Published : 15 Apr 2026, 02:49 PM
দেশের ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের বিধি-বিধান ও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
বুধবার দুপুরের দিকে সিলেট নগরীর মেন্দিবাগ এলাকায় এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা থাকবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিধি-বিধানের বাইরে থাকবে এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই খাতকে জবাবদিহির আওতায় আনতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক দফায় বৈঠক করা হয়েছে এবং একটি কার্যকর রেগুলেটরি বোর্ড গঠনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।”
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক ধারার অস্তিত্ব থাকলেও তা কোনোভাবেই সরকারি নীতিমালার বাইরে থাকতে পারে না জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বলেন, “ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলগুলোতে উচ্চ বেতনে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের ফি আদায় করা হচ্ছে।
“কিন্তু সেই তুলনায় মান নিয়ন্ত্রণ, কারিকুলামের সামঞ্জস্য এবং শিক্ষার সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিক্ষা যদি শুধুমাত্র বিত্তবানদের নাগালের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে তাহলে সামগ্রিকভাবে জাতীয় শিক্ষাব্যবস্থায় বৈষম্য তৈরি হবে।”
মন্ত্রী বলেন, “সরকার চায় দেশের প্রতিটি শিশুই মানসম্মত শিক্ষা পাবে সে ইংলিশ মিডিয়াম, বাংলা মাধ্যম বা মাদ্রাসা যেখানেই পড়ুক না কেন। এজন্য একটি সমন্বিত নীতিমালার মাধ্যমে সব ধারার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে একটি অভিন্ন কাঠামোর মধ্যে আনা হবে।”
শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “এর মধ্যে রয়েছে কারিকুলাম সংস্কার, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ জোরদার, এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার বিস্তার।”
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে বলে মনে করেন এহসানুল হক মিলন।
তিনি বলেন, “শিক্ষাক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও মান নিশ্চিত করতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকার একা সব করতে পারবে না। শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠান পরিচালকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।"
সিলেট অঞ্চলের শিক্ষা উন্নয়নে প্রবাসীদের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী মিলন বলেন, “প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলে শিক্ষা খাতে বিশেষ তহবিল গঠন করা গেলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সিলেট ডলার ও পাউন্ডে এগিয়ে এটা সত্য। কিন্তু শিক্ষায়ও সিলেটকে এগিয়ে থাকতে হবে।
“লন্ডনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সিলেটিরা চাইলে একটি সমন্বিত শিক্ষা তহবিল গঠন করতে পারেন যা স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
তিনি বলেন, “লন্ডন থেকে অর্থ পাঠিয়ে যদি একটি ‘সিলেট এডুকেশন ট্রাস্ট’ গঠন করা যায়, তাহলে এখানকার স্কুল-কলেজগুলোকে আধুনিকায়ন করা সম্ভব।”
এক্ষেত্রে সিলেটের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সিলেট থেকে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান আসে জানিয়ে তিনি বলেন, “বিশেষ করে গ্যাস ও প্রবাসী আয়ের মাধ্যমে। তাই এই অঞ্চলের মানুষকে শিক্ষার জন্য অন্যের কাছে হাত পাততে হবে এমন পরিস্থিতি থাকা উচিত নয়।
“সিলেটে প্রায় সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও মানসম্মত শিক্ষার ক্ষেত্রে আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। এজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রবাসী সমাজ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন,“সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে সিলেটকে শুধু অর্থনীতিতে নয়, শিক্ষার মানদণ্ডেও দেশের শীর্ষ অঞ্চলে পরিণত করা সম্ভব হবে।”
সভায় প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।