Published : 06 Jul 2025, 06:05 PM
শেরপুর জেলা সদর থেকে গাজীরখামার হয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলায় যাওয়ার সড়কটি চার বছর ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সংস্কারের অভাবে সড়কের কোথাও কোথাও সৃষ্টি হয়েছে গভীর গর্ত।
খানাখন্দে ভরা সড়কে যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। এতে নষ্ট হচ্ছে যানবাহনের যন্ত্রাংশ; প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
নালিতাবাড়ী উপজেলাসহ আশেপাশের ইউনিয়নগুলোতে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি যেন মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বিপুল সংখ্যক মানুষ। সড়কটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

শেরপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলছেন, ওই সড়কটি সংস্কারে একটি বড় প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় সদর উপজেলার কামারেরচর থেকে গাজীরখামার, নালিতাবাড়ী হয়ে হালুয়াঘাট পর্যন্ত সড়ক সংস্কার করা হবে।
স্থানীয়রা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কাটি দিয়ে দুটি পৌরসভা ও পাঁচটি ইউনিয়নের বিপুল সংখ্যক মানুষ জেলা সদর ও নালিতাবাড়ী উপজেলায় যাতায়াত করেন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়কটি প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশস্তকরণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। চার বছর পর ২০২০ সালে দায়সারাভাবে শেষ হয় সংস্কার কাজ। যার কারণে এক বছরও টেকেনি ওই সড়কটির স্থায়িত্ব। রাস্তাটির অবস্থা এতটাই খারাপ যে, তা এখন জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নালিতাবাড়ী অংশের অবস্থা মোটামুটি ভালো থাকলেও শেরপুর সদরের পুরো অংশ বেহাল। কোথাও খানাখন্দ, আবার কোথাও দেড় থেকে দুই ফুট গভীর গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচলে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। ভাঙা সড়কে চলাচলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যানবাহন। অহরহ ঘটছে দুর্ঘটনা। শুকনো মৌসুমে একটু চলাচল করা গেলেও বর্ষা এলে অন্তহীন দুর্ভোগ বেড়ে যায়।
সদর উপজেলার গাজীরখামার বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পাকা সড়কের কোনো চিহ্নই নেই। পুরো সড়ক ভেঙে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বাজারের লোকজন পুরনো ইট-সুরকি ফেলে সড়কটি চলাচলের যোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছেন। কিছুদূর পর পরই চোখে পড়ে বড় বড় গর্ত। ভাঙা-চোরা এ সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ওই সড়কে চলাচলকারী স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী, আর সাধারণ যাত্রীরা।

ওই সড়কপথে যাতায়াতকালে পথচারী খোকন মিয়া বলেন, “ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে গাজীরখামার বাজার দিয়ে হেঁটে চলাই কঠিন। কখন জানি কোন গাড়ি উল্টে শরীরের উপরে পড়ে যায় তার কোন ঠিক-ঠিকানা নেই। এই সড়কটি দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।”
গাজীরখামার বাজারের শিক্ষার্থী আক্রাম মিয়া বলেন, “এই সড়কটি এখন মানুষের চরম ভোগান্তির কারণ। বিশেষ করে কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেয়ার ক্ষেত্রে এত কষ্ট যা বলে বেঝানো যাবে না। এই সড়কের শালচূড়া, গাজীরখামার বাজার ও চৈতনখিলা বটতলা বাজার এলাকায় ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
“সড়ক ভাঙাচোরার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে দুর্দশার অন্ত নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সড়কটি মেরামতের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এটাই আমরা কামনা করছি।”
অটোরিকশা চালক ফজলু মিয়া বলেন, “এই সড়কটা আমাদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়কটা ঠিক করতে চার বছর সময় লেগেছিল। অথচ এক বছর যাইতে না যাইতেই আবার ভেঙে গেছে। এখন আর ঠিক করার নাম নাই। গাড়ি নিয়া চলাফেরা করতে খুবই অসুবিধা।”

পথচারী মো. আরিফ হোসেন বলছিলেন, বেহাল এই সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে সুস্থ মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। হালকা যানবাহন নষ্ট হচ্ছে। ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে প্রতিদিন।
দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে জনসাধারণের ভোগান্তি লাঘব করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন বাবর আলী, মো. আল-আমিনসহ স্থানীয় আরও অনেকেই।
শেরপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “প্রকল্পটি অনুমোদন হয়ে এলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে। গাজীরখামার বাজারসহ যেসব জায়গায় বড় খানা-খন্দ রয়েছে, সেগুলো আপাতত জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করে দেওয়া হবে।”