সার্কিট হাউজ মাঠে পদ্মা সেতু ও নৌকার আদলে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ।
Published : 12 Nov 2023, 11:37 PM
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সোমবারের সফর ঘিরে খুলনায় প্রস্তুতি সম্পন্নের কথা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।
এদিন তিনি ২২টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনের পাশাপাশি দুটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। বিকাল ৩টায় খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে খুলনার সব প্রবেশপথসহ প্রধান প্রধান সড়কে তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য তোরণ। ছোট-বড় সব সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে শোভা পাচ্ছে ব্যানার ও ফেস্টুন।
খুলনা নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম ডি এ বাবুল রানা জানান, বঙ্গবন্ধুকন্যাকে বরণের জন্য ইতোমধ্যে সার্কিট হাউজ মাঠে পদ্মা সেতু ও নৌকার আদলে সভামঞ্চ তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অনুষ্ঠান সফল করতে তারা বেশ কয়েকটি সভা করেছেন।
কেন্দ্রীয় একাধিক নেতা কয়েকদিন আগেই খুলনায় অবস্থান করে এসব বিষয়ে তদারকি করছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এখন অধীর আগ্রহে প্রধানমন্ত্রীর আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন।
বাবুল রানা জানান, জনসভায় বিশেষ অতিথি থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সভাপতিত্ব করবেন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক।
আওয়ামী লীগ নেতা বাবুল রানা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে বিভাগ জুড়ে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভায় বিভাগের ১০ জেলার ১০ লাখ মানুষের সমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নেতাকর্মীরা জনসভায় এক রঙের টি-শার্ট-ক্যাপ পরে আসবে। সার্কিট হাউজে মাঠে নারীকর্মীরা অবস্থান করবেন এবং পুরুষরা মাঠের চারপাশে রাস্তায় থাকবেন।
নগরের শিববাড়ি, হাজী মহসিন রোড, কাস্টমস ঘাটসহ জনগুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২০টি এলইডি মনিটরে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ প্রদর্শিত হবে।
খুলনা নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, “প্রধানমন্ত্রীকে বরণের অপেক্ষায় রয়েছে খুলনাবাসী। ইতোমধ্যে জনসভার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জনসভা পরিণত হবে জনতার মহাসমুদ্রে।”
খুলনা জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী খুলনার ২২টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন এবং দুটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
উদ্বোধনের তালিকায় আছে- নগরের সাউথ সেন্ট্রাল রোডে একাত্তরের গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘরের ভবন, শামসুর রহমান রোডে সিভিল সার্জনের অফিস ভবন ও বাসভবন, পাইকগাছা উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ দপ্তর সংস্কার ও আধুনিকায়ন, বিএসটিআইর ১০ তলা আঞ্চলিক অফিসভবন, বিটাকের ১০ তলাবিশিষ্ট নারী হোস্টেল ভবন, পাইকগাছা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ভবনের (সিভিল, স্যানিটারি ও বৈদ্যুতিক) কাজ, দৌলতপুরে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের চারতলা ছাত্র হোস্টেল।
সুন্দরবনে চালু হবে শেখেরটেক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বেশ কিছু ভবন উদ্বোধন করা হবে, যার মধ্যে আছে ডুমুরিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চমতলা একাডেমিক কাম চারতলা প্রশাসনিক ও ওয়ার্কশপ ভবন, বয়রা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খুলনা কলেজিয়েট স্কুল, সরকারি এল বি কে ডিগ্রি মহিলা কলেজ, সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ, চালনা বাজার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, তালিমুল মিল্লাত রহমাতিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, নজরুলনগর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় এবং আরআরএফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রতিটিতে ছয়তলা একাডেমিক ভবন, আড়ংঘাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের চারতলা একাডেমিক ভবন।
ডুমুরিয়া উপজেলার চরচরিয়া শিবনগর সড়কে ভদ্রা নদীর ওপর ৩১৫ দশমিক ৩০ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু চালু হবে এদিন। খুলনা নগরে খালিশপুর বিআইডিসি রোডে ড্রেন, ফুটপাতসহ প্রশস্ত রাস্তা উদ্বোধন করা হবে। নগরের দৌলতপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালকের ছয়তলা বিশিষ্ট নবনির্মিত অফিস ভবন চালু করা হবে।
আর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের তালিকায় আছে- নগরীর মাথাভাঙ্গা এলাকায় স্যানিটারি ল্যান্ডফিল নির্মাণকাজ এবং দিঘলিয়া টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পাঁচতলা একাডেমিক কাম চারতলা প্রশাসনিক ও ওয়ার্কশপ ভবন নির্মাণকাজ।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) কমিশনার মোজাম্মেল হক জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুলনায় আগমন উপলক্ষে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তৈরি করা হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয়।
“জনসভাস্থলে পোশাকে এবং সাদা পোশাকে পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। সার্কিট হাউজ মাঠ ও আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।”