করতোয়ায় নৌকাডুবি: ৪০ কিলোমিটার দূরে আত্রাইয়ে মিলল ৭ লাশ
সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় নতুন করে উদ্ধার অভিযান শুরু হচ্ছে; রাজশাহী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম থেকে আসা ডুবুরি দল তল্লাশিতে অংশ নিচ্ছেন।
পঞ্চগড়ের বোদায় করতোয়া নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনায় নিখোঁজ সাত জনের মরদেহ দিনাজপুরের বীরগঞ্জ ও খানসামা উপজেলার আত্রাই নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন সময়ে মরদেহগুলো ভেসে আসলে স্থানীয়রা পুলিশের খবর দেয়। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে লাশগুলো উদ্ধার হয়।
পুলিশ বলছে, এর মধ্যে তিন শিশু, চারজন নারী রয়েছেন। নৌকা ডুবির স্থান থেকে আত্রাই নদীর এই স্থানের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। স্রোতের টানে এক রাতে লাশগুলো এতদূর ভেসে এসেছে।
বীরগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত সরকার সাংবাদিকদের বলেন, তারা বীরগঞ্জ আত্রাই নদীর কাশিমনগর বাদলা ঘাট থেকে আড়াই বছরের একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছেন। শিশুটির নাম সুব্রত রায়। সে বোদা উপজেলার মাড়েয়া গ্রামের প্রফুল্ল রায়ের ছেলে।
খানসামা থানার ওসি চিত্ত রঞ্জন বলেন, আত্রাই নদীর জিয়া সেতুর কাছ থেকে চারজন নারী ও দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে তাদের নাম-পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
রোববার মহালয়া উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নৌকায় করে বোদা উপজেলার বরদেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিলেন উৎসবে যোগ দিতে। দুপুরের দিকে মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাট এলাকায় একটি নৌকা উল্টে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, নৌকাটিতে দেড় শতাধিক যাত্রী ছিল। কিছু মানুষ সাঁতরে নদীর তীরে ফিরতে পারলেও অনেকে নিখোঁজ থাকেন। নৌকাডুবির পরপরই স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা নামেন তল্লাশিতে।
রোববার ২৫ জনের লাশ উদ্ধারের পর রাতে নদীতে তল্লাশি সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছিল, সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় নতুন করে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। রাজশাহী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম থেকে আসা ডুবুরি দলও এখন অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। সবশেষ সোমবার বিকাল পর্যন্ত ৪০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও অর্ধশতাধিক।
নিহতদের স্বজনরা করতোয়া নদীর পাড়ে প্রিয়জনের লাশের জন্য অপেক্ষা করছেন। তাদের আহাজারিতে সেখানে এক হৃদয়বিদারক অবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরেও লাশ না পেয়ে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
বোদা থানার ওসি সুজয় কুমার রায় দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ধারণা করা হচ্ছে, স্রোতের টানে হয়তো অনেক লাশ আশপাশের নদীতে ভেসে গেছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করছে। বোদা উপজেলার পাশেই দেবীগঞ্জ উপজেলা; তার পরেই দিনাজপুরের খানসামা উপজেলা। আজ সেখান থেকেও লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।”
পুলিশ নিখোঁজদের উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে বলেও জানান ওসি।
হিমালয়ের পাদদেশ থেকে আসা করতোয়া নদী উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়নের আউলিয়া ঘাট এলাকায় এমনিতে খুব খরস্রোতা নয়; গভীরতাও খুব বেশি নয়। কিন্তু গত দুদিনের টানা বর্ষণের পর উজানের ঢলে নদীতে পানি বেড়েছে অনেকটা।
নৌকা ডুবির ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর শুধু করতোয়া নয়; আশপাশের পুনর্ভবা, আত্রাই নদীর পাড় ধরেও স্বজনদের ছুটতে দেখা গেছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দলের নৌকার সঙ্গে তাল মিলিয়েও অনেকে চলছেন ভাটির দিকে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, স্রোতের টানে হয়তো লাশগুলো আশপাশের নদ-নদীতে চলে গেছে। করতোয়া নদী থেকে প্রচুর বালু ও পাথর উত্তোলন করে থাকে শ্রমিকরা। হতে পারে, লাশ সেই গর্তে পড়ে বালুতে ঢাকা পড়ে গেছে।
আরও পড়ুন:
