Published : 26 Jun 2026, 08:48 PM
কুমিল্লা নগরীতে মাদকবিরোধী মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের বাড়িঘরে হামলার সময় গুলিবিদ্ধ সেই শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো বের করা যায়নি গুলি।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে শিশুটির বাবা ছয়জনের নাম উল্লেখসহ ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন; এর মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় ওসি তৌহিদুল আনোয়ার।
শুক্রবার চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে আহত শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেছেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “মানুষ নিরাপদে থাকার জন্য যত প্রচেষ্টা আছে, আমরা তা করে যাচ্ছি। যারা এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত তারা যেখানেই থাকুক তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ প্রেম (১২) নগরের কাটাবিল এলাকায় ইউনুছ মিয়ার ছেলে। ইথান কাঁটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।
আসামিদের মধ্যে সাব্বির ও অপু নাম জানালেও বাকিদের নাম-পরিচয় জানায়নি পুলিশ।
শিশুটির বাবা ইউনুস মিয়া বলেন, “কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা গুলি বের করতে না পারায় সন্ধ্যায় ছেলেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গুলি বের করা হয়নি।
“ক্ষত স্থান থেকে অনেক রক্ত বের হচ্ছে। আমরা রক্ত দিচ্ছি। বড় সার্জন আসলে গুলি বের করতে অপারেশন করা হবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে তা কখন এখনো জানতে পারিনি।”
ইথানের মা সোনিয়া আক্তার বলেন, “আমার একমাত্র ছেলেটা টিফিনের বিরতিতে বাসায় আসার পথে গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে ছাড়া বাঁচব না। ছেলেটা মাঝে মধ্যে চোখ খুলছে। ছোট্ট এ শরীর থেকে অনেক রক্ত বের হচ্ছে। ছেলেটার খুব কষ্ট হচ্ছে।”
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. শাহজাহান বলেন, “গুলি ওই ছেলের শরীরের ফুসফুস পর্যন্ত আঘাত এনেছে। তাই, আমরা ঝুঁকি নিতে চাইনি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশা করি বুলেটটি বের করা সম্ভব হবে।”

হামলা ও স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধের ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকালে আলাদা মানববন্ধন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা ও মহানগর শাখা এবং জামায়াতে ইসলামীর যুব শাখা। মানববন্ধনে এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়।
ঘটনার পর রাতেই কাটাবিল এলাকা পরিদর্শনে যান কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু এবং কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম।
পরে রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জেলা প্রশাসন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও রাজনৈতিক নেতাদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্রের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে গিয়েছিলাম। এমপি হিসেবে আমি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ঘটনার দায় এড়াতে পারি না। জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে রাতেই জরুরি সভা করেছি।”

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে কাঁটাবিল এলাকায় মাদকবিরোধী মানববন্ধন করে ‘নাগরিক কমিটি’। সেখানে দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় একদল লোক। এ সময় স্কুলশিক্ষার্থীসহ পাঁচজন আহত হন।
স্কুলের শিক্ষকদের ভাষ্য, টিফিনের বিরতিতে ইথান বাসায় যাচ্ছিল। তার বাবা ইউনুস মিয়া নগরীর সিটি পার্কের একটি রাইডের কর্মচারী।
ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, রাতে মামলার পর একজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।
কুমিল্লায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে শিশু গুলিবিদ্ধ