অবহেলায় ধ্বংসের মুখে এমসি কলেজের শতবর্ষী ‘আসাম প্যাটার্ন’ ভবন

সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলী ‘আসাম প্যাটার্ন’ ভবন; যা ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্যই বিশেষভাবে নির্মাণ করা হত।

বাপ্পা মৈত্রসিলেট প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 Feb 2024, 03:59 AM
Updated : 20 Feb 2024, 03:59 AM

সিলেট মুরারিচাঁদ কলেজের ফটক পার হলেই দেখা মিলবে শতবর্ষী অনন্য স্থাপত্যশৈলীর দুটি ভবন। সেগুলোর উপরের টিন, কাঠ ও খুঁটি ভেঙে পড়েছে; ভাঙন ধরেছে চারপাশের দেওয়ালে। ফলে ভবনগুলো যেকোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এ ধরনের ‘আসাম প্যাটার্ন’ বা ‘বাংলা ব্যাটন স্টাইল’ ভবনগুলো পাহাড়ের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় নির্মিত হয়ে থাকে। এ ভবনগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট হচ্ছে, এর নির্মাণশৈলি পরিবেশবান্ধব এবং বসবাসের জন্য আরামপ্রিয়।     

সিলেটে একসময় এ ধরনের অনেক ভবন থাকলেও কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে গেছে। কিন্তু অযত্ন আর অবহেলার মধ্যেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এমসি কলেজের টিলার পাদদেশের এ ভবন দুটি। 

কলেজের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা ঐতিহ্যবাহী এ ভবনগুলো রক্ষার দাবিতে মাঠে নেমেছেন।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, মুরারিচাঁদ কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৯২ সালে; স্থানীয়ভাবে এটি ‘এমসি কলেজ’ নামে পরিচিত। ১৯১৭ সালে প্রায় দেড়শ একর জায়গা নিয়ে নগরীর টিলাগড় এলাকার বর্তমান ঠিকানায় স্থানান্তরিত হয় ঐতিহ্যবাহী এই কলেজ। কলেজের সামনের দিকেই নির্মাণ করা হয় একতলা দুটি ভবন।

কাঠের নল, বর্গার সঙ্গে চুন-সুরকির প্রলেপ আর টিনের ছাদের বিশেষ নির্মাণশৈলীর এসব ভবন স্থাপত্যশিল্পে ‘আসাম প্যাটার্ন’ হিসেবে পরিচিত। সিলেট অঞ্চলে ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলী আসাম প্যাটার্ন; যা ভূমিকম্প ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্যই বিশেষভাবে নির্মাণ করা হত।

মুরারিচাঁদ কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও ভাষা সৈনিক মো. আবদুল আজিজের লেখা ‘মুরারিচাঁদ কলেজের ইতিকথা’ বই থেকে জানা যায়, ১৯২৬ সালে টিলাগড় এলাকায় ভবন দুটিতে বিজ্ঞান ক্লাস শুরু হয়। ফলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ১৯২১ সাল থেকে ১৯২৫ সালের মধ্যে ঐতিহ্যের নান্দনিক নকশায় ভবন দুটি নির্মাণ করা হয়। সে হিসেবে এ দুটি ভবনের বয়স শতবর্ষ পেরিয়েছে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তবারক হোসেইন সম্প্রতি এমসি কলেজ পরিদর্শন করেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এমসি কলেজের আসাম প্যাটার্ন ভবন সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে কর্তৃপক্ষ কেন দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তা জানতে চাই। তাদের আরও আগে ভবন সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া উচিত ছিল। বর্তমানে যে দুটি ভবন ধ্বংসের মুখে রয়েছে, তা সংরক্ষণ করে ক্লাস চালু করার দাবি জানাই।”   

সিলেট লিডিং ইউনিভার্সিটির স্থাপত্য বিভাগের সাবেক শিক্ষক স্থপতি সৈয়দা জেরিনা হোসেন বলেন, “আমার বাবা এমসি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। আমার বাবার লেখা বইয়ে কলেজের সৌন্দর্যের কথা আছে। কিন্তু আমি আসাম প্যাটার্ন ভবনগুলো দেখে মর্মাহত। নাম করা একটা প্রতিষ্ঠানের এ দশা, মনে হচ্ছে এটার কোনো অভিভাবক নেই।”

