Published : 10 Nov 2025, 12:24 PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসুদ ও রাকসুর সাধারণ সম্পাদক-জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে।
রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে এ ঘটনা ঘটে। রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছে, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সভাপতিকে অপসারণ করে নতুন সভাপতি নিয়োগ সংক্রান্ত ফাইল ইস্যু করা নিয়ে জিএস সালাহউদ্দিন ও রেজিস্ট্রারের মধ্যে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “চিকিৎসা মনোবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা ২৩ দিন ধরে সভাপতির অপসারণ চেয়ে আন্দোলন করছে। বৃহস্পতিবার উপাচার্য তাদের এ দাবি মেনে নিয়েছেন এবং উপাচার্য স্বাক্ষরিত ফাইলটি রেজিস্ট্রার দপ্তরে পাঠিয়েছেন। কিন্তু চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানের সভাপতি রেজিস্ট্রার স্যারের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তিনি ইচ্ছাকৃত ফাইলটি আটকে রেখেছেন।
“বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আমার কাছে এসে জানতে চায় কেন কাগজ ইস্যু হচ্ছে না। আমি রেজিস্ট্রারকে ফোন দিলে তিনি ধরেননি। পরে অফিসে গিয়ে কথা বলতে চাইলে তার পিএস জানায়, স্যার বিএনপির সঙ্গে মিটিংয়ে আছেন।”
তিনি বলেন, “দ্বিতীয়বার গেলে একই কথা বলা হয়। তাই আমি ভেতরে ঢুকে জানতে চাই ফাইলটি কবে ইস্যু হবে। তখন তিনি বলেন ‘আজকে’।
“এরপরই তিনি আমাকে ‘গেট আউট’, ‘বেয়াদব’ ইত্যাদি বলতে থাকেন। এ সময় আমাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।”
রেজিস্ট্রার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সবসময় খারাপ ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ করেন আম্মার।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসুদ বলেন, “ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের নতুন সভাপতি নিয়োগ বিষয়ে শনিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমি সকালে থেকেই বিষয়টি বাস্তবায়নের কাজ করছিলাম।
“সেই সময় এনসিপি (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি) রাজশাহী মহানগরের নেতারা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন এবং বাইরে দুইজন ডিনও অপেক্ষা করছিলেন।”
ইফতিখারুল আলম অভিযোগ করে বলেন, “এই সময় জিএস সালাহউদ্দিন অপেক্ষা না করে হঠাৎ চেম্বারে ঢুকে পড়ে এবং ‘বেয়াদবি’ করে। সে অভিযোগ তোলে যে আমি ফাইল আটকে রেখেছি। অথচ তখনও বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছিল। তার এই আচরণ প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। তাই আমি তাকে গেট আউট বলেছি।
“সে ছাত্র রিলেটেড বিষয় না থাকলে রেজিস্ট্রার অফিসে এসে এভাবে কথা বলতে পারে না। এই ছেলে (জিএস) সব জায়গায় মাতব্বরি করে বেড়ায়। সে একটা বেহায়া ছেলে, ভিডিওতেই তার প্রমাণ আছে।”
এদিকে এই ঘটনায় নিজেদের অবস্থান জানিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজশাহী মহানগর শাখার আহ্বায়ক মোবাশ্বের রাজ ফেইসবুকে একটি পোস্ট দেন।
তিনি লেখেন, “সালাহউদ্দিন আম্মার ও রেজিস্ট্রার স্যারের বাকবিতণ্ডার সময় সেখানে বিএনপির কেউ ছিল না। আমার উপস্থিতিতে রাজশাহী মহানগর এনসিপির নেতৃত্ব উপস্থিত ছিল। আমরা শুধু সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু রেজিস্ট্রার স্যারের পিএস সম্ভবত আমাদেরকে বিএনপির কর্মী ভেবে ভুল তথ্য দেন, এখান থেকেই ভুল বোঝাবুঝির শুরু।”
এই ঘটনার পর প্রতিক্রিয়ায় রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন,“রেজিস্ট্রার অফিসে আম্মার ও শিক্ষক পরস্পরকে ধমকাচ্ছেন, অথচ বিএনপির নাম টেনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। সেখানে বিএনপির কেউ ছিল না।
“এনসিপির সঙ্গে নিয়মিত দেখা যায় আম্মারকে, অথচ এখন তিনি তাদের চিনেন না। গণতান্ত্রিক সমাজে যে কেউ আলোচনায় অংশ নিতে পারে, এতে আমাদের আপত্তি নেই। তবে বিএনপির নাম ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো অনৈতিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”