১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

মৌলভীবাজার-৪: হাজী মুজিবুরকে ঘিরে উন্নয়নের প্রত্যাশা শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জে

“উনি শুধু নেতাকর্মীদের কাছে ত্যাগী না। উনি এলাকার জনগণের কাছেও প্রিয় মানুষ।”

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Feb 2026, 05:27 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:59 PM

শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত মৌলভীবাজার-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী এলাকার সার্বিক উন্নয়ন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে শিক্ষা, চিকিৎসা ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে তার পূর্ববর্তী কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় বড় পরিসরে পরিবর্তন আসবে বলেও তাদের প্রত্যাশা।

সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ধানের শীষের প্রার্থী হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী। বলা যায়, এই এলাকার মানুষ ‘নৌকার দুর্গ ভেঙে’ ধানের শীষের গণজোয়ার উপহার দিয়েছেন তারেক রহমানকে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, জনপ্রতিনিধি না হয়েও হাজী মুজিবুর দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, ধর্মীয় স্থাপনা নির্মাণ, রাস্তাঘাট উন্নয়ন এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অবদান রেখে আসছেন। ফলে সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি বৃহত্তর পরিসরে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করতে পারবেন বলে তারা মনে করছেন।

এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমানের কাছে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জে চা-শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন, শ্রীমঙ্গল পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণ, ময়লার ভাগাড় স্থানান্তর, বাইপাস সড়ক নির্মাণ, বাস টার্মিনাল স্থাপন, লাউয়াছড়া বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেললাইন বিকল্প পথে স্থানান্তর, হাওরের বিল ও খাল খনন এবং বিমানবন্দর স্থাপনসহ বিভিন্ন দাবি রয়েছে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে হাজী মুজিবুর রহমান তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ১ লাখ ২০ হাজার ৬৭৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন; যা সিলেট বিভাগে ১৯টি আসনের সর্বাধিক ব্যবধান।

পোস্টাল ভোটসহ তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৭৭। তার নিকটতম প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী নূরে আলম হামিদী পেয়েছেন ৫০ হাজার ২০৪ ভোট ।

বালাগঞ্জ সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক অবিনাশ আচার্য বলেন, “হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরী জনপ্রতিনিধি না হয়েও উন্নয়নের নজির স্থাপন করেছেন। বিশেষ করে শিক্ষা ক্ষেত্রে তার অবদান উল্লেখযোগ্য। বিদ্যালয়, কলেজ, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি নিরক্ষরতা দূরীকরণে ভূমিকা রেখেছেন।”

তার ও তার পরিবারের প্রতিষ্ঠিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে- আব্দুল গফুর মহিলা কলেজ, হাজী মুজিব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শামীম আহমদ চৌধুরী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং জহির উদ্দিন চৌধুরী হাফিজিয়া মাদ্রাসা।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াকুব আলী বলেন, “এসব প্রতিষ্ঠান তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা, মাঠ ভরাট, সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, বেঞ্চ-ডেস্ক প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা করেছেন।”

শ্রীমঙ্গল উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মহিউদ্দিন আহমদ ঝাড়ু বলেন, “শিক্ষা ছাড়াও ধর্মীয় ও গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নেও তার (হাজী মুজিবুর) ভূমিকা রয়েছে। তিনি বিভিন্ন চা-বাগানে নাটমন্দির ও দেবালয় নির্মাণে সহায়তা দিয়েছেন এবং ধলাই নদীর বিভিন্ন স্থানে বাঁধ নির্মাণে সহযোগিতা করেছেন।

“সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও রয়েছে তার অবদান। মনিপুরি ললিত কলা একাডেমি, স্থানীয় প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনে নিয়মিত অনুদান দিয়ে আসছেন তিনি। এছাড়া দুই উপজেলায় কাঁচা রাস্তা সংস্কার, নতুন রাস্তা নির্মাণ এবং অসহায় পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে সহায়তাসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ত রয়েছেন।”

স্থানীয় বাসিন্দা পিন্টু গোয়ালা, দুলাল হাজরা, রতন কুর্মী ও টিটু আহমদসহ অন্যরা বলছেন, নির্বাচনের আগেও তিনি (হাজী মুজিব) উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন; এখন সংসদ সদস্য হিসেবে তার মাধ্যমে পর্যটননগরী শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জের চিত্র আরও বদলে যাবে বলে তারা আশাবাদী।

২০ বছরেরও অধিক সময় ধরে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সুখে দুঃখে পাশে ছিলেন হাজী মুজিবুর রহমান। গত ১৭ বছর ধরে নিজের কাঁধে যেমন ছিল শতাধিক মামলার ভার; শিকার হয়েছেন জেলজুলমের। তেমনি তার দলের অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধেও ছিল মামলার বোঝা। নেতাকর্মীদের এই দু:সময়ে হাজী মুজিব এক দিনের জন্য পিছুপা হননি। যতদিন জেলের বাহিরে ছিলেন ততদিন তিনি সকল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন।

জেলে যাওয়ায় যেসব কর্মীর পরিবারের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন হয়েছে, তিনি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। আর যেসব পরিবারের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন ছিল না, তাদের মানসিকভাবে সহযোগিতা করেছেন। এ কারণেই তিনি নেতাকর্মীদের কাছে পছন্দের মানুষ হয়ে উঠেছেন।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকি বলেন, “শ্রীমঙ্গল উপজেলায় আমিসহ শতাধিক নেতাকর্মীর ওপর অনেকগুলো মামলা হয়েছে। সবগুলো মামলাই পরিচালনা করেছেন হাজী মুজিব নিজেই। শুধু মামলা পরিচালনা করা নয়, তিনি দলের দু:সময়ে হাল ধরে সকল নেতাকর্মীদের খোঁজ রেখেছেন।

“উনি শুধু নেতাকর্মীদের কাছে ত্যাগী না। উনি এলাকার জনগণের কাছেও প্রিয় মানুষ। বিগত ১৭ বছর তিনি জেল জুলুমের ফাঁকে মানুষের জন্য কাজ করা বন্ধ করেননি। দুই উপজেলায় তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে করেছেন বহু উন্নয়ন কাজ। তার কাজের মধ্যে।”

স্থানীয়দের প্রত্যাশার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাজী মুজিবুর রহমান বলেন, “আমি আল্লাহর কাছে শুক্রিয়া আদায় করি, আমার নেতা তারেক রহমান আমাকে মুল্যায়ন করেছেন, আমার এলাকার মানুষ আমাকে মূল্যায়ন করেছেন।

“সিলেট বিভাগের সর্বাধিক ভোটের ব্যবধানে তারা আমাকে ধানের শীষে বিজয়ী করেছেন, এটাই আমার কাছে অনেক পাওয়া।”

তিনি বলেন, “এখন আমার ব্রত মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করা আর আমার দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি যেভাবে হবে, সে লক্ষে কাজ করা।”