সিরাজগঞ্জে নিজ ঘরে বৃদ্ধা খুন: থানা পুলিশ-সিআইডি পারেনি, তদন্তে সফল পিবিআই

ঘটনা ধামাচাপা দিতে মোমেনার মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টাও করেন তারা।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Jan 2024, 03:59 AM
Updated : 30 Jan 2024, 03:59 AM

মেয়ের সংসারে আর্থিক অনটনের কারণে নিজের জমি বিক্রি করে টাকা দেওয়াই কাল হয়েছিল সিরাজগঞ্জের বৃদ্ধা মোমেনা বেওয়ার।

পুলিশের তদন্ত সংস্থা পিবিআই সাত বছর পর জানিয়েছে, নিজের প্রয়াত ছেলের স্ত্রী ও নাতি মিলে শ্বাসরোধে হত্যা করেছিল তাকে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে মোমেনার মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা হিসেবে চালানোর চেষ্টাও করেন তারা।

সোমবার সকালে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান সিরাজগঞ্জ পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম।

২০১৬ সালে মোমেনার মরদেহ উদ্ধাদের পর এটি হত্যা নিশ্চিত হলেও থানা পুলিশ ও সিআইডি জানতে পারেনি কারা করেছে এই কাজ। পরে তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। গ্রেপ্তার করা হয় নিহতের পুত্রবধূ নাজমা খাতুন ও নাতি (ছেলের ঘরের) আব্দুর রাজ্জাক রনিকে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ৭০ বছর বয়সি মোমেনার এক ছেলে ও আট মেয়ে ছিল। স্বামী আব্দুল গণি মারা যাওয়ার পর তিনি ছেলে আব্দুল মান্নানের সঙ্গে থাকতেন। মান্নান মারা যাওয়ার পর পুত্রবধূর সঙ্গেই থেকে যান।

২০১৬ সালের ২৭ মে সন্ধ্যায় গলায় শাড়ি পেঁচানো অবস্থায় মোমেনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ময়নাতদন্তে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার প্রমাণ মেলে।

মোমেনার (মেয়ের ঘরের) নাতি আমিরুল ইসলাম বাবু তিন জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরও দুই/তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

এজাহারে তিনি বলেন, মোমেনা জমি বিক্রি করে তার এক মেয়েকে টাকা দেওয়ায় ছেলের বউয়ের সঙ্গে মনোমালিন্য হয়। এর জেরেই এ হত্যা।

উল্লাপাড়া থানা পুলিশ সাত মাস তদন্ত করার পর মামলাটি যায় অপরাধ তদন্ত সংস্থা সিআইডির কাছে। তারা চার বছর পর কোনো আসামিকে শনাক্ত করতে না পেরে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।

বাদী নারাজি দিলে আদালত তদন্তের দায়িত্ব দেয় পিবিআইকে।

মোমেনার নাতি (ছেলের ছেলে) আব্দুর রাজ্জাক রনি গ্রেপ্তার হলেও তার কাছ থেকে কোনো তথ্য পায়নি পিবিআই।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার শাহজাহানপুর রেলওয়ে কলোনিতে থেকে মোমেনার বিধবা পুত্রবধূ নাজমা খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন তাকে আদালতে হাজির করলে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

পরে তাকে সিরাজগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয় বলে জানান জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম।

[প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক]