কক্সবাজারে সরকারি জমিতে মার্কেট বানাচ্ছে কালেক্টরেট চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতি

অতিরিক্ত ডিসি নিষেধ করা সত্ত্বেও নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে।

কক্সবাজার প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 August 2022, 03:39 PM
Updated : 6 August 2022, 03:39 PM

কক্সবাজারে সরকারি জমিতে মার্কেট নির্মাণ করছে জেলা কালেক্টরেট চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতি। এর আগে সেখানে মসজিদ নির্মাণের ব্যানার টানিয়ে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এই সমিতিটির বিরুদ্ধে।

পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পাশের এই জমি থেকে সব স্থাপনা উচ্ছেদের পক্ষে স্থানীয় দুদক প্রতিবেদন পাঠিয়েছে প্রধান কার্যালয়ে, কিন্তু গত সাত মাসেও প্রধান কার্যালয় থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি।

থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন গণপূর্ত বিভাগের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমান। কিন্তু সেখান থেকেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আরিফুর রহমান বলেন, “জেলা কালেক্টরেটের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতি গণপূর্ত বিভাগের সাত শতক জমি ২০ বছর ধরে অবৈধভাবে ভোগদল করছে। গত বছর নভেম্বর তারা সেখানে পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করে। বিষয়টি নজরে এলে গণপূর্ত বিভাগ আপত্তি জানায়। কিন্তু আপত্তি অমান্য করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত রাখে তারা।

“গত বছর ৩০ নভেম্বর আমি বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় অবৈধভাবে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগে সমিতির বিরুদ্ধে একটি জিডি করি। অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক ও কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করি। কিন্তু কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এখন দখলকৃত জায়গায় বহুতল ভবনের নিচতলা নির্মাণ শেষ করেছে ওই সমিতি। নির্মাণকাজ এখনও অব্যাহত।”

অভিযোগ পেয়ে চলতি বছর ৩১ জানুয়ারি দুদক খতিয়ে দেখে।

দুদকের কক্সবাজার সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “অভিনব (মসজিদের ব্যানারে) প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি জায়গা দখল করার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

“ওই সমিতির উদ্যোগে নির্মিত ও নির্মাণাধীন সব ধরনের স্থাপনা উচ্ছেদ করে সরকারি জায়গা উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সুপারিশ আকারে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয় প্রায় সাত মাস আগে। কিন্তু এখনও প্রধান কার্যালয় থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা আসেনি।”

এ বিষয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দায় স্বীকার করেন।

হাশেম বলেন, “প্রস্তাবিত মসজিদ ও মার্কেট নির্মাণের জন্য সমিতির উদ্যোগে সভাপতিসহ পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি রয়েছে।”

এমনকি জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সমিতি থামেনি।

অতিরিক্ত ডিসি (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ বলেন, “যেহেতু কালেক্টরেট চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারী কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের, সেহেতু বিষয়টি জেলা প্রশাসনের ওপর বর্তায়। এজন্য আমি নিজে গিয়ে ভবন নির্মাণ না করতে বলেছি। আমি তাদের পরিষ্কার বলে দিয়েছি, জমিটি গণপূর্ত বিভাগের। গণপূর্ত বিভাগের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের বন্দোবস্তও দেওয়া যাবে না। বন্দোবস্ত পেতে হলে গণপূর্তের লিখিত অনুমতি লাগবে।”

বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মসজিদের নামে অনুদানদাতারা।

সরওয়ার আলম নামে এক ব্যক্তি ১০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছেন দাবি করে বলেন, “পরে জানতে পারি, মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত জায়গাটি গণপূর্ত বিভাগের। জায়গার মালিকানা নিয়ে সমিতির সঙ্গে গণপূর্ত বিভাগের বিরোধ রয়েছে। মূলত বাণ্যিজিক বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে প্রতারণার উদ্দেশে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক