১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আওয়ামী লীগ নেতাকে ‘পিটিয়ে হত্যা’: ছাত্রলীগ নেতা আটক

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদককে আটক করেছে পুলিশ।

আওয়ামী লীগ নেতাকে ‘পিটিয়ে হত্যা’: ছাত্রলীগ নেতা আটক

নিহত কুড়িগ্রাম পৌর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম সোহান।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

Published : 10 Feb 2024, 12:46 AM

Updated : 10 Feb 2024, 11:33 AM

কুড়িগ্রামে একটি সড়ক দুর্ঘটনার পর আওয়ামী লীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন এক ছাত্রলীগ নেতা।

নিহত পৌর আওয়ামী লীগের নেতা শরিফুল ইসলাম সোহান মোটর শ্রমিক ইউনিয়নেরও সদস্য।

এ ঘটনার প্রতিবাদে শহরের ঘোষপাড়া, কাঁঠালবাড়ী ও পাঁচগাছি এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন ব্যবসায়ী ও মোটর শ্রমিকরা। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনায় আটক হয়েছেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিজভী কবির বিন্দু।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে শহরের খলিলগঞ্জ এলাকার অভিনন্দন কনভেনশন সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি মাসুদুর রহমান।

নিহত ৪০ বছর বয়সি সোহান শহরের ঘোষপাড়া হাটিরপাড় এলাকার প্রয়াত আমজাদ হোসেন বুলুর ছেলে। তিনি কুড়িগ্রাম পৌর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকালে অভিনন্দন কনভেনশন সেন্টারের সামনে একটি গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। এ পথ দিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সিয়াম ও রিয়াদ। ঘটনাস্থলে এসে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ির পাশে পড়ে তারা। 

Image

আটক কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রিজভী কবির বিন্দু।

গাড়িতে থাকা আওয়ামী লীগ নেতা সোহান আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। কিছুক্ষণ পর ছাত্রলীগ নেতা রিজভী ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে এসে তাকে মারপিট করে।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে সোহানকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেয় স্থানীয়রা। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তার মৃত্যুর খবর ছড়ালে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে মোটরমালিক সমিতি, এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগ নেতা রিজভীকে আটক করা হয়েছে।”

নিহতের স্বজনরা হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান ওসি মাসুদুর রহমান।

এ বিষয়ে জানতে কুড়িগ্রাম জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রাজু আহমেদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। তবে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘটনার বিচার দাবি করেছে সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠনটির জেলা শাখা।