Published : 09 Sep 2025, 05:54 PM
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদ ও পুনর্বহালের দাবিতে চলমান আন্দোলনে মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে; যিনি তীব্র গরমে ‘হিটস্ট্রোক’ করে মারা গেছেন বলে দাবি স্বজনদের।
মঙ্গলবার সকাল থেকে দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশদ্বার ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা গোল চত্বরসহ দুটি মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনকারীরা। এতে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা।
অবরোধের কারণে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যানচলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানান ভাঙ্গা থানার ওসি মো. আশরাফ হোসেন।
মৃত হাবিবুর রহমান হবি মোল্যা (৫০) উপজেলার চরকান্দি এলাকার বাসিন্দা ও মুদি দোকানি। তিনি আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত ৪৬টি সংসদীয় আসনে পরিবর্তন এনে গেজেট প্রকাশ করা হয়। গেজেটে ফরিদপুরের দুটি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ এর অন্তর্গত ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ও হামিরদী ইউনিয়ন পাশের নগরকান্দা উপজেলার সঙ্গে অর্থাৎ ফরিদপুর-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এতে ফুসে ওঠে ভাঙ্গার দুই ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
আসন পুনর্বহালের দাবিতে সকাল ৮টা থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন এলাকাবাসী। এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা গোলচত্বর, ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সাতটি স্থানে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে, গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি ফেলে ও বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।
এতে ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সব যানবাহন বন্ধ হয়ে যায়। বিকাল ৫টা পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের সড়কে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

অবরোধের কারণে অনেককে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। বিশেষ করে জরুরি কাজে বের হওয়া যাত্রীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঢাকা থেকে আসা পরিবারের পাঁচ সদস্য নিয়ে হেঁটে যেতে দেখা গেছে একটি পরিবারকে। তাদের সঙ্গে লাগেজ ও দুজন শিশু রয়েছে।
জানতে চাইলে হাবিবুর রহমান বলেন, প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে ও ভ্যানে করে আসছেন তিনি। যেখানে অবরোধ সেখানে হেঁটে যেতে হচ্ছে তাদের। মানুষকে ভোগান্তি করে আন্দোলনের কোনও মানে হয় না বলে ক্ষোভ দেখান তিনি।

বিক্ষোভকারীরা জানান, সকাল ১০টায় ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আলগী ইউনিয়নের বাসিন্দারা সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় হাবিবুর অসুস্থবোধ করলে, পাশেই নিজের মুদি দোকানে অবস্থান নেন। বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জোবায়ের নাদিম বলেন, হাসপাতালে তাকে মৃত অবস্থায় আনা হয়। তবে ‘হিটস্ট্রোকের’ বিষয়টি পরিবারের কেউ জানাননি।
ওসি আশরাফ হোসেন বলেন, আন্দোলনে গিয়ে ‘হিটস্ট্রোকে’ মারা যাওয়ার বিষয়টি কেউ তাকে জানায়নি। ওই ব্যক্তি দোকানের ভেতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে শুনেছেন তিনি।