Published : 22 Jan 2026, 08:00 PM
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী সরস্বতীর পূজাকে ঘিরে শেরপুরে বসেছে প্রতিমার হাট। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মন্দির, বাড়িতে পূজার আয়োজন ঘিরে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ।
বিদ্যা লাভের আশায় শুক্রবার সকাল থেকেই শুরু হবে সরস্বতী পূজা শুরু হবে জানিয়ে শেরপুর জেলা পুরোহিত কল্যান পরিষদের উপদেষ্টা কমল চক্রবর্তী বলেন, “মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের শ্রী পঞ্চমী তিথিতে সরস্বতী পূজা করা হয়। শুক্রবার সূর্যোদয় থেকে সারাদিন দেবীর আরাধনা করা হবে। ”
এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে শহরের গোপাল জিওর মন্দির প্রাঙ্গনে প্রতিমার হাটে ভিড় করেছেন আশেপাশের এলাকা এবং পাশের জেলা জামালপুর থেকে আসা ত্রেতারা।

প্রতিমা কারিগররাও শেষ সময়ে এসে সরস্বতী প্রতিমার সাজসজ্জার কাজে এবং রং ও তুলির শেষ আচড় দেয়ার কাজে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন।
প্রতিমা কারিগর শ্যামল চন্দ্র পাল বলেন, এবার তিনি বিক্রির জন্য ৫০টি প্রতিমা তৈরি করেছেন। বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে সেগুলো ডেলিভারি দেওয়া হবে।
৮০টি প্রতিমা তৈরি করা কারিগর রাজকুমার পাল বলেন, এবার প্রতিমার হাটে আকার ভেদে ছোট-মাঝারি ও বড় প্রতিমাগুলো সাধারণত ৩০০ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যেই বিক্রি হয়েছে। বিশেষ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৮ থেকে ১০ হাজার টাকায়ও প্রতিমা বিক্রি করা হয়েছে।
রেখা রানী পাল বলেন, সরস্বতী প্রতিমা এবার ভালোই বিক্রি হচ্ছে। তিনি কারিগরদের নিয়ে গত দুই মাসে আশিটি প্রতিমা তৈরি করেছেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিমা বিক্রি চলবে।

ঝিনাইগাতীর জগতপুর গ্রামের বাসিন্দা হৃদয় চন্দ্র দে বলেন, “বাড়িতেই বিদ্যা দেবীর পূজা করা হবে তাই গোপাল জিউর মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে ৮০০ টাকা দিয়ে প্রতিমা কিনে নিয়ে যাচ্ছি।”
শেরপুর শহরের গৃদানারায়ণপুরের বাসিন্দা বিনয় কুমার সাহা বলেন, “প্রতিবছরের মতো এবারও বাসায় পরিবারের সদস্যরা সরস্বতী দেবীর আরাধনা করবে। তাই প্রতিমা কিনে নিয়ে যাচ্ছি।”
এছাড়া, দুপুরে জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ থেকে আসা শিক্ষার্থীদের বড় আকারের সরস্বতী প্রতিমা কিনে রিক্সা ভ্যানে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়। তারা বিদ্যালয়ের ‘বাণী অর্চনার’ জন্য সাড়ে চার হাজার টাকা দিয়ে প্রতিমাটি সংগ্রহ করেছেন বলে জানান।