স্মারকলিপি শাকসু নির্বাচন কমিশন সন্ধ্যার দিকে রেজিস্ট্রারের কাছে দিয়েছে। সেটা ইসিতে পাঠানোর কাজ চলছে। আজ রাতে অনলাইনে পাঠানো হবে। আজকে তো হার্ড কপি পাঠানো সম্ভব না। কাল হার্ড কপি পাঠানো হবে।”
এর আগে সোমবার রাতে বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশনের এক প্রজ্ঞাপনে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশে সব ধরনের নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ প্রজ্ঞাপনের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সোমবার রাতভর বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন শেষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আলোচনা করেন প্রার্থীরা।
এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে ঢাকায় জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বৈঠক হয়।
এ বৈঠকে শাকসু নির্বাচনে কোনো ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটবে না, নির্বাচনের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি হবে না ও এই নির্বাচন কোনোভাবেই জাতীয় নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব ফেলবে না বলে নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা চেয়েছে বলে উপ উপাচার্য সাজেদুল করিম জানান।
তবে প্রার্থীরা এ ধরনের অঙ্গীকারনামা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে যথাসময়ে শর্তহীন শাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশন বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন।