Published : 03 May 2023, 10:14 PM
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার একটি স্কুলের জমি অবৈধভাবে দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরির অভিযোগ ওঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে।
দাদপুর ইউনিয়নের ‘চিতারবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’র এক একর জমিতে অবৈধ স্থাপনা তৈরি বানিয়ে তারা ব্যবসা করছেন বলে অভিযোগ।
এ ব্যাপারে গত পাঁচ বছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করে কোনো সুরাহা হয়নি।
বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হীরামন পারভীনের স্বামী মো. শাকিল মোল্লা, দেবর রাজু মোল্লা, মো. আবুল খায়ের, মো. আলমগীর, কোহিনূর, ইসরাইল বিশ্বাসসহ অন্তত ৩৮ জনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে।
এ বিদ্যালয়ের অধিকাংশ জমি বাজারের মধ্যে হওয়ায় দখলদাররা স্কুলের সম্পত্তিকে নিজস্ব মালিকানা হিসেবে দাবি করে বিভিন্ন সময়ে অবৈধ স্থাপনা তৈরি করেছেন।
উপজেলার সাতৈর 'ক' ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আয়ূব আলী মোল্লা ২০১৮ সালের ১০ মে তৎকালীন ইউএনওর নির্দেশ মোতাবেক একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।
ওই প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেছেন, চিতারবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডীয় বাজিতপুর মৌজায় ৯৬ শতাংশ এবং মোবারকদিয়া মৌজায় ৪ শতাংশ জমি পরিমাপ করে ২০১৮ সালের ১৩ এপ্রিল ইউএনওর এক নির্দেশ মোতাবেক স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে বিদ্যালয়কে দখল বুঝিয়ে দিতে বলা হয়। তখন বিদ্যালয়ের পাশের জমির মালিকরা [দখলকারী] কোনো প্রকার আপত্তি জানাননি। কিন্তু এরপরও তারা দখল ছাড়েননি, বরং আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে ওই জমিতে আবার স্থাপনা নির্মাণ করেন।
বিদ্যালয়ের জমিতে মুদির দোকান তৈরি করেছেন আবুল খায়ের। তিনি বলেন, “আমি যেখানে ব্যবসা করি সেটা স্কুলের জমি। আমি ছাড়া আরও অনেকেই স্কুলের জমি দখল করে ব্যবসা করে আসছে, আমিও সেইভাবে ব্যবসা করছি।”
আরেক দখলদার কোহিনূর বলেন, “আমি সামচুল হক বিশ্বাসের কাছ থেকে সোয়া এক শতাংশ জমি ক্রয় করেছি। কিছুদিন আগে বিদ্যালয় থেকে মাপার পর দেখছি আমার অর্ধেক জায়গা বিদ্যালয়ের। বিদ্যালয় দেওয়াল তুললে আমি বিদ্যালয়ের জায়গা ছেড়ে দেব।”
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চিতারবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চলতি দায়িত্ব) রত্না রানী দে বলেন, “প্রায় ২৫/৩০ বছর আগে থেকে স্কুলের ওই জমি স্থানীয়রা অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন। বিদ্যালয়ের মোট ১২৫ শতাংশ জমির মধ্যে ২৫ শতাংশ বিদ্যালয়ের দখলে আছে।
“অবৈধ দখলকারীদের হাত থেকে স্কুলের জমি উদ্ধারের জন্য আমি চলতি মাসেই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ আট জায়গায় আবেদন করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “জায়গা উদ্ধারের ব্যাপারে বিদ্যালয়ের সভাপতি আমাকে কোনো সহযোগিতা করছেন না। এমনকি কোনো কাগজেও তিনি স্বাক্ষর করছেন না। কারণ তারাও বিদ্যালয়ের জায়গা অবৈধ দখলে রেখেছেন।”
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হীরামন পারভীন বলেন, “আমি কয়েক মাস হলো সভাপতি হয়েছি। এ জন্য বিদ্যালয়ের জমি অবৈধ দখল সম্বন্ধে ভালো বলতে পারব না। আর আমার স্বামীর বিদ্যালয়ের জমিতে কোনো স্থায়ী দোকান নেই; তবে অস্থায়ী একটি কাঁচা বাজারের দোকান আছে।”
উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু আহাদ বলেন, “ইসরাইল বিশ্বাস তার দখলে রাখা বিদ্যালয়ের এক শতাংশ জমিতে সম্প্রতি পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছিলেন। বিষয়টি ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমাকে জানালে ইউএনও স্যারকে অবহিত করি। পরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেই।”
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশারেফ হোসাইন বলেন, “প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তর আমাদেরকে জানিয়েছে, স্কুলের জমি দখল করে একাধিক ব্যক্তি দোকানঘর উত্তোলন করে ব্যবসা করছেন।
“আমরা প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, উপজেলা শিক্ষা কমিটি, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ এবং চিতারবাজার বণিক সমিতি একসঙ্গে বসব। এরপর দখলদারদের কাছে জানতে চাইব, তারা কীভাবে বিদ্যালয়ের জায়গা দখল করে দোকানঘর করেছে।”
বিষয়টি জানার পর জমিগুলো দখলমুক্ত করতে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।