Published : 07 Jan 2026, 12:12 PM
তীব্র শীতে নওগাঁর মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বুধবার জেলায় রেকর্ড করা হয়েছে মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঝলমলে রোদ থাকলেও ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে হাড়কাঁপানো শীত অনুভূত হচ্ছে। নিম্নআয়ের মানুষ, শ্রমজীবী ও কৃষকদের জীবিকার তাগিদে তীব্র শীতে উপেক্ষা করেই ঘর থেকে বের হতে হচ্ছে।
এদিকে প্রচণ্ড ঠান্ডায় জেলার ইরি-বোরো বীজতলা ক্ষতির মুখে পড়েছে। হাসপাতালগুলোতে শিশু ও বয়স্কদের ভর্তির চাপ বেড়েছে।

উত্তরের এ জেলায় ভোর থেকেই ঘন কুয়াশায় আড়াল হয়ে যাচ্ছে চারপাশ; দেখা মিলছে না সূর্যের। কনকনে ঠান্ডা আর উত্তরের হিমেল বাতাসে কাঁপছে শহর-গ্রাম।
বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া ইচ্চ পর্যবেক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, বুধবার সকাল ৯টায় নওগাঁয় ৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই মৌসুমের সর্বনিম্ন। আগের দিন তাপমাত্রা ছিল ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
গত চারদিন ধরে ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা না মেলেয় বেড়েছে শীতের তীব্রতা। অনেকেই শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন আগুন জ্বালিয়ে।

শৈত্যপ্রবাহের কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাতে ঘর থেকে বের হচ্ছে না কেউ। তবে রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশার চালকদের প্রয়োজনের তাগিদে ঘন কুয়াশারও মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে।
শহরের রিকশা চালক এনামুল বলছিলেন, “তীব্র শীতের কারণে সকালে ঘর থেকে কাঁপুনি নিয়ে বের হতে হয়। তীব্র শীতে গাড়ি চালানো খুবই কষ্টের। হাত-পা কাঁপে। কিন্তু সংসার তো চালাতে হবে।
“শীতের কারণে লোকজন কমে যাওয়ায় আয়ও তমে গেছে। আগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা রোজগার হলেও এখন তা অর্ধেকে নেমেছে।”
ঘন কুয়াশার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে ইরি-বোরো বীজতলা। অনেক বীজতলা লালবর্ণ ধারণ করেছে; অনেক বীজতলা মরে যেতে শুরু করেছে।

মান্দা উপজেলার বড়গাছা গ্রামের বুলবুল আহমেদ বলছিলেন, গত কয়েকদিনের ঘনকুয়াশার কারণে তার বীজতলা লাল বর্ণ ধারণসহ মরে যেতে শুরু করেছে। কুয়াশা না কমলে বীজতলঅর ব্যাপক ক্ষতি হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হুমায়রা মণ্ডল বলেন, “কুয়াশা এবং শৈত্যপ্রবাহ থেকে ইরি-বোরো বীজতলা রক্ষায় বীজতলা পলিথিনে মুড়িয়ে এবং রাতে পানিতে ডুবিয়ে রাখার পরামর্শ দিচ্ছি। এই পরামর্শ মেনে চললে বীজতলার খুব একটা ক্ষতি হবে না। একই সঙ্গে এই তীব্র শীতের মাঝে ইরি-বোরো রোপন না করার ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে চাষিদের।”
এর ফলে ইরি-বোরো চাষাবাদ কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলে জানান এ কৃষি কর্মকর্তা।

হুমায়রা বলেন, জেলায় এ বছর ১ লাখ ৯২ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমিতে ইরি বোরা চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এ জন্য বীজতলা তৈরি করা হয়েছে ৮ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে।
হঠাৎ করে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় বৃদ্ধ ও শিশুরা অসহায় জীবন যাপন করছে। গরম কাপড়ের অভাবের ছিন্নমূল মানুষ বেশি কষ্ট পাচ্ছে।
নওগাঁ জেলা ত্রান ও পুর্ণবাসন কর্মকর্তা আশেকুর রহমান জানান, জেলায় এ বছর দুস্থ, দরিদ্র ও শীর্তাতদের জন্য ৩০ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া শীতবস্ত্র ক্রয়ের জন্য আরো প্রায় ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা বরাদ্দ এসেছে। এই টাকা দ্রুত দিয়ে শীতবস্ত্র কিনে বন্টন করা হবে।
এদিকে শীতের সঙ্গে শীতজনিত রোগের প্রকোপও বেড়েছে জেলায়। হাসপাতালগুলোতে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের বেশি দেখা গেছে।

নওগাঁ সদর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আরএমও ডা. আবু জার গাফফার বলেন, “তীব্র শীতের কারণে শিশ ও বষস্কসহ অনেকে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রতিদিন ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে গড়ে ২০০ থেকে ২২০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন।”
তিনি বলেন, “শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে বুধবার জেলায় ভর্তি আছে ২১৫ জন রোগী। এদের মধ্যে ডায়রিয়া আক্রান্ত ৩২ জন। শিশু ও বয়স্কদের সংখ্যাই বেশি।”
এ ছাড়া জেলার অপর ১০ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শীতজনিত ডায়রিয়াসহ নানা রোগে প্রতিদিন গড়ে আরো শতাধিক রোগী ভতি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।