Published : 12 Jun 2023, 01:28 AM
নরসিংদীর সদর উপজেলার শীলমান্দী ইউনিয়নের বাগহাটা গ্রামে বসত ঘর থেকে এক প্রবাসীর স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
সানজিদা আক্তার (২৬) নামের মারা যাওয়া ওই নারীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। শ্বশুর বাড়ির লোকজন অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, ফাঁসিতে ঝুলে ‘আত্মহত্যার’ ঘটনা এটি।
রোববার রাত ১১টায় নরসিংদী মডেল থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার উপ পরিদর্শক কামরুজ্জামান।
নিহত গৃহবধূ মাধবদী থানার পাচঁদোনা ইউনিয়নের চাকশাল গ্রামের মো. আলতাফ হোসেনের মেয়ে। তার স্বামী কর্মসূত্রে বিদেশে থাকেন।
নিহতের চাচাতো বোন নাজমা আক্তার জানান, এদিন বিকালেও তিনি বোনের সঙ্গে কথা বলেছেন। সন্ধ্যায় তার মৃত্যুর খবর পান।
তার অভিযোগ, এটা পরিকল্পিতভাবে হত্যার ঘটনা। সানজিদার দুই দেবর আল আমিন (২৮), মাঈনুল (২০) ও ননদ সুমি আক্তার (১৮) জড়িত ‘হত্যাকাণ্ডের’ সঙ্গে।
তার দাবি, এর আগেও ওই গৃহবধূকে মারধর করে গর্ভের বাচ্চা নষ্ট করে দিয়েছেন দেবররা। মারা যাবার খবর পেয়ে তার বাড়িতে গিয়ে লাশ শোয়া অবস্থায় পেয়েছি।
“যেরকম আলামত দেখতে পাচ্ছি কোনভাবেই বিশ্বাসযোগ্য না যে সানজিদা আত্মহত্যা করেছে। সানজিদার স্বামী প্রবাসী। দীর্ঘদিন ধরে তাদের সংসারে টানাপড়েন চলছে, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।”
সানজিদার মা কুলসুম বেগম বলেন, “আট বছর ধরে আমার মেয়ে স্বামী ছাড়া সংসার করছে। এতদিন মারা যায়নি এখন সে কেন মরবে? নিশ্চয় তাকে মারা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।”
উপপরিদর্শক কামরুজ্জামান জানান, সুরতহাল শেষে নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে লাশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় ছিল না। পুলিশ গিয়ে বারান্দায় চাদরে মোড়ানো অবস্থায় দেখতে পায়। শশুর বাড়ির লোকজনের দাবি আত্মহত্যার জন্য ফাঁসিতে ঝোলা অবস্থা থেকে বাঁচানোর জন্য ওই গৃহবধূকে নিচে নামিয়েছিলেন তারা। তবে বাঁচাতে পারেননি।
ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তদন্ত শেষে জানা যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের এক ননদের স্বামী সবুজ মিয়াকে (২৮) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।