Published : 03 Dec 2025, 01:44 AM
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের আটটি সংসদীয় আসনের মধ্যে কয়েকটি আসনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে বিএনপিতে মতবিরোধ রয়েছে। বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন দলটির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।
মনোনয়ন পরিবর্তন না হলে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপির একাধিক নেতা।
দুটি আসনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী এবং তার বড় ভাই আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর কর্মী-সমর্থকদের ‘সরব উপস্থিতি’ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
ফলে এ দুটি আসনে বিএনপি ও অন্য দলের প্রার্থীকে ‘শক্ত’ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে হতে পারে।
টাঙ্গাইল-১, টাঙ্গাইল-৩, টাঙ্গাইল-৪ ও টাঙ্গাইল-৮ আসনে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এর মধ্যে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন লুৎফর রহমান মতিন। তবে জনপ্রিয় নেতা মুক্তিযোদ্ধা আবদুল লতিফ সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। ফলে এই আসনে প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে।
টাঙ্গাইল-৮ এ আসনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম নির্বাচন করবেন বলে দলের নেতাকর্মীরা বলছেন। দুইবারের সাবেক সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীর উপস্থিতির কারণে বিএনপির প্রার্থীকে একদিকে দলের ভেতরের বিদ্রোহী, অন্যদিকে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী-দুই দিক থেকেই চাপ মোকাবিলা করতে হবে।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে এখনও প্রার্থী ঘোষণা না হলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃত্ব তৎপর।
টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল বলেন, “জেলার ১২টি উপজেলায় আটটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সাতটিতে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিএনপি নানা বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে।”
তিনি বলেন, “টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনেও তৃণমূলের পছন্দসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।”
জেলার সংসদীয় আসনগুলোর সবকটিতে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ইসলামী আন্দোলন ও খেলাফত মজলিসও আটটি সবকটিতে, গণঅধিকার পরিষদ তিনটি ও গণসংহতি আন্দোলন দুইটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বলে জানা গেছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের সামনের সারির নেতাদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি আটটি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে কোনো আসনেই জাতীয় পার্টির তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।
টাঙ্গাইল-১: মনোনয়ন নিয়ে সংঘর্ষ, বহিষ্কার
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর–ধনবাড়ী) আসনে ফকির মাহবুব আনাম স্বপনকে মনোনয়ন দেওয়ায় বিএনপিতে বিরোধ দেখা দিয়েছে। দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আলী এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল আসাদুল ইসলাম ওরফে আজাদ মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ ও সমাবেশ করছেন।
মনোনয়ন পরিবর্তন না হলে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন আজাদ। তার এই অবস্থানের পর বিএনপি তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছে।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, ১৯ নভেম্বর বিকালে মনোনীত প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের বিরোধিতায় মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের একটি মিছিল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছলে তাতে হাতবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উত্তেজনা ছড়ায় এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর হয়। সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন আহত হন।
১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর, ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছাড়া এই আসনে বিএনপি আর কখনো বিজয়ের মুখ দেখেনি।
এবার এ আসনে মনোনয়ন পাওয়া বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ২০০১ ও ২০০৮ সালে এই আসনে দলীয় মনোনয়ন পেলেও পরাজিত হন। দলের মধ্যে বিরোধের কারণে তৃতীয়বারের মতো মনোনয়ন পেয়ে এবারও কঠিন লড়াইয়ের মুখে পড়তে পারেন তিনি।

মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী বলেন, “জনগণ আমার পাশে আছে, আমি আমার দল বিএনপির কাছে শেষ পর্যন্ত দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করে যাব। দলীয় মনোনয়ন না পেলে স্বতন্দ্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচনে প্রার্থী হব।”
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহবুব স্বপন বলেন, “মনোনয়ন দেওয়ার সময় ছয়জন প্রার্থী ছিলেন। সেখান থেকে তারেক রহমান আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। এখন দলীয় মনোনয়নের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতে হবে।
“আপনি সারা বছর ধীনের শীষ করবেন, দলীয় মনোনয়ন না পেলে অন্যরকম ভাবনা করবেন। এটা জনগণ মেনে নেবে না। জনগণের দাবি ধানের শীষ নিয়ে যে প্রার্থী আসুক, তারা ধানের শীষের পক্ষে আছেন।”
টাঙ্গাইল-২: কোন্দলমুক্ত বিএনপি
গোপালপুর-ভুয়াপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম পিন্টু এবার দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন।
তিনি ছাড়া আর কোনো প্রার্থী এ আসনে দলীয় মনোনয়ন চাননি।
সালাম পিন্টু ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারে উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২১ অগাস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে তিনি গ্রেপ্তার হন। ওই মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত।
সালাম পিন্টুর অনুপস্থিতিতে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করেন তার ছোট ভাই দলের বর্তমান প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন ওরফে টুকু।
এ আসনের দুই উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আব্দুস সালাম পিন্টুর পক্ষে এক জোট রয়েছেন। একমাত্র এই আসনেই বিএনপির মধ্যে কোনো কোন্দল নেই।
এই নির্বাচনি এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়ন পেয়েছেন দলের জেলা শাখার সেক্রেটারি মো. হুমায়ুন কবির। মাঠে সক্রিয় রয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও উচ্চতর পরিষদ সদস্য শাকিল উজ্জামান।
টাঙ্গাইল-৩: মনোনয়ন বদল চেয়ে বিক্ষোভ
টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম ওবায়দুল হক নাসিরকে। তবে বিষয়টি ‘সহজভাবে নেননি’ এ আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক মন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ ও তার অনুসারীরা।
প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকেই আজাদ পক্ষের মধ্যে ‘অসন্তোষ’ দেখা দেয়। ফলে ঘাটাইলে বিএনপির অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা লুৎফর রহমান খান আজাদ ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ঘাটাইল থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দুই দফায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন। ২০০৮ ও ২০১৮ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি।
এবার মনোনয়ন না পেয়ে ‘ক্ষুব্ধ’ আজাদ ও অপর মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মাইনুল ইসলাম একাট্টা হয়ে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে মাঠে নেমেছেন। তারা বিক্ষোভ-সমাবেশ ও মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
মাইনুল ইসলাম বলছেন, “ওবায়দুল নাসির এ এলাকার সন্তান নন। তাই তাকে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মী-সমর্থকরা মেনে নেবেন না। তারা আশা করেন, দল এখানে মনোনয়ন পরিবর্তন করবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওবায়দুল নাসির বলেন, “ঘাটাইল উপজেলার বিএনপি নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার প্রচারে অংশ নিচ্ছেন। মনোনয়ন না পেয়ে দুই-একজন কিছু অনুসারী নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।”
টাঙ্গাইল-৪: লতিফ সিদ্দিকীর ‘শক্ত’ উপস্থিতি
টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য লুৎফর রহমান মতিন। তবে বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটোও মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ তার পক্ষে রয়েছে। তিনি ইউনিয়ন পর্যায়ে নিয়মিত সভা-সমাবেশ করছেন।
লুৎফর রহমান বলেন, “কালিহাতী একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। জাতীয় পর্যায়ে এটা বির্তকিত আসন। এই আসন থেকে আমরা যেন জয়লাভ করতে পারি সেই চেষ্টায় আছি।”
বিএনপির এ নেতার ভাষ্য, “কেন্দ্র থেকে আমাকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তারা চাচ্ছে, আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি।”
এ আসনে সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীর জনপ্রিয়তা এখনও চোখে পড়ার মতো।
