Published : 07 Apr 2025, 04:16 PM
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে সারাদেশের মানুষ। জেলা-উপজেলা শহরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের অবস্থান থেকে রাস্তায় নেমে এসে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশে সামিল হয়েছেন।
তারা ইসরায়েলি বর্বরতার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে ফিলিস্তিনের নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার বিশ্বব্যাপী ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের জেলায় জেলায় শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ এসব বিক্ষোভ মিছিল, স্লোগান-সমাবেশ ও ধর্মঘট পালন করেন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
লক্ষ্মীপুর
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে সোমবার বিশ্বব্যাপী ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে লক্ষ্মীপুরে বিক্ষোভ মিছিল, স্লোগান, মহাসড়ক অবরোধ ও ধর্মঘট পালিত হয়েছে।
সোমবার সকাল ৯টার দিকে সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকায় লক্ষ্মীপুর-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে হরতাল পালন করা হয়েছে।
পরে এক সমাবেশে বক্তারা বলেন, ইসরায়েল যখন গাজার মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা করছে; মানুষের লাশ আকাশে উড়ছে; সারাবিশ্ব শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছে। এই দেখা শেষ করতে হবে। মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিকল্পনা নিয়ে গাজাবাসীর পাশে দাঁড়াতে হবে।
একই সময় গাজাবাসীদের জন্য বিশ্বব্যাপী আহুত হরতালের সমর্থনে ইসলামী যুব আন্দোলনের ব্যানারে বিক্ষোভ কর্মসূচি হয়।
শহরের দক্ষিণ তেমুহনী মাসরুর চত্বরে জেলা ইসলামী যুব আন্দোলনের সভাপতি মোখলেছুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শোরাফ উদ্দিন স্বপনের নেতৃত্বে এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
এছাড়া গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে দুপুরে চকবাজার জামে মসজিদ থেকে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করা হয়েছে।

চাঁদপুর
গাজায় মুসলমানদের ওপর ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিবাদে বিশ্বব্যাপী ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চাঁদপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে শহরের হাসান আলী স্কুল মাঠ থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
পরে প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করা হয় যাতে নানা বয়সি মানুষ অংশ নেন।
এ সময় ইসরায়েলের আগ্রাসী ভূমিকা এবং গাজায় নিরীহ মানুষের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। পরে শহরের বাস স্ট্যান্ড এলাকায় গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়।
মিছিল পরবর্তী এক সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, গাজাবাসীর ওপর ইসরায়েল যে ধরনের অমানবিক হত্যাযজ্ঞা চালাচ্ছে তা বিবেকবান কোনো মুসলমান মেনে নিতে পারেন না। তাই বাংলাদেশ সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানোর দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে ইসরায়েলের সব ধরনের পণ্য বয়কট করার জন্য বিশ্ববাসীর কাছে আহ্বান জানান তারা।
চাঁদপুর জেলা শহর ছাড়াও ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, শাহরাস্তি, কচুয়া, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ এবং হাইমচর উপজেলায় একই ধরনের বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রংপুর
ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড গাজায় ইসরায়েল বাহিনীর অব্যাহত আগ্রাসন ও হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে রংপুরেও মিছিল-সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের জনগণ।
সোমবার বেলা ১১টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর টাউন হল পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ থেকে বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কাচারি বাজার জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়।
সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে বক্তারা ইসরায়েলি পন্য বর্জনের ডাক দেন ও মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফিলিস্তিনবাসীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
এছাড়া নগরীর কেন্দ্রীয় কেরামতিয়া মসজিদ থেকে দুপুর আড়াইটার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। অন্যদিকে, একই সময়ে নগরীর পৌর বাজার জামে মসজিদ থেকেও মিছিল বের হতে দেখা গেছে।
এদিকে, বিশ্বব্যাপী ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’র অংশ হিসেবে একদল শিক্ষার্থী ডিসি ও এসপি অফিসে গিয়ে এক ঘণ্টার জন্য কর্মবিরতির আহ্বান জানালে তা পালন করা হয়।

ময়মনসিংহ
গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে মিছিলে মিছিলে উত্তাল বিভাগীয় নগরী ময়মনসিংহ।
সোমবার সকালে ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ নগরীর টাউন হল মোড়ে মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকেন।
তাদের মাথায় কালো কাপড় ও হাতে ছিল প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড।
সকাল সাড়ে ১০টা থেকে কর্মসূচি শুরু হয়ে চলে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত।
পরে সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টাউন হলে এসে শেষ হয়।
সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ময়মনসিংহ জেলা শাখার সদস্য সচিব আলী হোসেন বলেন, “গাজায় গণহত্যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। মানুষ হিসেবে এসব দেখে আমাদের মন আর ঘরে টেকে না। আমরা চাই, বিশ্বের মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলক।”
শিক্ষার্থী নাজিয়া তাবাসসুম বলেন, “বিশ্ব বিবেকহীনে পরিণত হয়েছে। গাজায় হাজার হাজার নারী-শিশু হত্যা করা হলেও তাদের কোনো ভূমিকা নেই। আমরা গাজার প্রতি সহমর্মিতা থেকে আন্দোলন করছি, করে যাব। এতে কিছু হোক আর না হোক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম চালু করলেই গাজার দৃশ্য দেখে গা শিউরে ওঠে। তাই মানুষ হিসেবে আমার আমাদের প্রতিবাদ করে যাব।”
আলী ইউসুফ জালাল নামে একজন বলেন, বিগত কয়েক দিন ধরে গাজায় হামলার মাত্রা বেড়েই চলেছে। তাই মানুষ হিসেবে পরিবার পরিজন নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সামিল হয়েছি। ইসরায়েলের সব পণ্য আমার বয়কট করেছি, আমাদের মত সকলেই তাদের পণ্য বয়কট করে প্রতিবাদ জানাবে, এটাই প্রত্যাশা করছি।
ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শফিকুল ইসলাম খান বলেন, গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিবাদে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি সকাল থেকে চলমান রয়েছে। সেসব কর্মসূচি যেন শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় সে লক্ষ্যে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

কুমিল্লা
গাজা-রাফায় ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিবাদ ও ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার দাবিতে উত্তাল কুমিল্লা নগরী।
বিভিন্ন সংগঠন পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সোমবার ১১ টার দিকে প্রতিবাদী ব্যানার নিয়ে নগরীর কান্দিরপাড়ে একত্রিত হয়।
বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে সংগঠনগুলোর মধ্যে ছাত্রদল, জাতীয় নাগরিক পার্টি, ইসলামী ছাত্রসেনাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় তারা ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের ডাক দেন।
পাশাপাশি গণহত্যা বন্ধসহ ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণার দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন।

নওগাঁ
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিবাদে বিশ্বব্যাপী ধর্মঘট আহ্বানের প্রতি সংহতি জানিয়ে নওগাঁয় বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
সোমবার বেলা ১১টায় শহরের মুক্তির মোড়ে শিক্ষার্থী পেশাজীবী, শ্রমজীবী ও গণঅধিকার পরিষদের ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
তারা ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্বের সব মুসলিম দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
একইসঙ্গে ইসরায়েলি পণ্যসহ দেশটিকে সমর্থনকারী সব দেশের পণ্যও বজর্নের দাবি তোলা হয়।
এতে নওগাঁ জেলা সম্মিলিত সাংবাদিক ঐক্যজোটের আহ্বায়ক সাদেকুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের রাহাত চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম বক্তব্য দেন।
মানববন্ধন শেষে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিভিন্ন শ্লোগানসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।
এ ছাড়া দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিলসহ শহরের মুক্তির মোড়ে এসে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেন।
এ সময় শিক্ষার্থী মো. তাজ রাকিবুল বারী রাজ, আরমান হোসেন ও ইসলামী আন্দোলনের ফরহাদ ইসলাম বক্তব্য দেন।
অন্যদিকে, দুপুরে জামায়াতে ইসলামী ও বিকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বিকালে শহরের শান্তিমোড় এলাকা থেকে 'চাঁপাইনবাবগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণ' ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন রাস্তা ঘুরে বিশ্বরোড মোড়ে গিয়ে সমাবেশ মিলিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন সাবেক পৌর মেয়র আব্দুল মতিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার আহ্বায়ক আব্দুর রাহিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা আসিফ, মোস্তফা, জামালসহ অনেকে।
এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ছাত্র-জনতা। এসব বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে গণহত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের ডাক দেওয়া হয়।

