০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

শরীয়তপুরে পদ্মার তীররক্ষা বাঁধের ৪০ মিটার নদীতে বিলীন, আতঙ্ক

ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 02 Oct 2026, 05:43 PM

Updated : 02 Oct 2026, 05:43 PM

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর মাছঘাট এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীররক্ষা বাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার নদীতে বিলীন হয়েছে।

ভাঙন থেকে নিজেদের শেষ সম্বল রক্ষায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অন্তত ১৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

স্থানীয়রা বলছেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তলদেশের মাটি সরে গিয়ে ভাঙন তীব্র হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ বাঁধের একটি অংশ বিলীন হয়ে গেলে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া হুমকিতে রয়েছে- সুরেশ্বর মাছের আড়ৎ, বাজার, লঞ্চঘাট, বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

ব্যবসায়ী আবুল কালাম বেপারী ও দেলোয়ার হোসেন বলেন, বুধবার দুপুর থেকে সুরেশ্বর মাছঘাট এলাকার ডান তীর রক্ষা বাঁধের ৫০ মিটারে ফাটল দেখা দেয়। পদ্মার প্রবল স্রোতে ফাটলের অংশটি ধীরে ধীরে বড় হলে ঘাটের দোকান পাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঝুঁকিতে পড়ে।

এ অবস্থায় অনেকেই মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নেয়। বৃহস্পতিবার রাতে ফাটল ধরা বাঁধের প্রায় ৩০ মিটার অংশ বিকট শব্দে নদীতে ধসে পড়ে। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে। বাঁধ ধসে পড়ায় হুমকির মুখে রয়েছে আশপাশের বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

যে-কোনো সময় সুরেশ্বর মাছের আড়ৎ, সুরেশ্বর বাজার, লঞ্চঘাটসহ আশপাশের বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে চলে যেতে পারে বলে শঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

ব্যবসায়ী রুবেল খান বলেন, “বাঁধের এই অংশ ভেঙে যাওয়ায় আমাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এভাবে চলতে থাকলে দ্রুত প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

দুই দিন আগে বাঁধে ফাটল ধরার পর থেকে আতঙ্কে রয়েছেন ব্যবসায়ী মামুন বেপারী। তিনি বলেন, “এখন যেভাবে মাটি সরে যাচ্ছে, তাতে যে কোনো সময় বাঁধের বড় অংশ ভেঙে যেতে পারে।

“এতে আমাদের ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত ভাঙন ঠেকাতে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।”

স্থানীয় বাসিন্দা কুদ্দুস বেপারী ও মিজানুর রহমান বলেন, নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে তলদেশের মাটি সরে গিয়ে ভাঙন তীব্র হয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলন বন্ধের পাশাপাশি স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনপদ বিলীন হতে পারে।

শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিলটন হোসেন বলেন, “ফাটল ধরা বাঁধের ৫০ মিটার অংশের মধ্যে ৩০ মিটার ধসে পড়েছে। এর মধ্যে ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে।”

২০১৮ সালে নদীভাঙন থেকে নড়িয়া ও জাজিরার বিস্তীর্ণ জনপদ রক্ষায় এক হাজার ৪১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ দশমিক ২ কিলোমিটার পদ্মার ডান তীর রক্ষা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।