Published : 07 Aug 2025, 05:05 PM
ফরিদপুরে দশ দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দর মণ প্রতি বেড়েছে হাজার টাকা। পাইকারি পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ২৫শ থেকে ২৬শ টাকা মণ দরে।
পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসাবে চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, চলতি মৌসুমে জেলার চাষিরা পাট নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করায় বাজারে ‘কম’ পেঁয়াজ সরবরাহ করছে। এতে পণ্যটির চাহিদা ঘাটতি হচ্ছে।
অন্যদিকে পাইকারি বাজারে দর বেড়ে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে ভোক্তা পর্যায়ে।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শাহেদুজ্জামান বলেন, “পেঁয়াজ উৎপাদনে দ্বিতীর বৃহত্তর জেলা ফরিদপুর। মৌসুমে এ জেলায় ৩৮ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছিল; যা থেকে উৎপাদন হয় ৬ লাখ ৭৭ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ।

“হঠাৎ করেই গত দশ দিনের ব্যবধানে ১৫’শ টাকার পেঁয়াজ পাইকারিতে ২৫’শ থেকে ২৬’শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে এর মূল্য ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি।”
যদিও মৌসুমের সময় পেঁয়াজের দর চাষি পর্যায়ে এক হাজার থেকে ১৫শ টাকা মনপ্রতি দর পেয়েছে। তবে পেঁয়াজ চাষিদের দাবি ছিল, পেঁয়াজ উৎপাদনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ২ হাজার থেকে ২২’শ টাকার দর পেলে তাদের লাভ হয়।
ফরিদপুরের কানাইপুরের ব্যবসায়ী তপন কুমার বলেন, “বর্তমানে বিদেশী পেঁয়াজের আমদানি নেই; এছাড়াও দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় চাহিদার সঙ্গে মিলছে না। এ কারণেই দাম বেড়েছে।”

বোয়ালমারীর পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান বলছিলেন, “জেলার চাষিরা এখন পাট জাগ দেওয়া, ধোয়া ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত বেশি। যে কারণে পাইকারি বাজার গুলোতে পেঁয়াজ আনছে কম।”
ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামানের সুরে সুর মিলিয়ে সালথার সাইফুর রহমান বলেন, “মৌসুমের সময় পেঁয়াজের চাষিরা দর পায়নি। এখন বড় বড় চাষি ছাড়া কেউর হাতে তেমন পেঁয়াজ নেই। যা আছে তা আড়তদারদের কাছে।
“এখন দাম বেড়েছে লাভ করছে আড়তদাররা। আমাদের তো যা হওয়ার হয়েছে।”
ফরিদপুরের কানাইপুর, সালথা, বোয়ালমারী ও নগরকান্দার বাজারগুলো খুচরা পর্যায়ে প্রকার ভেদে পেঁয়াজ বিক্রয় করতে দেখা যায় কেজি প্রতি ৬০ থেকে ৭৫ টাকায়। পেঁয়াজের এই লাগামহীর দরে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা।

ফরিদপুর শহরের চকবাজারে কাঁচা বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা গৃহিনী সাইদা আক্তার বলেন, “হঠাৎ করে কেনো পেঁয়াজের দামের এতো ব্যবধান হলো?। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনের দেখা উচিত।”
চাকরিজীবী রহমতউল্লাহ বলেন, “আমাদের মতো লিমিটেড আয়ের মানুষের এতো দামে কাঁচা পণ্য কেনা কষ্টকর।”
এ প্রসঙ্গে ফরিদপুরর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সোহরাব হোসেন বলেন, “জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় আমরা নিয়মিত বাজার তদারকির অভিযান পরিচালনা করছি। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী কেউ যদি অতিরিক্ত পেঁয়াজ মজুদ করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”