খুলনায় কপোতাক্ষের বেড়িবাঁধে ভাঙন, আতঙ্কে ১০ হাজার বাসিন্দা

প্রায় দুই হাজার একর আমন ক্ষেতসহ অসংখ্য মাছের ঘের নদের পানিতে ডুবে যাওয়ায় আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।

খুলনা প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Jan 2024, 03:29 AM
Updated : 30 Jan 2024, 03:29 AM

খুলনার কয়রা উপজেলায় কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সোমবার ভোরে উপজেলার কয়রা গ্রামে বাঁধের ২০০ মিটার অংশ নদে ধসে গেছে।

এতে হুমকিতে পড়েছে বাঁধ সংলগ্ন ২ নম্বর কয়রা, গোবরা, ঘাটাখালী, হরিণখোলা, মদিনাবাদ গ্রামসহ উপজেলা সদরের প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দা।

ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করে দ্রুত সংস্কারের কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এদিকে স্থানীয়ভাবে ধসে যাওয়া স্থান সংস্কারের চেষ্টা করছেন বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে ফাটল ও ধস দেখা দেয়। ক্ষতির আশঙ্কায় এলাকার কিছু মানুষ রাতেই বাঁধ রক্ষায় কাজ শুরু করেন। কিন্তু ভোর নাগাদ পাঁচ শতাধিক জিও ব্যাগ ও বড় বড় মাটির খণ্ড নিয়ে বেড়িবাঁধের ২০০ মিটার অংশ নদে বিলীন হয়ে যায়।

ভাঙনরোধে অবিলম্বে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে প্রায় দুই হাজার একর আমন ক্ষেতসহ অসংখ্য মাছের ঘের নদের পানিতে ডুবে যাওয়ায় আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।

২ নম্বর কয়রা গ্রামের বাসিন্দা আবু মুসা ও আসলাম হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাত্র দুই বছর আগে এই বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। অথচ এরই মধ্যে বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বেড়িবাঁধ নির্মাণের সময় ওপরে এবং বাঁধের দুই পাশে মাটি দেওয়া হলেও ভেতরে বালু দেওয়া হয়। এ কারণে বাঁধ দুর্বল হয়ে ধসে গেছে।

কয়রা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল কালাম শেখ বলেন, “এর আগে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে বাঁধের ওই স্থান ভেঙে গিয়েছিল। সে সময় পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধ মেরামতের উদ্যোগ নেয়।

“তবে সঠিক তদারকির অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অপরিকল্পিতভাবে বাঁধটি মেরামত করে। এ কারণে দুই বছর না যেতেই বাঁধটি ভাঙনের মুখে পড়েছে।”

বাঁধের যে স্থান ভেঙে গেছে, এর দুই পাশের মাটি সরে বালু বেরিয়ে গেছে; ফলে বালু নদের ঢেউয়ে ধুয়ে যাচ্ছে বলে জানান এ ইউপি সদস্য।

খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মুহম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, “কয়রার বেড়িবাঁধগুলো এতদিন সাতক্ষীরার আওতাধীন ছিল। দুই বছর আগে কয়রার ওই বেড়িবাঁধটি জাইকার অর্থায়নে সাতক্ষীরা পাউবো নির্মাণ করে। সম্প্রতি দায়িত্ব পেয়েছি। তবে প্রশাসনিক জটিলতা এখনো কাটেনি।”

ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি; দ্রুত সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কার করা হবে বলে জানান পাউবোর এ কর্মকর্তা।

[প্রতিবেদনটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ তারিখে: ফেইসবুক লিংক]