রাকসু: দিনভর ‘সুনসান’ ক্যাম্পাস, সন্ধ্যায় গান-আড্ডায় জমজমাট
তবে পরিবহন চত্বর ছাড়া ক্যাম্পাসের আমতলা, টুকিটাকি এবং বুদ্ধিজীবী চত্বর সন্ধ্যায়ও ছিল নিরুত্তাপ, জনমানবহীন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-রাকসু নির্বাচনের ঠিক আগের দিন ক্যাম্পাস অনেকটাই ‘সুনসান’ থাকলেও হুট করেই সন্ধ্যার পর পালটে যায় পরিবহন চত্বরের চিত্র। শিক্ষার্থীদের একটি অংশকে দেখা যায়, গান-আড্ডায় মেতে থাকতে।
তবে পরিবহন চত্বর ছাড়া ক্যাম্পাসের আমতলা, টুকিটাকি এবং বুদ্ধিজীবী চত্বর সন্ধ্যায়ও ছিল নিরুত্তাপ, জনমানবহীন।
পরিবহন চত্বরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন বিজয় ২৪ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী অমিত সাহা। তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকে ক্যাম্পাসে লোক সমাগম একটু কমই। তবে সন্ধ্যায় পরিবহন চত্বরে একটু যেন প্রাণ এসেছে।”
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী শামীন ত্রিপুরা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গতকাল থেকে প্রচার শেষ হওয়ায়, আজকে সারাদিন অনেক শিক্ষার্থী নিজের রুমেই সময় কাটিয়েছে। সন্ধ্যায় পরিবহন গান-আড্ডার খবর পেয়ে অনেকেই এসেছেন।”
পরিবহন চত্বরের জায়গাটি রাবি ক্যাম্পাসের আন্দোলন-সংগ্রামেরও ‘সূতিকাগার’ বলে মনে করেন শামীন। তিনি বলেন, “বিগত জুলাই অভ্যুথানেও এই পরিবহন চত্বর থেকেই আন্দোলন পরিচালিত হয়েছে। কাল রাকসু নির্বাচন। এজন্য এখানেই আড্ডাটা জমেছে।”
শামীন ত্রিপুরা যখন কথা বলছিলেন; তখন পাশ থেকেই ভেসে আসছিল শাহ আবদুল করিমের গান ‘আমি ফুল বন্ধু/ ফুলের ভ্রমরা’। কেউ গিটারে, কেউবা হাতে তালি বাজিয়ে গাইছিলেন গানটি। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে যেন নেচে ওঠে পরিবহন চত্বর। ছেলেদের সঙ্গে মেয়ে শিক্ষার্থীদের অনেকেও যোগ দেন এই গান-আড্ডায়।
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সানজিদা আক্তার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকে দুপুরেও পরিবহন চত্বরে এসেছিলাম, চার ঘণ্টা ছিলাম। তখন মনে হয়েছিল, যেন ভুতুড়ে পরিবেশ। তখন মনে হয়েছিল, ক্যাম্পাস এত নিরব কেন? কিন্তু সন্ধ্যায় গান-আড্ডা দেখে মনে হচ্ছে নির্বাচনি আমেজটা এসেছে।”
মন্নুজান হল সংসদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক পদে লড়ছেন সানজিদা। তিনি বলেন, “নির্বাচন তো একটা উৎসব। আর উৎসব মানেই মেয়েদের অনেকের কাছে মেহেদী দেওয়া। আজকে সকালেই হাতে মেহেদী দিয়ে ক্যাম্পাসে এসেছি। তখন বেশ ফাঁকা ছিল। এখন খুবই ভালো লাগছে।”
রাকসু নির্বাচনেই জীবনের প্রথম ভোট দেবেন ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আফরিন জাহান আশা।
এ শিক্ষার্থী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এর আগে কখনোই ভোট দেওয়া হয়নি। এবারই প্রথম ভোট দেব। এজন্য খুব আনন্দ কাজ করছে। আবার ভয়ও কাজ করছে। যদি কোনো ঝামেলা হয়?”
‘ঝামেলা হবে’ কেন মনে হচ্ছে, জানতে চাইলে আফরিন বলেন, “এমনিই মনে হয়েছে। এখনো জানি না। তবে একটু ভয় লাগছে।”
আরও পড়ুন:
