ময়মনসিংহে নারী খামারির পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন

ভুক্তভোগি হ্যাপী কাউসার জানান, বিষপ্রয়োগে তার এক লাখের উপরে দেশি মাছ মারা গেছে।

ময়মনসিংহ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Sept 2022, 08:42 AM
Updated : 20 Sept 2022, 08:42 AM

ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় এক নারী মৎস্য খামারির পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন করা হয়েছে।

উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পাড়াইল মোড়ে হ্যাপী মৎস্য খামারের তিনটি পুকুরে মঙ্গলবার ভোরে পাঙ্গাস ও দেশীয় মাছ মরে ভাসতে থাকে বলে ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান।

ভুক্তভোগি হ্যাপী কাউসার জানান,বিষপ্রয়োগে ৪০ হাজার পাঙ্গাস মাছ মরে ভেসে উঠেছে। প্রতিটা মাছ এক কেজির মতো ওজন ছিলো। এছাড়া এক লাখের উপরে দেশি মাছ মারা গেছে।

স্থানীয় মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব রয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর সে পুকুর থেকে মাছ চুরি করে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়।

এ কারণে সে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে থাকতে পারে বলে ধারণা হ্যাপির।

তিনি বলেন, “সহায় সম্পত্তি বিক্রি করে ও লোন তুলে তিনটি পুকুরে মাছ ছেড়েছি। এক কোটি টাকার উপরে আমার ক্ষতি হয়ে গেলো। আজ আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম। মাহবুবু ছাড়া আমাদের অন্য কারো সঙ্গে কোনো বিরোধ নেই, আমার এতো বড় ক্ষতি কেনো করলো? আমি তার বিচার চাই।”

হ্যাপীর স্বামী আবুল হাসিম বলেন, “এক সময় মাহবুবুর রহমান ওই তিনটি পুকুরে মাছ চাষ করতো। সে ছেড়ে দেওয়ার পর আমরা পুকুরগুলো নেই। এই জেদ থেকে সে এবং তার লোকজন পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছগুলো মেরেছে। এ ঘটনার বিচার না হলে নারীরা মাছ চাষে উৎসাহ হারাবে।”

তবে এ বিষয়ে মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা নাহিদা পারভিন বলেন, “তিনটি পুকুরেই মাছ মরে ভেসে উঠেছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো বিষক্রিয়ায় মাছগুলো মারা গেছে। তবে পরীক্ষা করা ছাড়া কারণ বলা যাবে না। বিষপ্রয়োগে মাছগুলো মারা হলে সেগুলো না খাওয়াই ভালো।”

এসআই আনোয়ার বলেন, “পুকুরগুলোতে সাদা হয়ে মাছ মরে রয়েছে। ধারণা করছি, বিষপ্রয়োগে সেগুলো মারা হয়েছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক