Published : 03 Mar 2026, 01:35 AM
রংপুরে কারাগারে থাকা যুবলীগ নেতার ডিশ ও ইন্টারনেটের ব্যবসা দখল করতে ‘গুলি করে হত্যার হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগে জেলা যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
গ্রেপ্তার ওই তামজিদুর রশিদ গালিব জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
তার হুমকি দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর মধ্যে গালিব ও আকিবুল রহমান মনুকে সোমবার রাতে বহিষ্কার করে যুবদল। এরপর গালিবকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেয় পুলিশ।
রংপুর কোতোয়ালি থানার ওসি শাহজাহান আলী বলেন, মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড ও কেবল ওয়ান কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলায় গালিবকে র্যাব-১৩ গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাকে কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়।
তিনি বলেন, অফিসে ঢুকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর, ভাঙচুর ও বাসায় গিয়ে হত্যার হুমকির অভিযোগে রোববার রাত সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর কোতোয়ালি থানায় কেবল ওয়ান ও মায়া সাইবার ওয়াল্ডের দুই কর্মকর্তা আলাদা দুটি মামলা করেন।
মামলায় জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনুসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, নগরীর কামাল কাছনা এলাকায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতিষ্ঠানের লাইন কেটে দেওয়া হয়। এতে গ্রাহকরা মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হন। এ ঘটনায় মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ডের ‘পপ’ ম্যানেজার রেবেকা হারুন সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সংবাদ সম্মেলনের পর রোববার বিকালে গালিব ও মনুসহ আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ জন প্রতিষ্ঠানের অফিসে ঢুকে কর্মীদের ওপর মারমুখী আচরণ চালায়। এ সময় গালিবের নির্দেশে অন্য আসামিরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর করে এবং অফিসের গুরুত্বপূর্ণ ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি ভাঙচুর করে। সোমবারের মধ্যে কামাল কাছনা এলাকায় গালিবকে নতুন ফিড অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দিতে চাপ দেয়।
এ সময় মনু প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মাহাদি হাসান কাফিকে মোবাইলে হুমকি দেন অভিযোগ করে এজাহারে বলা হয়, “তুই আওয়ামী লীগের দালালি করছিস। তোর বাসায় গিয়ে গুলি করে আসব। আজকে বিকালের মধ্যে যদি সমাধান না করিস তাহলে তোর বেডরুমে গিয়ে বউ-বাচ্চাসহ তোকে গুলি করে আসব।
“পরে মনুসহ তাদের অনুসারীরা হুমকি দেন যে, অফিসের বাইরে গেলে কর্মীদের মারধর বা খুন-জখম করা হবে। ঘটনার পর তারা সেখান থেকে চলে যায়।”
এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে এ দুই নেতাকে সোমবার রাতে বহিষ্কার করে যুবদল।
সংগঠনটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি-আদর্শ ও সংহতির পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এদিন দুপুরে ফেইসবুক লাইভে এসে হুমকির ঘটনার ভিডিও অংশের বিশেষ প্রকাশ করায় ঘটনাস্থলের প্রেক্ষাপট ও আলাপচারিতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ভুল তথ্য পৌঁছেছে বলে দাবি করেন বহিষ্কার হওয়া যুবদল নেতা মনু।
পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কখনোই কোথাও কারও কাছে চাঁদা দাবি কিংবা কোনো ধরনের অন্যায় কাজের সঙ্গে যুক্ত হননি বলে দাবি করেন তিনি।