Published : 05 Jan 2026, 02:02 PM
“ঠান্ডায় কাজে গেলে হাত-পা জ্বালাপোড়া করে, ঠিকমতো কাজ করতে পারি না। কিন্তু কাজ না করলে পেটে ভাত যায় না।” কথাগুলো বলছিলেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ভিতরকুটি গ্রামের বক্তার আলী।
কুড়িগ্রামে শীত ও ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত শীতল বাতাসে বাড়ছে কাঁপুনি।
গত কয়েকদিন থেকে সূর্যের দেখা মিলছে না। এ অবস্থায় কাজে বের হতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েছেন খেঁটে খাওয়া সাধারণ মানুষ; বিশেষ করে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠী।
কুড়িগ্রাম রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, সোমবার সকাল ৬টায় জেলায় সবনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের দিনমজুর খলিলুর রহমান ও জয়দেব বলছিলেন, শীতের কারণে তাদের সকালে কাজে যাইতে দেরি হয়। ঠান্ডায় হাত-পা চলতে চায় না, তবু কাজ না করে উপায় নাই।
নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ভিতরকুটি গ্রামের সরকারি জায়গায় বসবাসকারী ৬৫ বছর বয়সী দরিদ্র ছকিনা বেওয়ার শীতে নাজেহাল অবস্থা।
তিনি বলছিলেন, “এই শীতে রাইতে দুই একান খ্যাতা গাঁত দিয়ে শুতি খুব ঠান্ডা লাগে। কাইয়ো মোক কম্বল দিলো না।”
এদিকে ঠান্ডার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপও বাড়ছে। হাসপাতালগুলোতেও সর্দি, জ্বর ও ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে কথা হয় ছেলেকে চিকিৎসা করাতে আসা খায়রুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, “অতিরিক্ত ঠান্ডায় আমার ছেলের কয়েক দিন থেকে ডায়রিয়া শুরু হয়েছে।”
জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে বলে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন।
তিনি বলছেন, “কিছু রোগী আউটডোরে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। আবার কিছু কিছু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।”
কুড়িগ্রাম জেলা শাখার ত্রাণ ও পূর্ণবাসন কর্মকতা আব্দুল মতিন জানান, নয়টি উপজেলায় ২৫ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ চলছে। নগদ ৪০ লাখ টাকা এখনও মজুদ আছে।