Published : 20 Jan 2026, 03:39 PM
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভ চলাকালে মঙ্গলবার বেলা ১টা দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয়ে প্রবেশের সময় উপ-উপাচার্যকে দেখে ‘দালাল-দালাল’ স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
এদিন বেলা পৌনে ১২টা থেকে প্রশাসন ভবন-১ এর সামনে এ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এর আগে সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক আশরাফ উদ্দিন। এ সময় ‘দালাল-দালাল, ভুয়া-ভুয়া’ স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টা ৫৭ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য সাজেদুল করিমের গাড়ি উপাচার্য কার্যালয়ের সামনে থামে। তিনি গাড়ি থেকে বের হলে আন্দোলনকারীরা তাকে দেখে ‘দালাল-দালাল’ বলে স্লোগান দেন।
তবে বিএনপিপন্থি শিক্ষক প্যানেলের সাবেক নেতা উপ-উপাচার্য সাজেদুল করিম কোনও জবাব না দিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
প্রশাসন ভবন-১ এর সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ‘সাস্টিয়ান সাস্টিয়ান এক হও, এক হও’, ‘শাকসু নিয়ে তালবাহানা চলবে না চলবে না’, ‘শাকসু নিয়ে মববাজি চলবে না চলবে না’, ‘শাকসু চাই শাকসু দাও, নইলে গদি ছাইড়া দেও’, ‘দালালদের গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘শাকসু মোদের অধিকার, রুখে দেওয়ার সাধ্য কার’ বলে স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশির সাংবাদিকদের বলেন, “সোমবার আমরা প্রশাসনকে বলেছি যে, যেভাবেই হোক চেম্বার জজ আদালতের মাধ্যমে বুধবার শাকসু নির্বাচন করতে হবে।
“দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চাপ দেওয়া হবে। কেননা আমাদের দাবি যৌক্তিক।”
ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “২৮ বছর পর আমাদের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন মহলের ষড়যন্ত্রের কারণে নির্বাচন হয়নি। সোমবার চেম্বার জজের শুনানি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তা হয়নি। আজকে আদালতে শুনানি হবে। আশা করছি, চেম্বার জজ শাকসু নির্বাচনের পক্ষে রায় দেবেন।”
শাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভসহ তিনজনের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে সোমবার দুপুরে ভোট চার সপ্তাহের জন্য স্থগিতের আদেশ দেন হাই কোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চ। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চেম্বার আদালতে যায়; কিন্তু সেখানে আর শুনানি হয়নি।
তবে শাকসু নির্বাচনের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন বিভিন্ন প্যানেলের প্রার্থী ও শিক্ষার্থীরা।
বৈঠক শেষে শাকসু নির্বাচনের জন্য আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। অন্যদিকে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা এসেছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে।
শাকসু নির্বাচনের দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা, চেম্বার আদালতে যাবে প্রশাসন
শাকসু: আদালতে আটকাল ভোট, অবরুদ্ধ ভিসিকে আল্টিমেটাম
শাকসু নির্বাচন ৪ সপ্তাহের জন্য স্থগিত
শাকসু: মঙ্গলবার ভোটের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা, অবরুদ্ধ ভিসি