Published : 23 Dec 2025, 04:02 PM
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ঢাকায় যেতে বিশেষ ট্রেন বরাদ্দের দাবিতে লালমনিরহাটে রেলপথ অবরোধ করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা।
অবরোধের কারণে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ‘লালমনি এক্সপ্রেস’ ট্রেন নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে যেতে পারেনি। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
মঙ্গলবার সকাল থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনে রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় বলে জানান লালমনিরহাট রেলওয়ে থানার ওসি প্রদীপ কুমার।
বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এজন্য ১৯ ডিসেম্বর লালমনিরহাট থেকে ঢাকাগামী একটি বিশেষ ভাড়াভিত্তিক ট্রেন বরাদ্দ চেয়ে রেলভবনে আবেদন করে জেলা বিএনপি। তবে সোমবার রাতে রেলভবন থেকে জানানো হয়, বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়।
এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সকাল ৮টা থেকে লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশনে বিক্ষোভ শুরু করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে তারা রেললাইনের ওপর অবস্থান নেন এবং ‘লালমনি এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ইঞ্জিনের সামনে শুয়ে পড়েন।
সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও অবরোধের কারণে তা আটকা পড়ে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রার করে।
লালমনিরহাট জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান আনিচ বলেন, “দীর্ঘদিন পর প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে হাজার হাজার নেতাকর্মী ঢাকায় যেতে প্রস্তুত। যথাযথ প্রক্রিয়ায় রেলভবনে বিশেষ ট্রেনের আবেদন করেছি। শেষ মুহূর্তে এসে ট্রেন বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয় জানানোয় আমরা বিপাকে পড়েছি।”
তিনি বলেন, “বিশেষ ট্রেন না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে। লালমনিরহাট একটি বিভাগীয় শহর, এখান থেকে বিশেষ ট্রেন না থাকার কোনো যুক্তি নেই। আশা করি, রেল বিভাগের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।”
ওসি প্রদীপ কুমার বলেন, রেলপথ অবরোধের কারণে ‘লালমনি এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ছেড়ে যেতে পারেনি।
লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট মোর্শেদ আলম বলেন, “ট্রেনটি চলাচল করতে না পারায় যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। অবরোধ না উঠলে ট্রেন চালানো সম্ভব নয়।”
এ বিষয়ে জানতে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক আবু হেনা মোস্তফা কামালের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি।