Published : 05 Oct 2025, 02:11 PM
লালমনিরহাটের সদর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে এক নারীকে তার ছেলে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামে শনিবার রাত ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে লালমনিরহাট সদর থানার ওসি নুরুন্নবী জানান।
নিহত ৫৫ বছর বয়সী সুশীলা কর্মকার ওই এলাকার ভেললো কর্মকারের স্ত্রী।
এ ঘটনায় সুশীলার ছেলে ২৮ বছর বয়সী নিমাই কর্মকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, সম্প্রতি নিমাইয়ের স্ত্রী অভিমান করে বাবার বাড়িতে চলে যান। এ নিয়ে শনিবার রাতে পরিবারের লোকজনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়।
এক পর্যায়ে নিমাই বড়বাড়ি বাজারে গিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুই-একজনকে আঘাত করেন। তখন মা সুশীলা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেকে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
এ সময় নিমাই ছুরি দিয়ে মায়ের শরীরে একাধিক আঘাত করেন। গুরুতর অবস্থায় সুশীলাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিমাইকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
নিমাইয়ের ভাবি হরিপ্রিয়া বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নিমাই মানসিক সমস্যায় ভুগছিল। তাকে এক সময় পাবনা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর থেকে সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।”
এক প্রতিবেশী বলেন, নিমাই বাজারে গিয়ে কয়েকজনকে কোপানোর পর তার মা গিয়ে শান্ত করতে চেয়েছিলেন। তখনই সে মায়ের ওপর ছুরি চালায়। এমন নির্মম ঘটনা তারা কল্পনাও করেননি।
ওসি নুরুন্নবী বলেন, “ঘটনার পরপরই নিমাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সে মানসিক রোগে ভুগছিল। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে।”