Published : 13 Oct 2025, 02:44 PM
গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় সরাসরি যাত্রীবাহী ট্রেন সার্ভিস চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান।
জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি তার কার্যালয় থেকে গত ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল মহাব্যবস্থাপক বরাবর পাঠানো হয়।
জেলা প্রশাসকের ওই প্রস্তাবের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, “রেলওয়েকে চিঠি পাঠিয়েছি। পরে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের সঙ্গে কথা বলেছি।
“তিনি গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে ট্রেন চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।”
জেলা প্রশাসকের চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রশাসনিক, শিক্ষা, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও স্বাস্থ্য সেবার দিক দিয়ে গোপালগঞ্জ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। এখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ইনমাস, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, অ্যাসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড, নার্সিং কলেজ, ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিসহ অসংখ্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সম্পৃক্ত রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই গোপালগঞ্জ জেলার বাইরের মানুষ। গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সড়কপথ। দীর্ঘ ৪ থেকে ৫ ঘণ্টার এই যাত্রা সময়সাপেক্ষ, ব্যয়বহুল ও দুর্ঘটনাপ্রবণ।

চিঠিতে বলা হয়েছে, গত তিন বছরে গোপালগঞ্জে ৩৩২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেচে। এতে ২৬৬ জনের প্রাণহানি ও ৪৯২ জন আহত হয়েছেন। তাই সড়কপথ চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ।
জেলা প্রশাসক তার প্রস্তাবে লেখেন, গোপালগঞ্জ জেলার বিপুলসংখ্যক ঢাকাগামী শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর যাতায়াতের সুবিধা, ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনা এবং সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে গোবরা স্টেশন থেকে ঢাকামুখী অন্তত দুটি সরাসরি যাত্রীবাহী ট্রেন চালু করা জরুরি।
গোপালগঞ্জ শহরতলীর গোবরা রেলস্টেশন থেকে প্রতিদিন সকালে একটি ট্রেন রাজশাহীর উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ট্রেনটি রাতে আবার গোপালগঞ্জে ফিরে আসে। এই স্টেশনটি বাগেরহাটের মোল্লাহাট থেকে ৫ কিলোমিটার, নড়াইলের কালিয়া উপজেলা থেকে ১২ কিলোমিটার এবং পিরোজপুরের উজিরপুর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-বেনাপোলগামী ট্রেনগুলো গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী রেল জংশন হয়ে যাতায়াত করে। তারপরও গোপালগঞ্জসহ আশপাশের জেলার যাত্রীরা রেলসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলেও চিঠিতে লেখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হলে গোপালগঞ্জ, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও নড়াইল জেলার হাজারো মানুষ নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দে ও সাশ্রয়ী ভ্রমণের সুযোগ পাবেন বলে মনে করেন গোপালগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন।
তিনি বলেন, “এটি শুধু সময় ও অর্থ সাশয় করবে না, বরং সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে মানুষের নিরাপদ যাত্রার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
“এতে ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অনেক কর্মকাণ্ডই ত্বরান্বিত হবে।”
গোপালগঞ্জ শহরের রিকশাচালক মফিজ উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসকের উদ্যোগটিকে আমরা স্বাগত জানাই। ঢাকা-গোপালগঞ্জ ট্রেন চালু হলে ভ্রমন হবে ধূলা-বালিবিহীন ও নিরাপদ।
ইজিবাইক চালক ফরহাদ হোসেন বলছিলেন, “বাসে ৫০০’শ টাকা ভাড়া গুনতে হয়। ট্রেনে ভাড়া হবে অর্ধেক।
বড় বজারের দিন মজুর আব্দুর রহমান, মুদি দোকানি আলম মিয়া ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসকের প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে শহরে মানুষের কোলাহল বড়বে । মন্দাভাব কেটে যাবে। এতে আমরা সবাই উপকার পাবে।
তবে এ বিষয়ে জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের ব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ বলেছেন, “গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসকের পাঠানো চিঠি অফিসিয়ালি এখনও আমাদের হাতে এসে পৌঁছায়নি। তবে হোয়াটসঅ্যাপে একটি কপি পেয়েছি।
“ওই চিঠি আমাদের কাছে এসে পৌঁছানোর পর ডিভিশনাল কমিটিতে চিঠিটি পাঠানো হবে। ওই কমিটি এ ব্যাপারে সভা করবে। কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”