Published : 26 Oct 2025, 06:25 PM
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় স্বচ্ছ তদন্তের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন দুই শিক্ষার্থী।
শনিবার বিকাল ৩টা থেকে প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন তারা। একই দাবিতে তারা বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দুদিন প্রতীকী অনশন করেছিলেন।
অনশনরত শিক্ষার্থীরা হলেন- নাট্যকলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র সাদেক রহমান এবং দর্শন বিভাগের একই বর্ষের ছাত্র ও শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল।
সাদেক রহমান বলেন, “শখ করে কেউ অনশনে বসে না। সব পথ বন্ধ হলে মানুষ এই পথ বেছে নেয়। আমরা নিয়মের পথেই লড়ছি। দাবি পূরণ না হলে প্রশাসনকে আমাদের লাশের ওপর দিয়েই সিন্ডিকেট সভায় বসতে হবে।”
ফুয়াদ রাতুল বলেন, “নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগে আর্থিক লেনদেনের কল রেকর্ড ফাঁস হলেও প্রশাসন তা এআই–নির্মিত বলে ধামাচাপা দেয়। লিখিত পরীক্ষাতেও জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। স্বচ্ছ তদন্তের দাবিতে বারবার জানালেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আমরা আমরণ অনশনে বসেছি।”
এদিকে, শিক্ষার্থীদের অনশন কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়েছেন নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক হাবিব জাকারিয়া ও সহযোগী অধ্যাপক কাজী সুষ্মিন আফসানা।

অধ্যাপক হাবিব জাকারিয়া বলেন, “অভিযোগ ওঠার পরও বিভাগের সভাপতি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনায় বসেননি। প্রশাসনের প্রতি আস্থা রেখে আমি শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ খান ও নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মীর মেহবুবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
তবে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার।
জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নাট্যকলা বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত সংবাদ ও ফোনালাপের অডিও প্রকাশের বিষয়ে তদন্তে ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক এম আসাদুল হককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, রেজিস্ট্রারসহ কয়েকজনকে আইনি নোটিশ পাঠান নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাহাত ইসলাম (হৃদয়)।
নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথোপকথনের অডিও যুক্ত করে লিখিত অভিযোগে রাহাত উল্লেখ করেন, “নাট্যকলা বিভাগের চেয়ারম্যান স্যার আমাকে নিজ মুখে বলেছেন যে যদি আমি চাকরি পেতে চাই, তবে নির্দিষ্ট একটি প্রক্রিয়ায় অর্থ দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘অর্থ ছাড়া চাকরি পাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।’”