জয়পুরহাট
গাজায় ইসরায়েলের চলমান আগ্রাসন, নির্বিচারে হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে জয়পুরহাটে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
সোমবার দুপুরে শহীদ ডাক্তার আবুল কাশেম ময়দান থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে পাচুর মোড়ে জিরো পয়েন্টে এসে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
পরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জয়পুরহাট জেলা শাখার আহ্বায়ক হাসিবুল হক সানজিদ, সদস্য সচিব মুবাশীর আলী শিহাব, সিনিয়র যুগ্ম সচিব নিয়ামুর রহমান নিবিড়, যুগ্ম সদস্যসচিব মোবাশ্বের হোসেন, সংগঠক ফাহিম ফয়সাল রাফি, সাজিন।
বক্তারা বলেন, গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন, শিশু ও নারীদের নির্বিচারে হত্যা, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস এসবই এক নির্মম গণহত্যার বাস্তবচিত্র। বিশ্বের বিবেকবান মানুষ আজ গর্জে উঠেছে এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে। এসময় ইসরায়েলের আগ্রাসনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে গণহত্যা বন্ধের দাবি জানান বক্তারা।

রাজশাহী
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত আগ্রাসন ও হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে ও গাজার জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টায় ক্যাম্পাসের প্যারিস রোডে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভিন্ন বিভাগ ও ইনিস্টিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে এই কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালেহ হাসান নকীব, উপ উপাচার্য (প্রশাসন) মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন ও উপ উপাচার্য (শিক্ষা) মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান, বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের শিক্ষক মাসুদুল হাসান খান মুক্তাসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সমাবেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বলেন, অনতিবিলম্বে মার্কিন মদদে গাজায় চলমান গণহত্যার প্রতিবাদে রাষ্ট্রীয়ভাবে নিন্দা জানাতে হবে এবং বৈশ্বিক পরিমন্ডলে ফিলিস্তিনের পক্ষে জনমত গঠন ও কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে, আমেরিকান হাই কমিশনারকে তলব করে গণহত্যায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা করার জবাবদিহি চাইতে হবে, কালবিলম্ব না করে পাসপোর্টে পুনরায় “এক্সেপ্ট ইজরাইল” কথাটি ফিরিয়ে আনতে হবে এবং ইজরাইলি পণ্যগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বয়কট করতে হবে এবং তাদের দোসরদের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।
এদিকে, গাজায় চলমান মানবতার এই চরম বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে।
সোমবার এক বিবৃতিতে “গ্লোবাল স্ট্রাইক ফর গাজা” কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে রুয়েট কর্তৃপক্ষ জানায়, গাজায় চলমান গণহত্যা বন্ধে বিশ্বের প্রতিটি বিবেকবান মানুষের জাগরণ এখন সময়ের দাবি।

নারায়ণগঞ্জ
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভ করেছেন।
উপজেলা পর্যায়েও বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষের পক্ষে মিছিল করেছেন লোকজন।
সোমবার সকাল ১০টার দিকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে চাষাঢ়ায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন সাধারণ মানুষ। পরে তারা সড়কে নেমে আসেন।
কয়েকশ’ মানুষ বিজয় স্তম্ভের সামনের সড়কে অবস্থান নিলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচলে বিঘ্ণ ঘটে। দুপুর দেড়টা পর্যন্ত বিক্ষোভকারীরা সড়কে ছিলেন।
তারা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয় বলে জানান সদর মডেল থানার ওসি নাছিরউদ্দিন আহমদ।
বিক্ষোভকারীরা বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী ঘুমন্ত শিশুদের ওপর নির্বিচারে বোমা মেরে হত্যা করছে। অবৈধ দখলদার ইসরায়েল শুরু থেকে মানবাধিকার লঙ্ঘন করে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বিশ্বনেতারা যারা মানবতার কথা বলেন, তারা ফিলিস্তিনে হামলার ঘটনাগুলোতে চোখ বন্ধ করে রাখেন। আমরা তাদের প্রতিও ধিক্কার জানাই।”
ফিলিস্তিনে টানা হামলার ঘটনায় ‘জাতিসংঘের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ’ উল্লেখ করে আন্দোলনকারীরা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী জনগণের পক্ষে সংহতি জানিয়ে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গণসংহতি আন্দোলন, জাতীয় নাগরিক পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, জাতীয় নাগরিক কমিটি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

টাঙ্গাইল
ফিলিস্তিনের গাজাবাসীর ওপর ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ ও মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকাল ১১টায় টাঙ্গাইলের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তারা টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবের সামনে ফিলিস্তিনের গাজায় নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করেন।
এরপর ক্লাব চত্বর থেকে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর মিছিলটি ময়মনসিংহ রোড পার হয়ে জেলা সদর রোড ধরে পৌর উদ্যানে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, ইসরায়েল ঘুমন্ত অবস্থায় মানুষকে হত্যা করছে, যাদের অধিকাংশই শিশু এবং নারী। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য কী।
এ সময় ‘গাজা তুমি একা নও, আমরা আছি তোমার পাশে’, ‘ফিলিস্তিনের শিশুরা আমাদের সন্তান’, ‘ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দুনিয়ার মুসলিম এক হও, লড়াই করো’ ইত্যাদি স্লোগান দেন শিক্ষার্থীরা।

গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জে ইসরায়েল ও ট্রাম্পবিরোধী স্লোগানে মুখরিত ছিল সারা দিন।
বিশ্বব্যাপী ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা আলাদা আলাদাভাবে বিক্ষোভ-মিছিল ও সমাবেশ করেন।
বেলা ১১টায় গোপালগঞ্জ মেডিকেল শিক্ষার্থী তানজিম আশরাফ সাদীর নেতৃত্বে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আয়োজনে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি গণহত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশটি একাডেমিক ভবন থেকে শুরু হয়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান গেট ধরে পুনরায় একাডেমিক ভবনের সামনে এসে ইসরায়েল-আমেরিকান আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করা হয়।
পরে ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য মোনাজাত এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা পোড়ানো হয়।
এছাড়া একইদিন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেলা সাড়ে ১১টায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও স্থানীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন।
জেলার অন্য উপজেলায়ও এ ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

নরসিংদী
গাজায় গণহত্যার প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছেন নরসিংদীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলা শহরের স্কুল কলেজসহ বিভিন্ন উপজেলার সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।
এতে সংহতি জানিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জেলখানা মোড়ে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ ও দোয়া করেন।
এসময় প্রায় ১ ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
সমাবেশে গাজায় ইসরায়েলের হামলা ও গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে বর্বরতা বন্ধের দাবি জানিয়ে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা।
একইসঙ্গে ইসরায়েলি পণ্য বর্জনসহ গাজা মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

ফেনী
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গণহত্যার প্রতিবাদে ফেনীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে।
সোমবার বিকালে ফেনী বড় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শহর ও সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মিছিলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও জেলার সাবেক আমির লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, জেলার আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য আবদুল হান্নান, কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও জেলার সাবেক আমির একেএম শামছুদ্দিন, নায়েবে আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য আবু ইউসুফ, জেলার সেক্রেটারি আবদুর রহিম, শহর আমির নজরুল ইসলাম, সদর আমির নাদেরুজ্জামান অংশ নেন।
একই সময় জেলার সোনাগাজী, দাগনভূঞা, ছাগলনাইয়া, ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে দুপুরে ‘নো ওয়ার্ক, নো স্কুল’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে গাজাবাসীর জন্য ফেনীতে আন্দোলনে অংশ নেন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতা। ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।

পিরোজপুর
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলা ও গণহত্যার প্রতিবাদে সব পরীক্ষা ও ক্লাস স্থগিত ঘোষণা করে পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন।
সোমবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পিরোজপুর-ঢাকা মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. শহীদুল ইসলাম, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন আকতার হোসেন, পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ আক্তার।
বক্তারা বলেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায়ে নেতানিয়াহু সরকার ও ইসরাইলকে বিচারের আওতায় আনা উচিৎ। ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল বিশ্ববাসীকে জায়ন রাজনীতি বাস্তবায়নের বার্তা দিয়েছে। বিশ্বনেতাদের অবশ্যই ন্যাক্কারজনক এই হামলা বন্ধে পদক্ষেপ নিতে হবে। ফিলিস্তিনের গাজায় দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর হামলার ঘটনায় এসময় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বক্তারা।

