Published : 27 Jul 2025, 12:45 PM
প্রথমবারের মতো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন-রুয়ার কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন হয়েছে।
নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ ও সংরক্ষিত নারী সদস্যসহ মোট ২৭টি পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
অ্যালামনাই কমিটির ৫১টি পদের মধ্যে বাকি পদগুলোর জন্য শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় দুটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়।
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন রুয়ার প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এফ নজরুল ইসলাম।
নির্বাচনকে ঘিরে বিতর্ক ও আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। ভোট শুরুর আগেই নির্বাচন বর্জন করেন বিএনপিপন্থী প্রার্থীরা।
বিএনপিপন্থী সদস্যদের অভিযোগ, নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়ায় রুয়ার গঠনতন্ত্র ‘লঙ্ঘন’ করা হয়েছে। ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে’ নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত এবং পুরনো সদস্যদের বাদ দিয়ে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।

তবে বিএনপিপন্থী অ্যালামনাইদের এ অভিযোগকে ‘ডাহা মিথ্যা’ দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, “উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হয়েছে।”
নির্বাচন ঘিরে বিতর্ক এবং গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে জানতে চাইলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, “রুয়ার একটি গঠনতন্ত্র রয়েছে। আমরা গঠনতন্ত্র মেনেই সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করেছি। গোটা দেশ থেকে ভোটাররা এসে ভোট দিয়েছে।
“যারা আগেই হেরে যাওয়ার ভয়ে নির্বাচন বর্জন করেছে তারাই নানা জায়গায় গুজব এবং কটুকথা ছড়াচ্ছে। আমরা গণতান্ত্রিক উপায়েই রুয়া নির্বাচন দিতে পেরেছি বলে মনে করি।”
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা হলেন- সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম খান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. নিজাম উদ্দীন, সহসভাপতি (সংরক্ষিত) সাবরীনা শারমিন, কোষাধ্যক্ষ জে এ এম সকিলউর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (সংরক্ষিত) ইসমত আরা বেগম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমাজ উদ্দিন, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কবির উদ্দীন, শিক্ষা ও পাঠাগার সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন, যুগ্ম শিক্ষা ও পাঠাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, যুগ্ম তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. নূরুল ইসলাম, যুগ্ম সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু সালেহ মো. আবদুল্লাহ।
যুগ্ম-প্রচার, প্রকাশনা ও জনসংযোগ সম্পাদক মোহা. আশরাফুল আলম ইমন, যুগ্ম-ক্রীড়া সম্পাদক রুকন উদ্দিন মো. রওশন জামির খান, দপ্তর সম্পাদক কাজী মামুন রানা, যুগ্ম-দপ্তর সম্পাদক মো. মোজাহিদ হাসান, আইটি সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, যুগ্ম-আইটি সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান মুন্না, আইন সম্পাদক মুহম্মদ শাহাদাৎ হোসাইন, মুখ্য-কল্যাণ ও উন্নয়ন সম্পাদক সাব্বির আহমেদ তাফসীর, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম কামরুজ্জামান, যুগ্ম-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. ফরহাদ আলম।
এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা আসনে নির্বাহী সদস্য হিসেবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ফাতিমা খাতুন, সখিনা খাতুন, সিরাজুম মুনীরা, শাহানারা বেগম ও শারমিন আক্তার।
নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে জয় পেয়েছেন মো. আহসান আলী, মো. কেরামত আলী, মো. মতিউর রহমান আকন্দ, মো. রেজাউল করিম এবং মো. সাইফুল ইসলাম।
যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন- আবুল হাসানাত কাজী মো. কামরুজ্জামান, মো. কামরুল আহসান, দেলাওয়ার হোসেন ও মো. বায়েজীদ হোসেন। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন মো. শামসুজ্জোহা ও হাসান মাহমুদ খান। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মো. হারুন-অর রশিদ এবং আমিনুর রহমান।
ক্রীড়া সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন মো. বাবুল হোসেন ও মো. মোজাম্মেল হক। যুগ্ম-আইন সম্পাদক হিসেবে রয়েছেন মো. মইনুল হোসেন শেখ ও মো. মিল্টন হোসেন। কল্যাণ ও উন্নয়ন সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন মো. মজনু মিয়া, শাহ্ হোসাইন আহমদ মেহদী এবং মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান।
এছাড়া নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আশফাকুর রহমান, মো. আবু তালেব, মো. আব্দুল বাছেদ, মো. আবদুল খালেক, এম উমার আলী, আ স ম খায়েরুজ্জামান, মো. গোলাম রছুল, মো. নূরুল ইসলাম, মো. মহিউদ্দীন, মো. মাহবুবুল আহসান, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. রেজাউল করিম, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, মোহা. লতিফুর রহমান এবং মো. শফিকুল ইসলাম।
নির্বাচন বর্জন প্রসঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপিপন্থী অ্যালামনাই আসলাম রেজা বলেন, “রুয়া একটি অরাজনৈতিক সংগঠন, এটির কাজ আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের ভাই-বোনদের কল্যাণে কাজ করা৷ তবে এটিকে রাজনৈতিক মোড়ক দিয়ে একটি গোষ্ঠী সংবিধান লঙ্ঘন করে নতুন ভোটার বাড়িয়ে নির্বাচন করছে।

“প্রতিষ্ঠাকালীন অনেক সদস্যকেই নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। এতে বোঝা যায় এটি একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর জন্য পাতানো নির্বাচন।”
তিনি বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিজমে আমরা যেমন ডামি নির্বাচন, রাতের নির্বাচন দেখেছি ঠিক সেভাবেই রুয়া নির্বাচন আয়োজন করা হয়েছে। এটিকে কোনভাবেই এক্সক্লুসিভ, গ্রহণযোগ্য এবং সর্বজনীন নির্বাচন বলার সুযোগ প্রশাসন রাখেনি।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে নির্বাচিত সভাপতি রফিকুল ইসলাম খান এবং সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিনের সঙ্গে গাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোন সারা দেননি তারা।
তবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে রাবি উপাচার্য ও রুয়া নির্বাচন কমিশনের সভাপতি সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, “দীর্ঘদিন পর একটি কার্যকর রুয়া গঠনের পথে আমরা এগোচ্ছি। নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশেই হচ্ছে।
“সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ ডাহা মিথ্যা। কোথায় লঙ্ঘন হয়েছে তা যারা অভিযোগ করছেন, তারাই প্রমাণ করুক।”
২০১৩ সালে অ্যালামনাসদের সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে গঠিত হয় রুয়া। একটি নির্বাহী কমিটি দিয়ে সংগঠন চলছিল। এবারই প্রথম পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হল।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রুয়ার জীবন সদস্য ৮ হাজার ২৭৫ জন।