বগুড়ায় বিয়ের দেনমোহর ১০১টি বই

বিয়েতে দেনমোহর হিসেবে বইয়ের কথা শুনে ছুটে আসেন এলাকার অনেকে।

বগুড়া প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Sept 2022, 05:20 PM
Updated : 16 Sept 2022, 05:20 PM

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় ১০১টি বই দেনমোহরের একটি বিয়ে নিয়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিয়েতে ছেলের বাবা ও মেয়ের মা উপস্থিত ছিলেন। বিয়ে রেজিস্ট্রির পর সবাইকে মিষ্টি মুখ করানো হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ধুনট উপজেলা গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের কাজীর কাছে বিয়ে সম্পন্ন হয়।

বিয়ের বর উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের গুয়াডহরী গ্রামের সামছুল ইসলামের ছেলে নিখিল নওশাদ; আর কনে সোনাতলা উপজেলার কামালেরপাড়া গ্রামের মোস্তাফিজার রহমানের মেয়ে সান্ত্বনা।

গোসাইবাড়ী বাজারে আব্দুল হান্নান কাজীর বাড়িতে যখন বিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয় তখন দেনমোহর হিসেবে বইয়ের কথা শুনে ছুটে আসেন এলাকার অনেকে। এমন দেনমোহরনার বিয়ে এই প্রথম দেখেছেন বলে তারা জানান।

কনে সান্ত্বনা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বইয়ের চেয়ে মূল্যবান কিছু আছে? টাকা দিয়ে বইয়ের মূল্য নির্ধারণ করা যাবে না কখনও। একদিকে টাকা, অন্যদিকে বই- দেখবেন বইয়ের ওজন-সম্মানের দিক থেকে টাকার তুলনায় অনেক অনেক বেশি। ওর কবিতার প্রেমে মুগ্ধ হয়েছিলাম। কবিতায় প্রেমে বিয়ে। বিয়ের কথা দুইজনই যখন ঠিক করি, তখন আমিই বলেছিলাম, দেনমোহরনা কিন্তু ১০১টি বই দিতে হবে। তাও আমার পছন্দের। ঠিক তাই হলো। আজ বিয়ের দিনে ১০টি বই পেলাম। বাকিগুলো পরে দেবে, আমাকে নিয়েই কিনবে।”

বর নওশাদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “১০১টি নীল পদ্ম তুলে দেব। নিজেই চেয়েছে বই। চায়নি কোনো অলঙ্কার। আজ ১০টি বই দিয়েছি; বাকিটা খুঁজে খুঁজে দেব।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা পথ দেখালাম, যৌতুক ছাড়া এবং দেনমোহর বই দিয়েও হতে পারে। আগামী প্রজন্ম এই পথ দেখুক। তবে চিকাশী ইউনিয়নের কাজী কেন বিয়ে পড়াল না এটেই আমার প্রশ্ন।”

এর আগে চিকাশী ইউনিয়নের কাজী হেলালুর রহমানকে কাছে বিয়ে পড়াতে গেলে তিনি দেনমোহর ‘বই হতে পারে না’ জানিয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি করেননি।

হেলালুর রহমানের ভাষ্য, “নগদের ঘরে নাক ফুল, গহনা লেখা আছে – বই লেখা নেই, তাই বিয়ে রেজিস্ট্রি করিনি।”

গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের কাজী আব্দুল হান্নান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, কোনো সম্পত্তি, সম্পূর্ণ দেনমোহর বা উপহার অংশ বিশেষের পরিবর্তে প্রদত্ত হয়েছে কিনা বিয়ে রেজিস্ট্রি ফরমে এমন একটি ঘর আছে। সে অনুযায়ী দেনমোহর বাবদ ১০১টি বই; যার মূল্য ধরা হয়েছে দুই লাখ টাকা। বরের প্রস্তাবে কনে রাজি হয়েছেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক