১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

নারী শিক্ষককে নিয়ে ‘বুলিং’, জাকসুর ২ সদস্যের অপসারণ দাবি

নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ চেয়ে উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 09 Apr 2026, 07:49 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:22 PM

টেলিভিশনের আলোচনা অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধার দেওয়া বক্তব্য ঘিরে ‘সাইবার বুলিং ও মানহানিকর’ পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাকসুর দুই সদস্য ও ছাত্রশক্তির এক নেতার বিরুদ্ধে। 

বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ চেয়ে সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক কামরুল আহসানের কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন। 

এতে জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক ও জাতীয় ছাত্রশক্তির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহসান লাবিব, কার্যকরী সদস্য মোহাম্মদ আলী চিশতি এবং ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (উত্তরাঞ্চল) আবু তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়ামের অপসারণ চাওয়া হয়েছে। 

পাশাপাশি স্মারকলিপিতে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জাকসুর অবস্থান জানতে চাওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা স্মারকলিপিতে বলেন, ১১ মার্চ থেকে আহসান লাবিব নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শিক্ষক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধার বিরুদ্ধে ফেইসবুকে ধারাবাহিকভাবে ‘মিথ্যাচার’ ও ‘অপপ্রচার’ চালিয়ে আসছেন; যা যাচাইবিহীন, ভিত্তিহীন এবং বিকৃতভাবে উপস্থাপিত। 

“রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধার বিস্তারিত বিশ্লেষণধর্মী বক্তব্যের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ উদ্দেশ্যমূলকভাবে বেছে নিয়ে বিকৃতভাবে আহসান লাবিব বারংবার প্রচার করে যাচ্ছেন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লাবিব পুরো টকশোতে বলা কথা কেটে শর্টস প্রচার করে সাইবার স্পেসে ‘বুলিং’, ‘স্লাটশেমিং’ ও ‘মানহানিকে’ সরাসরি উসকে দিচ্ছেন।”

এর সঙ্গে আরো যুক্ত আছেন মোহাম্মদ আলী চিশতী এবং আবু তৌহিদ মো. সিয়াম। তারা ‘জাবির সকল সংবাদ’, ‘একুশে সংবাদ ডটকম’ নামক অনলাইন পত্রিকা, ‘জাবিয়ান সুশীল সমাজ’, JU Updates নামের পেইজগুলোতে লাগাতার একইভাবে ‘মিথ্যা তথ্য, কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিজনক বক্তব্য’ প্রচার করে যাচ্ছেন বলে স্মারকলিপিতে বলা হয়।

শিক্ষার্থীরা কতগুলো দাবি তুলে ধরেন; তার মধ্যে আছে- প্রচারিত সব মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার করতে হবে, জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিবকে মিথ্যাচার, সাইবার বুলিং, মানহানি ও নারী হেনস্তার দায় নিয়ে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে, জাকসু কর্তৃপক্ষকে এই সাইবার হেনস্তার ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে, অভিযুক্তদের পদ থেকে অপসারণ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নাম ব্যবহার করে যে ধরনের এবং যতগুলো পেইজ আছে তাদের অ্যাডমিনদের পোস্টের মিথ্যাচারের জন্য দায়বদ্ধ করতে হবে এবং প্রশাসনের সরাসরি নজরদারি প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব বলেন, “স্নিগ্ধা রেজওয়ানা বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ নৃবিজ্ঞান বিভাগের আহ্বায়ক। বিভিন্ন টিভি টকশোতে তিনি আওয়ামী লীগের পক্ষে বয়ান উৎপাদন করেন। নিষিদ্ধঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠনকে নিয়ে এভাবে বয়ান উৎপাদন করার বিরুদ্ধে আলোচনা-সমালোচনা করা কোনোভাবেই ‘সাইবার বুলিং’ হতে পারে না। এটি অহেতুক অভিযোগ। 

“যারা আওয়ামী লীগের পক্ষ হয়ে কাজ করবে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে যৌক্তিক সমালোচনা জারি রাখব। আর আমার নামে সাইবার বুলিংসহ বিভিন্ন অভিযোগ টেনে যেসব দাবি করা হয়েছে, সেগুলোর কোনো যৌক্তিকতা নেই।” 

জাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “জাকসুর অফিসিয়াল প্যাড ব্যতীত অন্য সব মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্য সদস্যের ব্যক্তিগত। এর দায়ভার জাকসু নেবে না। তবে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য কাউকে অনলাইনে বুলিং করা সমর্থন করি না। কারো বিরুদ্ধে যদি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তা প্রশাসনকে জানানো উচিত।” 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মত জায়গায় এ ধরনের চর্চা ভয়াবহ একাডেমিক বিপর্যয়ের আভাস দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রেজওয়ানা করিম স্নিগ্ধা। তিনি বলেন, “সামাজিক মাধ্যমে এ ধরনের চর্চা ব্যক্তিকেন্দ্রিক হিসেবে দেখা ভীষণ ভুল হবে। এটি প্রক্রিয়াগত অবক্ষয়। এখানে প্রশাসনিক অদক্ষতাও রয়েছে। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ শিক্ষিতরা বসবাস করে, সেখানে এমন অযৌক্তিক, কূৎসিত কর্মকাণ্ড এক ভয়াবহ বার্তা দেয়। 

“আজকে রাজনৈতিক বয়ান বন্ধ করে দেওয়া হলে, আগামীকালকে তা একাডেমিক কিংবা  ব্যক্তিগত পর্যায়ে বয়ান বন্ধ করার দিকে ধাবিত হবে। আমি প্রশাসনকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছি, বাকিটা তারা দেখবেন।”