পুরাতন ভবনগুলোকে অনেক আগেই সংস্কার করা উচিত ছিল বলেও মনে করেন এ স্থপতি। বলেন, “এখনও পুরাতন ভবনগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার অনেকগুলো উপায় আছে। এর জন্য সবাইকে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

‘আসাম প্যাটার্ন’ ভবনের বৈশিষ্ট্য

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষক কৌশিক সাহা ‘আসাম প্যাটার্ন’ ভবন নিয়ে গবেষণা করেছেন। এ নিয়ে তার একটি প্রবন্ধ আন্তর্জাতিক জার্নালেও প্রকাশিত হয়েছে।

সিলেটে আসাম প্যাটার্নের বাড়ি রক্ষা আন্দোলনেও সক্রিয় কৌশিক সাহা বলছিলেন, “এমসি কলেজে আসাম প্যাটার্ন ভবনগুলো তৈরি হয়েছিল ১১০ বা ১১২ বছর আগে। এসব ভবনে কলেজের বেশকিছু বিভাগের ক্লাস হত। আসাম প্যাটার্ন ভবনগুলো সিলেটের ঐতিহ্য। তাই এসব ভবন রক্ষা করা হলে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ইতিহাস ও সংস্কৃতি সর্ম্পকে জানতে পারবে। এসব ভবনের ঐতিহ্যগত মূল্য অপরিসীম।”

“১৮৯৭ সালে আসাম তথা সিলেট অঞ্চলে ভূমিকম্প হলে ইটের বাড়িগুলো ব্যাপকহারে ভেঙে পড়ে। এরপর কলকাতা থেকে একজন ব্রিটিশ সার্ভেয়ার সিলেটে আসেন এবং বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেন। তখন তিনি সুপারিশ করেন, যেহেতু এলাকাটা ভূমিকম্পপ্রবণ, সেখানে ইটের তৈরি বাড়ি করলে ভালো হবে না। তাই তিনি আসাম প্যাটার্নের ভবন তৈরিতে আগ্রহ দেখান।”

আসাম প্যাটার্নের ভবন ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে পারে কি-না প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “এই প্যাটার্নের বাড়িগুলো হালকা হয়। দেয়ালগুলো খুবই পাতলা হয়; মাত্র ৩ ইঞ্চি। পুরো বাড়িটা ছোট ছোট কাঠের ফ্রেমের মত হয়। এগুলোকে ‘ফ্রেম আর্কিটেকচারও’ বলা হয়। এই ফ্রেম আর্কিটেকচারের সুবিধা হচ্ছে, ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিকে হজম করে নিতে পারে।

“এ ছাড়া আসাম প্যাটার্ন বাড়ির ছাদে টিনশেড থাকে। দালানের ছাদ থেকে টিনশেডের ছাদের ওজন অনেক কম। আর এই বাড়ির মেঝে তৈরিতে ইট-সিমেন্ট ব্যবহার করে অল্প পুরো একটি আস্তরণ দেওয়া হত। এসব বাড়ির অন্যতম সুবিধা হল এটি খুব দ্রুত তৈরি করা যায়। একইসঙ্গে তা পরিবেশবান্ধব।”

এসব কারণে বাড়িগুলো জনপ্রিয়তা পেয়েছে জানিয়ে এই গবেষক বলেন, “সিলেটের যারা পুরনো শিক্ষিত মানুষ আছেন, এমনকি যারা চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী কিংবা সরকারি চাকরিজীবী তাদের মধ্যে এই বাড়ি তৈরি করার প্রবণতা বেশি ছিল।”

বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউট সিলেট সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক রাজন দাস বলেন, “সিলেট-আসাম বেল্টে বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর অভিজাতরা সমতল ছাদের বাড়ির বদলে দোচালা-চারচালা বাড়ির দিকে ঝুঁকেন। তখন টিনের ব্যবহারও বাড়ে ব্রিটিশ উপনিবেশের দেশগুলোতে।

