টেকনাফের ব্যবসায়ীকে অপহরণের দায়ে ৭ ডিবি পুলিশের কারাদণ্ড

মামলার দুটি ধারায় আসামিদের এই সাজা দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Sept 2022, 08:54 AM
Updated : 20 Sept 2022, 08:54 AM

কক্সবাজারে ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের দায়ে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাত সদস্যের প্রত্যেককে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। 

মঙ্গলবার বেলা ১২টায় জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলের আদালত এ রায় দেন বলে জানান আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ফরিদুল আলম। 

সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ডিবির বহিষ্কৃত এসআই মো. মনিরুজ্জামান, আবুল কালাম আজাদ, এএসআই মো. ফিরোজ, গোলাম মোস্তফা ও আলাউদ্দিন এবং কনস্টেবল মো. আল-আমিন ও মোস্তফা আজম।

এর আগে সকাল ৮টায় কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে আসামিদের আদালতের হাজতে আনা হয়। পরে সাড়ে ১০টায় সেখান থেকে তাদের আদালতে নেওয়া হয়। এরপর ১১টায় বিচারক রায় পড়া শুরু করেন। 

মামলার নথির বরাতে আইনজীবী ফরিদুল বলেন, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর কক্সবাজার সদর থানার পেছনের রোড থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোশাকধারী একদল লোক টেকনাফের ব্যবসায়ী আব্দুল গফুরকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এরপর ‘ক্রসফায়ারে’ মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তার স্বজনদের কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। 

এক পর্যায়ে দেন-দরবারের পর ১৭ লাখ টাকা দিতে রাজি হয় পরিবার। পরে ওই টাকা পৌঁছে দেওয়া হলে পরদিন ভোররাতে আব্দুল গফুরকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর এলাকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। 

এরপর ব্যবসায়ী গফুরের স্বজনরা বিষয়টি টেকনাফের শামলাপুরে সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা চৌকির দায়িত্বরত সদস্যদের অবহিত করেন। রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য সেনাবাহিনীর এই নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছিল।

মুক্তিপণ আদায়কারী ডিবি পুলিশের সদস্যরা মাইক্রোবাসে মেরিন ড্রাইভ সড়কে নিরাপত্তা চৌকিতে পৌঁছালে সেনা সদস্যরা তা থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় পুলিশ সদস্যদের হেফাজত থেকে ১৭ লাখ টাকা পান তারা। 

ওই সময় এসআই মনিরুজ্জামান দৌড়ে পালিয়ে গেলেও সেনা সদস্যরা বাকি ছয়জনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। 

এ ঘটনায় ব্যবসায়ী আব্দুল গফুর বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় ডিবি পুলিশের সাত সদস্যকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার প্রায় ১০ মাস পর ২০১৮ সালের অগাস্টে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। 

আইনজীবী ফরিদুল বলেন, “আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মঙ্গলবার বিচারক প্রত্যেককে পৃথক দুই ধারায় সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। এ ছাড়া প্রত্যেক আসামিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের সাজা দেওয়া হয়।

"এর মধ্যে অপহরণের দায়ে প্রত্যেক আসামিকে পাঁচ বছর এবং দুই লাখ টাকা করে জরিমানার আদেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া মুক্তিপণ আদায়ের দায়ে দুই বছর এবং এক  লাখ টাকা করে জরিমানার সাজা হয়েছে। " 

রায় ঘোষণার সময় সব আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের এ আইনজীবী। 

বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, মামলার রায়ে বাদীপক্ষ খুশি হলেও সাজার পরিমাণ নিয়ে কিছুটা অতৃপ্ত। মামলার যে দুইটি ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে তাতে সাজার রায় অন্তত ১০ বছর হওয়ার কথা। 

Also Read: মুক্তিপণ আদায়ের মামলা: রায় ২০ সেপ্টেম্বর, সাত পুলিশ কারাগারে

এ ব্যাপারে বাদী উচ্চ আদালতের আশ্রয় নেবেন বলে জানান তিনি। 

মামলার বাদীর বড় ভাই মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, আসামিদের যে সাজা হয়েছে তাতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন তারা। মামলা ও ঘটনার জেরে এর আগে পুলিশের কাছে হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়েছেন। আসামিরা আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য হওয়ায় বাদীপক্ষের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক