Published : 22 Jun 2026, 06:25 PM
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ৪০ দিনেও আসামিকে গ্রেপ্তার না করার প্রতিবাদ, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন একদল শিক্ষার্থী।
সোমবার বিকাল পৌনে ৪টার দিকে ‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চ’ ব্যানারে মুরাদ চত্বর থেকে মিছিল বের করেন তারা।
মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘ক্যাম্পাসে ধর্ষক ঘুরে, প্রক্টর কী করে’, ‘হয়রানির গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথে’, ‘নারীবান্ধব ক্যাম্পাস চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা।
মানববন্ধনে ‘নারী নিরাপত্তা মঞ্চের’ সংগঠক নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগি সামিয়া বলেন, ১২ মে সংঘটিত ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তি এখনো আইনের আওতায় আসেনি। এমনকি ৪০ দিনের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তার পরিচয় শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, আন্দোলনের মুখে প্রশাসন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতকে আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছিল। সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলেও জানানো হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো ফল পাওয়া যায়নি।
সোহাগির ভাষ্য, এ ঘটনায় যেমন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা প্রকাশ পেয়েছে, তেমনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। শুধু ১২ মে’র ঘটনাই নয়, পরবর্তী সময়েও ক্যাম্পাসে একাধিক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, “আমরা প্রশাসনকে বারবার বলেছি, জড়িত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়তো তাদের দায়িত্ব নয়, কিন্তু ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব অবশ্যই তাদের। সেই দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।”
আড়াই বছরে ক্যাম্পাসে নারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিপীড়নের ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ঘটনার কার্যকর সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ করেন সোহাগি।
তিনি বলেন, “আজকের নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতি একদিনে তৈরি হয়নি। প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তার ফলেই এই বাস্তবতা তৈরি হয়েছে।”
নারী শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছোট বা বড় যাই হোক না কেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে প্রশাসনের বিলম্বের সমালোচনা করে সোহাগি বলেন, প্রশাসন সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
“নারী নিরাপত্তা মঞ্চের পক্ষ থেকে আমরা তদন্ত প্রতিবেদন অবিলম্বে প্রকাশের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নারী নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার মত কোনো ঘটনা ঘটলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে”, বলেন তিনি।
মানববন্ধনে আরেক সংগঠক ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লামিশা জামান বলেন, পরিবারগুলো নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশের প্রত্যাশায় তাদের সন্তানদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা এমনও দেখেছি, দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা প্রকাশ্যে বলছেন, নিরাপত্তার দায়িত্ব তাদের নয়। তাহলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার- সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।”
তিনি বলেন, ঘটনার পর প্রায় আড়াই হাজার নারী শিক্ষার্থী ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত দাবিগুলোর কোনোটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি।
লামিশার অভিযোগ, প্রশাসন পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্তের তথ্য প্রকাশের কথা বললেও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। ছুটির মধ্যেও নারী নিরাপত্তা মঞ্চের পক্ষ থেকে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঈদের ছুটির সময় ক্যাম্পাসসংলগ্ন এলাকায় নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানির ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “একজন নারী শিক্ষার্থী প্রতিদিন নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে সেই ক্যাম্পাসকে নিরাপদ বলা যায় না।”
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব, তা পালনে ব্যর্থতার জবাবদিহি সংশ্লিষ্টদেরই করতে হবে বলে মনে করেন লামিশা।