“পাহাড় অধ্যুষিত আসামের বাড়িগুলো ছিল মাচার মতন। যাতে নিচ দিয়ে পানি চলে যেতে পারে। ভূমিকম্পপ্রবণ বলে এখানকার আবহাওয়া ও প্রকৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে তৈরি বাড়িগুলো আসাম প্যাটার্ন বা আসাম টাইপ হাউজ হিসেবে পরিচিতি পায়। এই ধারাটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলো জাতীয় এমন বাড়ি নির্মাণ করা হয় সিলেট অঞ্চলেও। সেটা ‘বাংলা ব্যাটন স্টাইল’ নামেও পরিচিতি পায়।”    

এ ধরনের বাড়ির ভিটেটা শুধু ইটের, দেয়াল ইকরার তৈরি আর উপরের কলাম ও ফ্রেমে স্টিলবার ও কাঠ ব্যবহার করা হয় জানিয়ে স্থপতি রাজন দাস বলেন, “এসব বাড়ির টিনের চাল ‘আই’, ‘ইউ’, ‘এল’ কিংবা ‘এইচ’ টাইপের হয়ে থাকে। এটা কিন্তু আবার ইউরোপীয় রীতি থেকে আসা। ফলে আসাম প্যাটার্ন হাউজে ইউরোপীয় রীতির একটা মিশেলও আছে।

“ব্রিটিশ ভবনে বারান্দা থাকে না; কিন্তু এসব ভবনে সামনে-পেছনে দুটো বারান্দা। ঘরগুলো বেশ উঁচু হয়। ফলে আলো-বাতাসের চলাচলটা খুব ভাল। মানুষের বসবাসের জন্য আরামপ্রদ।”

তবে এমসি কলেজের ভবন দুটো সংস্কার করে রক্ষা করা কঠিন মন্তব্য করে এই স্থপতি বলেন, “কারণ, ভবনের মূল উপাদানগুলো যদি নষ্ট হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে এটা ধরে রাখা যাবে না। এটাকে রিপ্লেসমেন্ট করতে হবে। সেজন্য মূল ড্রয়িংটা করতে হবে। কারণ এই আর্কিট্কেচারাল ডকুমেন্ট খুব জরুরি। সেটা ধরেই কাজটা করতে হবে।”

জোরালো হচ্ছে সংরক্ষণের দাবি

গত বছরের নভেম্বরে এ দুটি ভবন রক্ষায় এমসি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেইসবুকে একটি লেখা দেন। এজন্য তিনি স্থানীয়দের সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি লেখেন, “আসাম প্রদেশের অন্যতম প্রধান কলেজ ও দেশের প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ এমসি কলেজের চারটি শতবর্ষী ভবন সংরক্ষণ ও রক্ষায় আশু উদ্যোগ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। ঐতিহ্যবাহী এবং কালের স্মৃতি বহনকারী ১৯২১ সালে আসাম প্যাটার্নে নির্মিত বাংলা ও সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের পুরোনো ভবন, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত কলেজ মাঠের গ্যালারি ও অধ্যক্ষের বাসভবন, এগুলো শতবর্ষী এবং পুরাতাত্ত্বিক বিভাগের সম্পদ।

“এগুলো রক্ষায় আইনি বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু সেগুলো অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে। এই অবস্থায় সিলেটের ঐতিহ্যের স্মারক এমসি কলেজের শতবর্ষী ভবনগুলো রক্ষায় কলেজের বর্তমান ও সাবেক ছাত্রছাত্রী এবং সিলেটের সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

তারই ধারাবাহিকতায় ৩ ফেব্রুয়ারি এমসি কলেজের পুকুরপাড়ে একটি সভা করেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং সিলেটের নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

সভায় বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেটের সভাপতি অধ্যাপক জামিলুর রহমান বলেন, “এসব পুরনো স্থাপনার সঙ্গে আমাদের স্মৃতি জড়িয়ে আছে; এগুলো ভেঙে ফেললে স্মৃতি হারিয়ে যাবে।”

স্মৃতি হারিয়ে গেলে মানুষের আর কী থাকে- প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, “ঐতিহ্যকে ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। বরং উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থেই আমাদের ঐহিত্য ও কৃষ্টিকে ধরে রাখতে হবে। এই ভবনগুলো এভাবে ধ্বংস হতে দেওয়া যায় না। এগুলো সংস্কারের ইচ্ছে ও উদ্যোগ থাকলে অর্থের অভাব হবে না।”