তার ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, এবারও লতিফ সিদ্দিকী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পাঁচবার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে একবার (২০২৪) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। দলীয় পদে না থাকলেও এলাকায় আওয়ামী লীগপন্থি কর্মী-সমর্থকদের ওপর তার প্রভাব এখনো ‘দৃঢ়’।
কালিহাতী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও এলেঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. শাফী খান বলছেন, “দল লুৎফর রহমান মতিনকে মনোনয়ন দিয়ে বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে।
“দলীয় মনোনয়ন দিতে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে না পারলে কালিহাতী উপজেলা বিএনপি চার ভাগে বিভক্ত হয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হতে পারত।”
তিনি বলেন, “লুৎফর মতিন দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় উপজেলার সিনিয়র-জুনিয়র নেতাকর্মীরা নির্বাচনি মাঠে নেমে পড়েছেন। তারা স্ব স্ব উদ্যোগে প্রচার চালাচ্ছেন।
“ঢাকা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটো তার কিছু আজ্ঞাবহ লোক নিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।”
তবে বিএনপির কয়েকজন নেতা বলছেন, লুৎফর মতিন দলীয় মনোনয়ন পাওয়ায় কালিহাতী উপজেলা বিএনপির ‘আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন’ ঘটেনি। সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে বেনজীর আহমেদ টিটোকে মনোনয়ন দেবে বলে তারা আশা প্রকাশ করছেন।

যদিও লুৎফর রহমান বলছেন, “প্রতিদ্বন্দিতায় কালিহাতী আসনে লতিফ সিদ্দিকী আসছে, এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।”
এ বিষয়ে জানতে বেনজীর আহমেদ টিটোকে ফোন করে সাড়া মেলেনি।
টাঙ্গাইল-৫: প্রার্থী ঘোষণা বাকি, মাঠে নেতারা
টাঙ্গাইল সদরের এ আসনে বিএনপি এখনও প্রার্থী ঘোষণা করেনি। দলের আধাডজন নেতা মনোনয়নের জন্য মাঠে থাকলেও বেশি সক্রিয় রয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল।
তারা নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে প্রতিদিন সভা, সমাবেশ ও গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
টাঙ্গাইল-৬: প্রার্থী নিয়ে ‘ক্ষোভ’
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আওয়াল (লাভলু)। তার বিপক্ষে একটা অংশের ভেতরে ভেতরে ‘অসন্তোষ’ ও ‘ক্ষোভ’ রয়েছে।
স্থানীয় অনেক নেতাকে এখনও তার প্রচারে অংশ নিতে দেখা যায়নি।
অন্যদিকে এ আসনে এক ডজনের বেশি নেতা বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশা করলেও দল মনোনয়ন ঘোষণা করার পর তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
টাঙ্গাইল-৭: মনোনয়ন চেয়ে বিক্ষোভ
মির্জাপুর উপজেলা নিয়ে এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির শিশুবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী।
তবে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে ২১ নভেম্বর সমাবেশ করেছেন আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক সাঈদ সোহরাবের সমর্থক নেতা-কর্মীরা।
টাঙ্গাইল-৮: মাঠে কাদের সিদ্দিকী
বাসাইল ও সখীপুর উপজেলা নিয়ে এ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খানকে। এখানে দলের অপর দুই মনোনয়নপ্রত্যাশী সখীপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শেখ হাবিবুর রহমান ও ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন রাসেল এক হয়ে সভা-সমাবেশ করে মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছেন।
রাসেল দাবি করেন, “সাধারণ মানুষ চায়, আমি নির্বাচন করি। ওনাদের ইচ্ছাই আমার ইচ্ছা।”
এ অবস্থায় বিএনপির যাকেই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী করুক, তাকে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে লড়াই করতে হবে।
মুক্তিযুদ্ধে টাঙ্গাইল ও উত্তরের কয়েকটি জেলার বিভিন্ন অংশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ত্রাস কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান কাদের সিদ্দিকী ১৯৯৬ আওয়ামী লীগের টিকেটে এবং ২০০১ সালে নিজের দল কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ থেকে এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বিএনপির প্রার্থীকে একদিকে নিজ দলের ‘বিদ্রোহী’ এবং অন্যদিকে ‘বাঘা সিদ্দিকী’ নামে পরিচিতি পাওয়া কাদের সিদ্দিকীর মতো প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হবে।
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সখীপুর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন বলেন, তারা কাদের সিদ্দিকীর জন্য নির্বাচনি মাঠে কাজ করছেন। তাদের নেতা নির্বাচনে অংশ নেবেন।