পাবনা
গাজায় ইজরায়েলের গণহত্যার প্রতিবাদে পাবনায় বিক্ষোভ করেছেন ছাত্র-জনতা।
সোমবার বেলা ১১টায় শহরের শহীদ চত্বরে এ কর্মসূচি শুরু হয়।
এর আগে পাবনা জিলা স্কুল, সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শহীদ চত্বরে জড়ো হন শিক্ষার্থীরা।
সঙ্গে যোগ দেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও। বিক্ষোভে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতা ও বিভিন্ন ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, বর্বর ইসরায়েল শিশু, চিকিৎসাকর্মী, সাংবাদিক কাউকেই হত্যা করা থেকে বাদ দিচ্ছে না। গাজাকে একটি ধ্বংসের নগরীতে পরিণত করেছে। আমরা বিশ্ব মুসলিমের অংশ হিসেবে এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
এ হত্যাযজ্ঞের জন্য ইজরায়েলকে বিশ্বব্যাপী বয়কট করা উচিত বলে মনে করেন বক্তারা।
এ সময় দেশ তথা পাবনাবাসীর পক্ষ থেকে ইসরায়েলের সব পণ্য বর্জনের ঘোষণা দেন বিক্ষুব্ধরা।
এ সময় ইসরায়েলি পণ্য বর্জনের স্লোগানে শহীদ চত্বরের পাশের একটি বিপণিবিতানের বাটা শো রুমে জুতা ও ঢিল নিক্ষেপ করেন বিক্ষুব্ধরা। উত্তেজনা বাড়তে থাকলে ছাত্রনেতারা বিক্ষুব্ধদের নিবৃত করেন।
পরে গাজাবাসীর জন্য দোয়া কামনায় মোনাজাত করে কর্মসূচি শেষ করা হয়।

যশোর
যশোরের রাজপথ প্রকম্পিত করে ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল-সমাবেশ হয়েছে।
সোমবার বেলা ১১টায় যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা ভৈরব শহীদ চত্বরে সমাবেশ করে ‘যশোরের সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা’।
গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ ও মিছিলের আয়োজন করা হয়।
সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার এই বিক্ষোভে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি এমএম কলেজ, সিটি কলেজ, আল হেরা ডিগ্রি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার মানুষ অংশ নেন।
বিশাল এই মিছিলটি দড়াটানা থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মিছিলের আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন লেখক ও গবেষক বেনজিন খান ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যশোরের সমন্বয়কারী রাশেদ খান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, জায়নবাদী ইসরায়েল মুক্তিকামী ফিলিস্তিনি শিশু, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে গণহত্যা চালাচ্ছে। তারা ফিলিস্তিনকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে।
সমাবেশ থেকে ইসরায়েলের সব ধরনের পণ্য বয়কটের আহ্বান জানানো হয়।

নীলফামারী
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যার প্রতিবাদে নীলফামারীর সর্বস্তরের মানুষ বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে করেছে।
সোমবার সকাল ১০টায় নীলফামারী শহরের চৌরঙ্গী মোড়ের স্বাধীনতা অম্লান স্মৃতি চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।
নীলফামারীর সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে জেলা শহরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মসজিদের ইমাম, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সহযোগী অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী, নার্সিং সমাজসহ প্রায় দশ হাজার মানুষ কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করেন।
এ সময় ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে হাতে থাকা প্ল্যাকার্ড প্রর্দশন করেন বিক্ষোভকারীরা।
ঘণ্টাব্যাপী প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তরা বলেন, যুদ্ধ বিরতি চুক্তি ভঙ্গ করে গুলি, বোমা বর্ষণ করে ফিলিস্তিনিদের নৃশংসভাবে হত্যা করছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি বাহিনী সর্বোচ্চ মানবাধিকার লঙ্ঘন করলেও মানবতার কথা বলা পশ্চিমাবিশ্ব এ ঘটনায় নীরব ভূমিকা পালন করছে।
সমাবেশে বক্তব্য দেন নীলফামারী সরকারি কলেজের শিক্ষক কাহারুজ্জামান, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল নীলফামারী জেলা শাখার সভাপতি মারুফ পারভেজ প্রিন্স, বাংলাদেশ ছাত্র শিবির নীলফামারী শহর শাখার সভাপিত শফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নীলফামারী জেলা শাখার সেক্রেটারি ফজলু হক বাপ্পি, আইনজীবী নুর মোহাম্মদ, ছাত্র প্রতিনিধি ইসমাইল হোসেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনি হোসেন।
সমস্ত পশ্চিমা পণ্য বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয় এই সমাবেশ থেকে।