আসাম প্যাটার্ন ভবন দুটি প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের জন্য আবেদনের বিষয়ে আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী বলেন, “আইনে দুটি দিক আছে। একটি হল আবেদন করা ও অপরটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ স্বেচ্ছায় সংরক্ষণের উদ্যোগ নেবে। আমরা মনে করি, এমসি কলেজ কর্তৃপক্ষ শতবর্ষী ভবন সংরক্ষণ ও রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেবেন।

“ঐতিহ্য বহনকারী ১৯২১ সালে আসাম প্যাটার্নে নির্মিত বাংলা ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের পুরোনো ভবন, ব্রিটিশ আমলে নির্মিত কলেজ মাঠের গ্যালারি ও অধ্যক্ষের বাসভবন শতবর্ষী; এগুলো পুরাতাত্ত্বিক বিভাগের সম্পদ।”

ছাত্র ইউনিয়ন এমসি কলেজ সংসদের সভাপতি পঙ্কজ চক্রবর্তী জয় বলেন, “ঐতিহ্যবাহী এ কলেজের প্রাচীন নান্দনিক ভবনগুলো রক্ষায় বর্তমান ও সাবেক সব শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরাও ঐক্যমত জানাচ্ছি। আমাদের এই ভবনগুলো শত বছরের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এবং এর সঙ্গে জড়িত আছে অনেক কালজয়ী ঘটনা।

“কিন্তু কর্তৃপক্ষ (কলেজ প্রশাসন) নানা অজুহাত দেখিয়ে ভবনগুলো রক্ষার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এর কারণে বর্তমান এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। ছাত্র ইউনিয়ন এমসি কলেজ সংসদ এ দাবিগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণ একাত্মতা প্রকাশ করছে এবং দাবিগুলো পূরণ না হলে দ্রুতই সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে।” 

মুরারিচাঁদ কলেজ ক্যাম্পাসে আসাম প্যাটার্ন ভবন সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। ৪ ফেব্রুয়ারি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এমসি কলেজ শাখার আহ্বায়ক সুমিত কান্তি দাস পিনাক ও সাধারণ সম্পাদক মিসবাহ খান এক বিবৃতিতে এ দাবি করেন।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এমসি কলেজ সিলেট তথা সারাদেশের ঐতিহ্যবাহী কলেজগুলোর মধ্যে একটি। শুধু পাঠদান নয়, এ জাতির মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস, সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, ক্যাম্পাসের স্থাপত্যশৈলী মিলে শত বছরের আবেগ ও অহংকার আঁকড়ে ধরে আছে কলেজটি। কবিগুরু রবি ঠাকুরের স্মৃতিধন্য এ আঙ্গিনা।

“১৯৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আসাদুজ্জামান আসাদ এমসি কলেজের ছাত্র ছিলেন। ইতোমধ্যেই ক্যাম্পাসের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত বহু মনীষীর স্মৃতি ধরে রাখতে কলেজ প্রশাসন ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের আয়োজন করা হয়েছে। এ উদ্যোগকে আমরা অভিনন্দন জানাই। একই সঙ্গে আমরা ক্যাম্পাসে শহীদ আসাদুজ্জামান আসাদ স্মরণে স্মৃতিফলক নির্মাণের পুনঃদাবি ও আসাম প্যাটার্ন-এ নির্মিত শতবর্ষী ভবনগুলো সংরক্ষণের দাবি করছি।’’

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

ভবন সংরক্ষণের বিষয়ে এমসি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আবুল আনাম রিয়াজ বলেন, আসাম প্যাটার্ন দুটি ভবন সংরক্ষণে সরকারিভাবে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। ভবনগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষা মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করেছে। আর প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের বিষয়ে যারা আন্দোলন করছেন, তারা আবেদন করবেন।

এক সময় পুরো সিলেট অঞ্চলে আসাম প্যাটার্ন ভবনের আধিক্য ছিল; বর্তমানে এরকম ভবন আর নির্মাণ করা হয় না বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।  

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক (চট্টগ্রাম-সিলেট) এ কে এম সাইফুর রহমান বলেন, “আমরা আসাম প্যাটার্ন ভবনটির বিষয়ে শুনেছি। তবে যেহেতু আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করিনি তাই এখনই কিছু বলতে পারছি না।”