Published : 24 May 2026, 07:00 PM
মানিকগঞ্জে খামারি ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোরবানির জন্য বিপুল সংখ্যক গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে।
তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভালো দাম পাওয়া নিয়ে শঙ্কা ও প্রত্যাশা দুই-ই রয়েছে খামারিদের মধ্যে।
এদিকে ভারতীয় গরুর অবৈধ অনুপ্রবেশ, পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, জাল টাকা, চাঁদাবাজি ও অজ্ঞান পার্টির আতঙ্কে উদ্বেগে রয়েছেন খামারি ও ক্রেতারা।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান বলেন, “জেলায় ৯৯ হাজার ৭১১টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। তার মধ্যে গরু ৫৪ হাজার ১৯৫টি ও ছাগল-ভেড়া ৪০ হাজার ৫৬৩টি।
“জেলার চাহিদা মিটিয়ে ৩৩ হাজার ৮৪১টি পশু জেলার বাইরে বিক্রি হবে।”

প্রান্তিক খামারিরা বলছেন, সারাবছর গরু ছাগল পালন করে কোরবানি ঈদে একটা ভালো দাম পাবেন বলে আশায় থাকেন। তবে ভারতীয় গরু এ দেশে আসলে তাদের সারাবছরের পরিশ্রম বৃথা হয়ে যায়।
সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের খানবানিয়াড়া এলাকার ‘জামান আনজুম এগ্রো’ এর কর্ণধার নাফিজা আনজুম খান বলেন, “২০২১ সাল থেকে আমি আর আমার হাসবেন্ড মিলে ফার্ম করি। এবার ৩৬টি ষাড় গরু কোরবানির জন্য প্রস্তুত করেছি।”
আরেক কর্ণধার নুর এ জামান পিয়াস বলেন, “দশটি ষাড় গরু বিক্রি হয়ে গেছে। আর ২৬টি গরু রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ক্রেতারা গরু কিনতে আসছেন।”

ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়নের নিমতা-মাশাইল এলাকার খামারি সেলিম মিয়া বলেন, “গত বছর গরমে বাড়ি থেকে একাধিক গরু মারা গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলাম। এবার ভালো দামের আশায় আছি।”
দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া চরের খামারি কাশেম আলী বলেন, “চরে ঘাস অনেক থাকলেও গরু পালনে খরচ কম না। আমাগোও খরচ মেলা। এবার ভালো দাম পাইলেই আমরা খুশি হমু।”

হরিরামপুর উপজেলার লেছড়াগঞ্জ চরের খামারি বজলুর রহমান বলেন, “এবার দুইডা ষাড় গরু কুরবানির জন্য পালছি। ভাল দামে বেচতে পারলে ভালো লাগবো।”
হরিরামপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম জানান, উপজেলায় কোরবানির জন্য ৪ হাজার ১ হাজার ৮২টি গরু, ১৮টি মহিষ, ১০ হাজার ৮২৯টি ছাগল এবং ১ হাজার ৬৭৮টি ভেড়াসহ মোট ১৬ হাজার ৭০৭টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে।